রেজিস্টর কি কাকে বলে এর কাজ ও কালার কোড

আজ আমরা জানবো রেজিস্টর কি কাকে বলে, কিভাবে কাজ করে ও কালার কোড সহ আরো অনেক কিছু। কারণ রেজিস্টর হলো ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে অনেক ব্যবহৃত একটা পার্টস। শুধু মাত্র ইলেকট্রনিক্স সার্কিটে ব্যবহারের জন্য না, ইলেকট্রনিক্সকে জানতে হলে আপনাকে রেজিস্টর সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে হবে। তাহলে চলুন আর কথা না বাড়িয়ে রেজিস্টর কি বিস্তারিত জেনেনি।

রেজিস্টর কি :

ইলেকট্রনিক্স সার্কিটে যে ধরণের পার্টস সব থেকে বেশি ব্যবহৃত হয় তার মধ্যে একটি হলো রেজিস্টর। রেজিস্টর এর রোধকে R দিয়ে সার্কিট ডায়াগ্রামে ব্যবহার ও প্রকাশ করা হয়ে থাকে। বিদ্যুৎ প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করাই এর প্রধান কাজ। এটা কতটুকু বাধা সৃষ্টি করবে তা নির্ভর করে রেজিস্টর এর মানের উপর। রেজিস্টরের মানের এক (Ω) ওহম। প্রতিটা রেজিস্টরের মান বোঝার জন্য এর গায়ে বিভিন্ন কালার কোড ব্যবহার করা হয়। কালার কোড সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন।

রেজিস্ট্যান্স কি :

ইলেকট্রনিক্স সার্কিটে রেজিস্টর এর বাধা সৃষ্টি করার প্রক্রিয়াকে রেজিস্ট্যান্স বলা হয়। ওহমের সূত্র অনুযায়ী V=IR. R=V/I (V=Volt, A=Ampere). অতএব, ওহমের সূত্র অনুযায়ী রেজিস্ট্যান্স এর সংজ্ঞা- ভোল্টেজ ও কারেন্টের অনুপাতকে রেজিস্ট্যান্স বলে। অর্থাৎ পরিবাহীর যে বৈশিষ্ট্যর কারণে বিদ্যুৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় উক্ত বৈশিষ্ট্যকে রেজিস্ট্যান্স বলে। রেজিস্ট্যান্স এর একক Volt/Ampere, একে ওহম (Ω) বলে।

রেজিস্ট্যান্স এর একক :

ওহমের সূত্র অনুযায়ী V=IR. R=V/I (V=Volt, A=Ampere) তাহলে রেজিস্ট্যান্স এর একক Volt / Ampere, একে ওহম (Ω) বলে। রেজিস্টরের মানের এক (Ω) ওহম।

রেজিস্টর কাকে বলে :

ইলেকট্রনিক্স সার্কিটের প্রতিটা ডিভাইসে কারেন্ট প্রবাহের সঠিক ব্যালেন্স রেখে, তার মান অনুযায়ী সার্কিটে ভোল্টেজ প্রবাহে বাধা প্রদান করাই হলো রেজিস্টরের কাজ। তাহলে এককথায় বলা যায় যে, ইলেকট্রনিক্স সার্কিটের যে কম্পোনেন্ট (যে উপাদান/যন্ত্রটি) কারেন্ট প্রবাহকে বাধা দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হয় তাকে রেজিস্টর বা রোধক বলে।

রেজিস্টার কত প্রকার :

রেজিস্টার প্রথমত দুই প্রকার যথা-

  • ফিক্সড বা একইরেট রেজিস্টর।
  • ভেরিয়েবল বা পরিবর্তনশীল রেজিস্টর।

ফিক্সড বা একইরেট রেজিস্টর :

যে রেজিস্টারের মান অপরীবর্তনীয় তাকে ফিক্সড বা একইরেট রেজিস্টর বলে। মোটকথা যে রেজিস্টরের মান তৈরির সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয় এবং যার মান পরিবর্তন করা সম্ভব নয় তাকে ফিক্সড বা অপরিবর্তনশীল রেজিস্টারের বলা হয়ে থাকে। ইলেকট্রনিক্স সার্কিটে যে রেজিস্টার এর মান পরির্বতন করা যায় না তাকে একই রেট রেজিস্টর বলে। যেমন- ক্যাপসুল কালারকোড রেজিস্টার যত ওহমসের জন্য তৈরী করা হয়, ঠিক তেমন আউটপুটের জন্য ব্যবহার করা হয়। নিচে একইরেট রেজিস্টর এর ছবি ও সংকেত দেওয়া হলো দেওয়া হলো।

ফিক্সড রেজিস্টর এর ছবি ও সংকেত

চিত্র: ফিক্সড রেজিস্টর এর ছবি ও সংকেত

বিভিন্ন ধরণের রেজিস্টর :

  • কার্বন কম্পোজিট রেজিস্টর।
  • থিক এবং ফিল্ম রেজিস্টর।
  • কার্বন পাইল রেজিস্টর।
  • প্রিন্টেড কার্বন রেজিস্টর।
  • কার্বন ফিল্ম রেজিস্টর।
  • মেটাল ফিল্ড রেজিস্টর।
  • ওয়্যার উন্ড রেজিস্টর।
  • মেটাল অক্সাইড ফিল্ড।
  • ফয়েল কোটেড রেজিস্টর।

ভেরিয়েবল বা মান-পরিবর্তনশীল রেজিস্টর :

যে রেজিস্টরের মান পরিবর্তনশীল তাকে ভেরিয়েবল রেজিস্টর বলা হয়। মোটকথা যে রেজিস্টর সার্কিটে লাগানোর পরে রেজিস্টরের মান রেগুলেটেড করে পরিবর্তন করা যায় তাকে ভেরিয়েবল বা পরিবর্তনশীল রেজিস্টর বলে। আবার যে রেজিস্টরের মান প্রয়োজন অনুসারে কমানো-বাড়ানো সম্ভব তাকে ভেরিয়েবল রেজিস্টর বা পরিবর্তনশীল রেজিস্টরও বলে। ভেরিয়েবল রেজিস্টর সম্পর্কে আরো বিস্তারিত ভাবে জানতে এখানে ক্লিক করুন।

ভেরিয়েবল রেজিস্টর এর ছবি ও সংকেত

চিত্র: ভেরিয়েবল রেজিস্টর এর ছবি ও সংকেত

কয়েক ধরনের ভেরিয়েবল রেজিস্টর :

  • এডজাস্টেবল ভেরিয়েবল রেজিস্টর।
  • পটেনশিওমিটার ভেরিয়েবল রেজিস্টর।
  • রেজিস্ট্যান্স ভেরিয়েবল ডিকেড বক্স।

এলডিআর কি (L.D.R):

লাইট ডিপেনডেন্ড রেজিস্টর কে সংক্ষেপে এলডিআর (L.D.R) বলা হয়। এটি একটি বিশেষ ধরনের রেজিস্টর। যে রেজিস্টর আলোর উপর নির্ভর করে কাজ করে তাকে লাইট ডিপেনডেন্ড রেজিস্টর বা এল.ডি.আর বলে। এই ধরনের রেজিস্টরের উপর আলো পড়লে কাজ করে অন্ধ কারে এর মান 0 হয়ে থাকে। এটাও সাধারণ রেজিস্টরের মত কাজ করে তবে এর প্রভাব আলোর উপর নির্ভর করে হয়ে থাকে। ১০ টাকা থেকে শুরু করে বাজারে বিভিন্ন দামের এলডিআর পাওয়া যায়। এলডিআর সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

রেজিস্টার এর কাজ কি :

রেজিস্টর এর কাজ হলো একটি বিদ্যুৎ প্রবাহিত শক্তিকে বাধা প্রদান করা। অর্থাৎ ইলেকট্রনিক্স সার্কিটে কারেন্ট প্রবাহে বাধা প্রধান করা বা ভোল্টেজ ড্রপ ঘটানোই রেজিস্টরের প্রধান কাজ। এককথায় ‍বিদ্যুৎতের গতি রোধ করাই রেজিস্টিরের কাজ। রেজিস্টর এর একক হলো ওহম। উদাহারণ সরুপ মনে করেন একটা সার্কিটে এলইডি লাইট আছে, যার ভোল্টেজ ১.৫ থেকে ৩ ভোল্ট। কোন কারণে যদি সার্কিটের সোর্স ভোল্টেজ ৩ ভোল্টের বেশি সাপ্লাই হয়ে যায় তখন এলইডি টি নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর এই বেশি সাপ্লাইয়ের অতিরিক্ত ভোল্টেজে বাধা প্রদান করাই রেজিস্টরের কাজ।

রেজিস্টার কি দিয়ে তৈরি :

বর্তমানে বেশির ভাগ ইলেকট্রনিক্স সার্কিটে বিভিন্ন ধরণের রেজিস্টর দেখা যায় যেগুলো  কার্বনের তৈরী হয়ে থাকে। এগুলো দেখতে অনেকটা ছোট বলে এর গায়ে কিছু লিখে মান প্রকাশ করা সম্ভব হয় না। তাই রেজিস্টর এর মান বিভিন্ন কালার কোড দ্বারা প্রকাশ করা হয়। রেজিস্টরের কালার কোড সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

রেজিস্টর তৈরীর উপাদান ও গঠন

চিত্র: রেজিস্টর তৈরীর উপাদান ও গঠন

রেজিস্টরের কালার কোড :

রেজিস্টরের কালার কোড এবং কিভাবে সহজে কালার কোড শিখতে পারেন সে নিয়ে বিস্তারিত একটা আর্টিকেল আগেই পাবলিশ করেছি। সেখান থেকে আপনি কালারের মান জানতে পারবেন এবং কালার কোড দেখে আপনি সহজেই রেজিস্টরের মান বের করতে পারবেন। রেজিস্টরের কালার কোড সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

রেজিস্টার চেনার উপায় :

রেজিস্টার চেনার উপায় গুলোর মধ্যে সব থেকে সহজ উপায় হলো রেজিস্টরের কালার কোড দেখে রেজিস্টার চেনা। ইলেকট্রনিক্স সার্কিটে বেশির ভাগ রেজিস্টর কালার কোড ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যার মাধ্যমে আপনি খুব সহজে রেজিস্টর চিনতে পারবেন। রেজিস্টার চেনার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

রেজিস্টরের মান নির্ণয় :

রেজিস্টরের মান নির্ধারণী পদ্ধতি এর সব থেকে সহজ পদ্ধতি রেজিস্টরের কালার কোড মুখস্ত করা ফেলা। কারণ ইলেকট্রনিক্স এ মুখস্ত করার মত একটাই জিনিস দেখা যায় তাহলো রেজিস্টরের কালার কোড, রেজিস্টরের মান নির্ধারণী পদ্ধতি ও কালার কোড সম্পর্কে বিস্তাতির জানতে এখানে ক্লিক করুন।

রেজিস্টার লাগানোর নিয়ম :

ইলেকট্রনিক্স সার্কিটে রেজিস্টর দুই ভাবে লাগানো হয়ে থাকে তাহলো ১. সিরিজ এবং ২. প্যারালাল। নিচের সিরিজ সংযোগ এবং প্যারালাল সংযোগ সম্পর্কে বলা হলো।

রেজিস্টার সিরিজ সংযোগ:

সিরিজ শব্দ বাংলা অর্থ হলো ধারাবাহিক ভাবে সংযোগ করা। এই ক্ষেত্রে একাধিক রেজিস্টর একটার সাথে আরেকটার পা জোড় দিয়ে করা হয়ে থাকে। সিরিজ ভাবে সংযোগ করলে রেজিস্টরের বাধার মান কমতে থাকে। ফলে কারেন্ট প্রবাহের গতি করতে থাকে। যেমন- আপনি ২২ ওহম এর দুইটা রেজিস্টর যদি সিরিজ ভাবে সংযোগ করেন তাহলে তা ১১ ওহম রেজিস্টর হয়ে যাবে।

চিত্র: রেজিস্টর সিরিজ সংযোগ

রেজিস্টার প্যারালাল সংযোগ:

প্যারালাল সংযোগ হলো দুই বা ততোধিক রেজিস্টর এক সাথে করে পা গুলো একটা রেজিস্টর হিসাবে ব্যবহার করাকে কে বোঝায়। প্যারালাল ভাবে সংযোগ করে রেজিস্টরের বাধার মান বাড়তে হয়ে থাকে যেমন- আপনি ২২ ওহম এর দুইটা রেজিস্টর প্যারালাল ভাবে সংযোগ করেন তাহলে তা ৪৪ ওহম রেজিস্টর হয়ে যাবে।

চিত্র: রেজিস্টর প্যারালাল সংযোগ

আশা করছি রেজিস্টর কি এ সম্পর্কে অনেক কিছু বুঝতে পেরেছেন। যদি কোথাও বুঝতে সমস্যা হয় তাহলে নিচে কমেন্ট করুন আর লিখাটি ভালো লাগলে লাইক এবং শেয়ার করে যারা শিখতে চাই তাদের জানিয়ে দিন। রেজিস্টর সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

DMCA.com Protection Status
error: Content is protected !!