অপারেটিং সিস্টেম কত প্রকার

অপারেটিং সিস্টেম কত প্রকার কি কি, অপারেটিং সিস্টেমের কাজ কি

আজ আমরা জানবো অপারেটিং সিস্টেম কত প্রকার ও কি কি এবং অপারেটিং সিস্টেমের কাজ সম্পর্কে বিস্তারিত। কারণ কোন ডিভাইস চলার জন্য হার্ডওয়্যারের বহিঃপ্রকাশ কার্য অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। আবার কম্পিউটারে ভাইরাস আক্রান্তু হলে কিংবা উইন্ডোজের কোন ফাইল ক্যারাপ্ট অথবা মিশিং হলে হার্ডডিস্ক বা ডিভাইসে অপারেটি সিস্টেম দিতে হয়। বাজারে অনেক রকম অপারেটিং সিস্টেম পওয়া যায়। যেমন- মোবাইলের জন্য এন্ড্রয়েড, আইওএস অপারেটিং এবং পিসির জন্য উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ইত্যাদি।

অপারেটিং সিস্টেম কত প্রকার কি কি:

কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম দুই ধরণের হয়ে থাকে। যথা– 32Bit/86bit, 64Bit যার মধ্যে রয়েছে যেমন- Windows XP, Windows Vista, Windows 7, Windows 8, Windows 10 ইত্যাদি। তবে বর্তমানের সবচেয়ে বেশি 64Bit অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। উপরে উল্লেখিত বর্তমানের সবচেয়ে বেশি ব্যহৃত অপারেটিং সিস্টেম হলো Windows 10- 64Bit, কারণ দিনে দিনে হার্ডওয্যার যেমন আপডেট হচ্ছে তেমনী তার সাথে সাথে সফট্ওয়্যারও আপডেট হচ্ছে। তাই হার্ডওয়্যারের সাথে মিল রেখে Windows 10- 64Bit অপারেটিং সিস্টেম বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে।

উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেম:

মাইক্রোসফ্ট র্কপোরেশন ১৯৮৫ সনে সর্বপ্রথম Windows প্রোগ্রাম অপারেটিং সিস্টেম হিসাবে পরিবর্তন করে। বর্তমান সময়ে Windows এর সর্বশেষ ভার্সন Windows 10। যার মধ্যে Windows 10 সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। কারণ অটোমেটিক এডভান্স, ফাস্ট ফাংশানেলেটি, হাই সিকিউরিটির কারণে নিরাপদ আপারেটিং সিস্টেম হিসাবে উইন্ডোজ ১০ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যা দুইট ভার্সনে পাওয়া য়ায় 32Bit/86bit, 64Bit।

উইন্ডোজ ৭ অপারেটিং সিস্টেম:

মাইক্রোসফ্ট র্কপোরেশন ১৯৮৫ সনে সর্বপ্রথম Windows প্রোগ্রাম অপারেটিং সিস্টেম তৈরী করার পর দ্বিতীয় বারের সেরা অপারেটিং সিস্টেম হলো উইন্ডোজ ৭। কারণ অটোমেটিক, এডভান্স, ফাস্ট ফাংশানেলেটি, হাই সিকিউরিটির কারণে নিরাপদ অপারেটিং সিস্টেম হিসাবে উইন্ডোজ ৭ এর 32Bit/86bit, 64Bit পপুলার অপারেটিং সিস্টেম হিসাবে পরিচিত বর্তমানে যার অবস্থান ২য় হিসাবে বাজারে চলছে।

উইন্ডোজ এক্সপি অপারেটিং সিস্টেম:

মাইক্রোসফ্ট র্কপোরেশন ১৯৮৫ সনে সর্বপ্রথম Windows প্রোগ্রাম অপারেটিং সিস্টেম তৈরী করার পর আপারেটিং সিস্টেম-98, সিস্টেম-200, ভিস্তা, উইন্ডোজ এক্সপি মার্কেটে ও ব্যবহার কারীদের কাছে অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো। কারণে উইন্ডোজ এক্সপি ছিলো ইউজার ফেন্ডলী অপারেটিং সিস্টেম ফাস্ট ফাংশানেলেটি হাই সিকিউরিটির কারণে নিরাপদ অপারেটিং সিস্টেম হিসাবে উইন্ডোজ এক্সপির এর 32Bit/86bit পপুলার অপারেটিং সিস্টেম হিসাবে পরিচিত। তবে উইন্ডোজ এক্সপি তিন প্রকার হয়ে থাকে। যথা-

  • উইন্ডোজ এক্সপি সার্ভিস প্যাক-১
  • Windows XP সার্ভিস প্যাক- ২
  • উইন্ডোজ এক্সপি সার্ভিস প্যাক-৩

অপারেটিং সিস্টেম এর কাজ কি:

উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের কাজ হলো কম্পিউটার বা ডিভাইসের পুরো সিস্টেম পরিচালনা করা। হতে পারে ল্যাপটপ, পিসি, ট্যাবলেট, যা কম্পিউটারের প্রধান সিস্টেম সফট্ওয়্যার। যেমন- উইন্ডোজ এক্সপি, উইন্ডোজ ৭, উইন্ডোজ ৮, উইন্ডোজ ১০ ইত্যাদি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত আপরেটিং সিস্টেম হলো উইন্ডোজ ১০ । এখন আমরা অপারেটিং সিস্টেমের কিছু কমন প্রোপ্রার্টি সম্পর্কে জানবো। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের প্রধান প্রোপার্টি গুলো হলো :

ডেস্কটপ আইকন:

আইকন শব্দের আর্থ হচ্ছে প্রতীক বা চিত্র। উইন্ডোজ চালু হওয়ার পরে স্ক্রিনে বিভিন্ন ধরণের আইকন প্রদর্শিত হয়। কোন আইকোনে ডাবল ক্লিক দিলেই তা ওপেন হয়ে যায়। উইন্ডোজ চালু হওয়ার পরে ডেস্কটপ এ সাধারণত যে প্রোপার্টি গুলো দেখা যায় তার দ্বারা আমরা কম্পিউটার পরিচালনা করে থাকি যেমন-

  • মাই ডকুমেন্ট (My Documents)
  • মাইকম্পিউটার (My Computer)
  • মাই নেটওয়ার্ক প্লেস (My network Place)
  • রিসাইকেল বিন (Recycle Bin)
  • ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার (Internet Explore)
  • মেইন স্টার্ট মেনু (Start Menu)

ইত্যাদি ডিফল্ট আইকন থাকে বলা যায়। প্রতিটা উইন্ডোজ অপরেটিং সিস্টেমের এগুলো ডিফল্ট ফাংশন। যা অপারেটিং সিস্টেমের বিশেষ অংশ হিসাবে তৈরী করা হয়েছে।

মাই ডকুমেন্ট (My Documents):

সবসময় রেগুলার ব্যবহৃত কাজ করা ফাইল গুলো মাই ডকুমেন্ট এ থাকে। মাই ডকুমেন্ট  ওপেন করলে আমরা আরো অনেক ফাইল দেখতে পাই। যেমন- Contacts, Downloads, Favorites, Music, Video ইত্যাদি। সাম্প্রতিক কাজের সকল ফাইল মাই ডকুমেন্ট এ জমা থাকে।

মাই কম্পিউটার (My Computer):

My Computer হলো কম্পিউটার অপারেটিং এর বিশেষ মেনু, যার মধ্যে সকল ড্রাইভ, মেমোরী, ফেল্ডার কন্ট্রোল প্যানেল হার্ডওয়্যার সহ আরো অনেক সংরক্ষিত Document- মাই কম্পিউটার এর মধ্যে থাকে। আমরা প্রতিটা কাজে মাই কম্পিউটার অনেক ব্যবহার  বেশি করে থাকি।

মাই নেটওয়ার্ক প্লেস (My network Place):

বর্তমানে কম্পিউটারে ইন্টারনেট ব্যবহার করা একটি গুরুত্বপূর্ণ টপিক এবং বেশি ব্যবহৃত একটি বিষয়। মাই নেটওয়ার্ক প্লেস ব্যবহার করে আমরা সকল ধরনের নেটওয়ার্কিং করতে পারি যেমন- LAN, WAN, Shareit, Bluetooth, Hostspot এর মত সকল নেটওয়াকিং কার্যক্রম মাই নেটওয়ার্ক প্লেস দ্বারা করতে পারি। এজন্য সিস্টেমের সাথে এটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

রিসাইকেল বিন (Recycle Bin):

রিসাইকেল বিন হলো কম্পিউটারের ডাস্টবিন সরুপ। এটা হচ্ছে উইন্ডোজ এর অস্থায়ী কোন ডাটা সংরক্ষণাগার। যখন কোন ফাইল মুছে ফেলি তখন কিছু সময়ের জন্য রিসাইকেল বিনে থাকে। কোন ফাইল রিসাইকেল বিন থেকে ডিলিট করে দিলে একেবারে সেই ফাইলটি সিস্টেম থেকে মুছে যায়। এজন্য কোন ফাইল মুছে বা ডিলিট হলে রিসাইকেল বিনে খুজেঁ নিতে পারেন। রিসাইকেল বিন হলো আমাদের ডিলিট ডাটার ডাস্টবিন।

ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার (Internet Explore):

ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার হলো একটি ব্রাউজার যার দ্বারা আমরা ইন্টারনেট ব্রাউজ করে থাকি। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার এ ডাবল ক্লিক দিলেই ব্রাউজারটি চালু হয়ে যায়। তখন মাই নেটওয়ার্ক প্লেস থেকে নেট সংযোগ করে আমার বিভিন্ন তথ্য দেখার জন্য ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে পারি।

মেইন স্টার্ট মেনু (Start Menu):

অপারেটিং সিস্টেমের সাথে একটি প্রধান মেনু থাকে যার নাম হলো স্টার্ট মেনু, এটা অপারেটিং সিস্টেমের নিচে থাকে। যেখান থেকে আমার অপারেটিং সিস্টেম পরিচালনা করা যায়। অপারেটিং সিস্টেমের প্রতিটা প্রোগ্রাম চালু করা, ডিলিট করা, ইনস্টল করা, সব কিছু স্টার্ট মেনুতে থাকে। একাক ধারণের অপারেটিং সিস্টেম মেনু একাক রকম হয়ে থাকে। কিন্তু ফাংশন নেম গুলো সব একই থাকে এজন্য কোন সমস্যা হয়না একটু বুঝে নিলেই হয়ে যায়।

ডুয়েল বুটিং অপারেটিং কি:

আপনার হয়ত অনেকেই জানেন না যে প্রতিটা কম্পিউটারে একসাথে দুইটা বা দুইএর অধিক উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা যায়। একসাথে দুইটা উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকে ডুয়েল বুটিং অপারেটিং সিস্টেম বলে। ডুয়েল বুটিং করার জন্য প্রথমে আপনাকে কম্পিউটারের দুইটা ড্রাইভ সিলেক্ট করতে হবে।প্রতিটা ড্রাইভে আলাদা আলাদা উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম সেটআপ দেওয়ার জন্য। মনে রাখতে হবে ড্রাইভ গুলো যেন পাশাপাশি থাকে যেমন- C, D, E এমন ভাবে নিবার্চন করা হয়। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে যেটি সবচেয়ে পুরাতন ওল্ড ভার্সন সেটি প্রথম ড্রাইভে দিতে হবে।

ডুয়েল বুটিং অপারেটিং দেওয়ার নিয়ম :

মনে করুন আপনি একই কম্পিউটারে দুইটা উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম চালাবেন তাহলে আপনাকে দুইটা অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ দিতে হবে। যেমন- উইন্ডোজ XP, উইন্ডোজ 7। তাহলে আপনাকে উইন্ডোজ-XP ‘C’ ড্রাইভে সেট-আপ দিতে হবে এবং উইন্ডোজ 7 ‘D’ ড্রাইভে সেট-আপ দিতে হবে। এভাবে আপনি একাধিক উইন্ডোজ ব্যবহার করে পারেন- যেমন- উইন্ডোজ-XP, উইন্ডোজ 7, উইন্ডোজ 10 ইত্যাদি।

দুইটা উইন্ডোজ কিভাবে চলবে :

ডুয়েল বুটিং অপারেটিং চালানের জন্য কম্পিউটার চালু করার সময় সিস্টেমের নাম আসবে তখন যেকোন একটা অপারেটিং সিস্টেম সিলেক্ট করে চালু করতে হবে। উইন্ডোজ সেট-আপ দেওয়ার একই নিয়ম। যেভাবে উইন্ডোজ-XP, উইন্ডোজ 7 সেট-আপ দিতে হয় ঠিক সেই ভাবেই ডুয়েল বুটিং অপারেটিং সেটআপ দিতে হবে। কিন্তু আলাদা আলাদা উইন্ডোজ সেট-আপ দেওয়ার সময় আলাদা আলাদা ড্রাইভ সিলেক্ট করতে হবে আর পুরাতন ভার্সনটা আগে সেট-আপ দিতে হবে। যেমন- আপনি ‘C’ ড্রাইভে উইন্ডোজ- XP সেট-আপ দিলে ‘D’ উইন্ডোজ 7 সেট-আপ দিতে হবে। এভাবে একাধিক ড্রাইভে ইচ্ছা করলে একাধিক উইন্ডোজ দিতে পারবেন। আপনাকে শুধু ড্রাইভ সিলেক্ট করতে হবে আর ভার্সনের সিরিয়াল মেইটেন্ট করতে হবে তাহলেই হবে।

উইন্ডোজ কিভাবে চালু করবেন:

যখন আপনার কম্পিউটারে প্রতিটা উইন্ডোজ অপরেটিং সিস্টেম আলাদা আলাদা ভাবে সেট-আপ দেওয়া হয়ে যাবে। পিসি কম্পিউটার রিস্টার্ট দিলে চালু হওয়ার সময় সব কয়টা সিস্টেমের নাম দেখাবে তখন যে অপারেটিং সিস্টেম চালাতে চান সেইটা সিলেক্ট করে ইন্টার দিয়ে চালু করতে হবে।

ডুয়েল বুটিং অপারেটিং সিস্টেম কত প্রকার সম্পর্কে কোন কিছু বুঝতে সমস্যা হলে নিচে কমেন্ট করুন। আমি ধারাবহিক ভাবে কম্পিউটারের প্রতিটা বিষয়ে প্রশিক্ষণ আর্টিকেল পাবলিশ করবো। তাই নিয়মিত আপনার স্কিল আপডেটের জন্য সাথে থাকুন। আর আমার লেখা গুলো যদি আপনাদের ভালো লাগে তাহলে লাইক কমেন্ট এবং শেয়ার করুন।

আরো নতুন ভিন্ন তথ্য জানুন:

2 Comments

  1. রমিহ খাতুন July 9, 2020
    • admin July 9, 2020

Leave a Reply

DMCA.com Protection Status