ক্যাপাসিটর কি কাকে বলে এর কাজ ও কত প্রকার

আজ আমরা জানবো ক্যাপাসিটর কি কাকে বলে এর কাজ কি ও কত প্রকার কি কি বিস্তারিত। ক্যাপাসিটর নিয়ে আগেই একটা সাময়িক আর্টিকেল পাবলিশ করা হয়েছে। আজকের এই আর্টিকেল আর আগের আর্টিকেল ভালোভাবে স্টাডি করেন আশা করি ক্যাপাসিটর নিয়ে আপনাদের কোন অজনা বিষয় থাকবেনা। তাহলে চলুন ক্যাপাসিটর নিয়ে আরো ভালো ভাবে জেনেনি। ক্যাপাসিটর নিয়ে আগের প্রকাশিত আর্টিকেলটা পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

ক্যাপাসিটর কি :

ক্যাপাসিটরের একক হলো ফ্যারাড, সংক্ষেপে F বা f । তবে বর্তমানে ক্যাপাসিটার মানকে কে M.F.D দ্বারা বোঝানো হয়ে থাকে। ক্যাপাসিটর তৈরী করা হয়েছে বিদ্যুৎ অপরিবাহী পদার্থের মধ্যে দুইটা ধাতব দন্ড পাশাপাশি রেখে। ক্যাপাসিটর বলতে বুঝায় ইলেকট্রনিক্সের ফিল্টার বা কারেন্ট এর ফিল্টার। ক্যাপাসিটরের মধ্যে দিয়ে কারেন্ট প্রবাহ করলে ফিল্টারে হয়ে সোজা রেখার মত কারেন্ট বের হয়। যাকে বলে ক্লিন ভোল্ট, যার কোন আপ-ডাউন থাকে না। স্বচ্ছ কারেন্ট পাওয়া যায়।

ক্যাপাসিটেন্স কি :

ইলেকট্রনিক্স সার্কিটে ক্যাপাসিটর এর কাজের পদ্ধতি হলো ক্যাপাসিটেন্স। এককথায় ক্যাপাসিটরের কার্যপ্রনালী বা কজের প্রকিৃয়াকে ক্যাপাসিটেন্স বলা হয়। মোটকথা ক্যাপাসিটরের ফিল্টারিং পদ্ধতি ক্যাপাসিটির ক্ষমতাকে ক্যাপাসিটেন্স বলতে পারেন।

ক্যাপাসিটর কাকে বলে :

দুইটি সুপরিবাহী পদার্থের অর্থাৎ কনডাক্টর-এর মাঝে যদি কোন অন্তরক অর্থাৎ ইনসুলেটর দিয়ে একটিকে অপর থেকে যখন আলাদা করে রাখা হয় তখন তাকে ধারক বা ক্যাপাসিটর বলা হয়। এবং ঐ ইনসুলেটরটিকে বলা হয় ডাই ইলেকট্রিক। মোটকথা যে ডিভাইসের মাধ্যমে কারেন্ট ফিল্টার করে সার্কিটের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভোল্টেজ প্রবাহ করা হয়ে থাকে তাকে ক্যাপাসিটর বলে।

ক্যাপাসিটর এর কাজ কি:

ইলেকট্রনিক্স ক্যাপাসিটর হলো সার্কিটে চার্জ সংরক্ষণ বা ফিল্টারিং করে থাকে। ক্যাপাসিটর কথাটির বাংলা অর্থ ধারক। কারণ ক্যাপাসিটর কারেন্টকে কিছুক্ষণ সংরক্ষণ করে বেশি শক্তিশালী করে সার্কিট রানিং করে থাকে। এর মূল কাজ সাময়িক ভাবে কারেন্ট সংরক্ষণ করা এবং ফিল্টারিং করা।

ক্যাপাসিটর কত প্রকার :

বৈশিষ্টের দিক দিয়ে ইলেকট্রনিক্স ক্যাপাসিটর তিন প্রকার যথা-

  • পোলারইড ক্যাপাসিটর।
  • নন-পোলার ক্যাপাসিটর।
  • ভেরিয়েবল ক্যাপাসিটর

পোলার ক্যাপাসিটর:  

সাধারণত ইলেকট্রলাইট ক্যাপাসিটরের পোলারিটি থাকে অর্থাৎ নেগেটিভ পজেটিভ প্রান্ত থাকে। মোটকথা যে ক্যাপাসিটরের নেগেটিভ পজেটিভ প্রান্ত থাকে তাকে পোলার ক্যাপাসিটর বলা হয়। এই ধরণের ক্যাপাসিটর কে সার্কিটে তাদের পোলারিটি অনুযায়ী লাগাতে হয়।

পোলার ক্যাপাসিটর সংকেত ও ছবি

চিত্র: পোলার ক্যাপাসিটর সংকেত ও ছবি

নন-পোলার ক্যাপাসিটর:

সাধারণত এধরণের ক্যাপাসিটরের কোন নেগেটিভ পজেটিভ প্রান্ত থাকে না। তাহলে যে ক্যাপাসিটরের নেগেটিভ পজেটিভ কোন প্রান্ত থাকে না তাকে নন-পোলার ক্যাপাসিটর বলা হয়। এগুলো সার্কিটে যেকোন ভাবে লাগানো যায়।

নন-পোলার ক্যাপাসিটর সংকেত ও ছবি

চিত্র: নন-পোলার ক্যাপাসিটর সংকেত ও ছবি

ভেরিয়েবল ক্যাপাসিটর:

সাধারণত এধারনের ক্যাপাসিটরের মান তার রেঞ্জ অনুয়ায়ী পরিবর্তন করা যায়। তাহলে যে ক্যাপাসিটরের মান পরিবর্তন করা যায় বা পরিবর্তনশীল তাকে ভেরিয়েবল ক্যাপাসিটর বলে। এগুলো সার্কিটের বিভিন্ন মান পরিবর্তন করার জন্য ব্যবহার করা হয়।

ভেরিয়েবল ক্যাপাসিটর সংকেত ও ছবি

চিত্র: ভেরিয়েবল ক্যাপাসিটর সংকেত ও ছবি

ক্যাপাসিটরের মান তিন ভাবে প্রকাশ করা হয় যথা-

  • মাইক্রোফ্যারাড ক্যাপাসিটর।
  • পিকো ফ্যারাড ক্যাপাসিটর।
  • ন্যানো ফ্যারাড ক্যাপাসিটর।

বিভিন্ন ধরণের ক্যাপাসিটর :

  • মাইকা ক্যাপাসিটর।
  • সিরামিক ক্যাপাসিটর।
  • অয়েল ফিল্ড ক্যাপাসিটর।
  • ইলেকট্রলাইট ক্যাপাসিটর।
  • পলিস্টর ক্যাপসিটর।
  • মাইলর ক্যাপাসিটর।

ক্যাপাসিটর এর ব্যবহার :

আপনারা হয়ত জানেন যে এসি কারেন্ট ঢেউ এর মত প্রবাহ হয়। আর ডিসি করেন্ট সোজা রেখার মত প্রবাহিত হয়। হয়ত অনেকেই জানেন না যে ডিসি কারেন্টেও হালকা ঢেউয়ের মত প্রবাহিত হয় আর এই ঢেউকে সোজা করার জন্য ক্যাপাসিটর কাজ করে। বর্তমানে ইলেকট্রনিক্স এবং ইলেকট্রিক সার্কিটে বিভিন্ন ধরণের ক্যাপাসিটর ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও ইলকট্রিক মটর, ফ্যান, ইত্যাদি বিভিন্ন যন্ত্রের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ক্যাপাসিটর ব্যবহার করা হয়।

ক্যাপাসিটর সংযোগ পদ্ধতি :

ইলেকট্রলাইট ক্যাপাসিটর ছাড়া কোন ক্যাপাসিটরের পোলারিটি থাকে না। অর্থাৎ এগুলোর মধ্যে কোন নেগেটিভ পজেটিভ পিন থাকে না। সার্কিটের সাথে যেকোন দিকে যোকোন পিন যুক্ত করা যায়। তার এই ক্যাপাসিটর গুলোকে ব্যবহারের সময় অবশ্যই সঠিক পোলারিটি অনুয়ায়ী ব্যাবহার করা উচিৎ। ইলেকট্রলাইট ক্যাপাসিটর এবং সাধারণ ক্যাপাসিটরের সংকেত এবং ছবি উপরে দেওয়া হয়েছে যেগুলো ভালো ভাবে দেখে বোঝার চেষ্টা করুন।

ক্যাপাসিটর কেন ব্যবহার করা হয় :

আপনি সব ধরণের ক্যাপাসিটর ভেঙ্গে দেখবেন তার গঠন প্রনালী বিস্তারিত ভাবে। কারণ জানতে হলে সরাসরি- পর্যাবেক্ষন করে দেখতে হবে। ইলেক্ট্রলাইটিক ক্যাপাসিটর ভাঙ্গলে দেখবেন দুইটা ধতবের সাথে পাতলা তুলার মত ভেজা কাগজ জড়ানো আছে। যার মাধ্যমে চার্জ সংগ্রহ করে ভোল্টেজ ফিল্টারিং এর কাজ করে হয়। বেশির ভাগ ক্যাপাসিটর নষ্ট হলে ফেটে যায়। ক্যাপাসিটর সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

ক্যাপাসিটর পরীক্ষার নিয়ম :

ক্যাপাসিটর অ্যাভোমিটারের মাধ্যমে খুব সহজেই পরিক্ষা করা যায়। আর রানিং সার্কিটে ক্যাপাসিটর ভালো কি খারাপ তা দেখলে অনেক সময় সহজে বোঝা যায়। যেমন- ক্যাপাসিটর ফাঁটা থাকে, উপরে ফুলে উঠে ইত্যাদি। ইলেক্ট্রলাইটিক ক্যাপাসিটর ওহম মিটারের পজেটিভ প্রান্তে ক্যাপাসিটরের পজেটিভ ধরলে চার্জ হয়ে মিটারের কাটা বেড়ে যাবে আবার আসতে আসতে কমতে শুরু করলে বুঝবেন ক্যাপাসিটর ভালো এভাবে উলট পালট করে দেখবেন।

যদি ফুল রিডিং দিয়ে থেকে যায় তাহলে নষ্ট, অথবা কোন রিডিং না দিলেও নষ্ট বলে বিবেচিত হবে। এটা পরিক্ষা নিয়ে আমি একটা ভিডিও তৈরী করবো আমার সাথে থাকুন আশা করছি আমি আপনাদের ইলেক্ট্রনিক্স নিয়ে অনেক কিছু ধারাবাহিক ভাবে জানাতে থাকবো। ক্যাপাসিটর নিয়ে কোন কিছু বুঝতে সমস্যা হলে কমেন্ট করুন। আর লিখাটি ভালো লাগলে লাইক এবং শেয়ার করুন।

Leave a Reply

DMCA.com Protection Status
error: Content is protected !!