এডাপ্টার কি কাকে বলে

এডাপ্টার কি কাকে বলে এর কাজ কি কত প্রকার

আজ আমরা জানবো এডাপ্টার কি কাকে বলে এর কাজ কি এবং কত প্রকার কি কি। কারণ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স এর কাজের ক্ষেত্রে এডাপ্টার বিভিন্ন এর নাম শুনে থাকি কিন্তু অনেকেই এডাপ্টার বলতে শুধু পাওয়ার সাপ্লাই বুঝে থাকি। কিন্তু এডাপ্টার বলতে শুধু পাওয়ার এডাপ্টার কে বোঝায় না, যেকোন কনর্ভাটার ডিভাইস কে এডাপ্টার বলা যায়। এডাপ্টার বলতে পাওয়ার সাপ্লাই, ওয়াইফাই, চার্জার, নেটওয়ার্ক, ব্লুতথ কানেক্টর ইত্যাদি বিভিন্ন ডিভাইসকে বোঝায়। তাহলে চলুন সংক্ষেপে এডাপ্টার কি কাকে বলে এর কাজ কি জেনেনি।

এডাপ্টার কি :

ইলেকট্রনিক্স এডাপ্টার হলো সকল কনর্ভাটার ডিভাইসকে বলা যায় যা অনেক রকম হয়ে থাকে। যেমন- এডপ্টার দ্বারা এসি কারেন্ট কে ডিসি করেন্ট করা হয়, লো ভোল্টেজ কে হইভোল্টেজ, হাই ভোল্টেজকে লো ভোল্টেজ, নেটওয়ার্কং, ওয়াইফাই, ব্লুতথ শেয়ার ইত্যাদি বিভিন্ন ডিভাইসে রুপান্তার। আবার যেকোন সকেটকে কনভার্ট করে অন্য সকেটে রুপান্তরিত করার ‍ডিভাইসকে এডাপ্টার বলা যায় নিচের চিত্র গুলো দেখলে আশা করছি পরিস্কার বুঝতে পারবেন।

এডাপ্টার কাকে বলে :

কনর্ভাটেবল যেকোন ডিভাইসকে এডাপ্টার বলা যায়। যেমন- এসি কারেন্ট থেকে নির্দিষ্ট একটা ভোল্টেজে আউটপুট ডিসি দেওয়াকে এডাপ্টপটিং বা এডাপ্টার বলে। আর এই এডাপটিং করার জন্য যে যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাকে এডাপ্টার বলে।

ডিসি রেগুলেটেড পাওয়ার সাপ্লাই

ডিসি ডিডিটাল পাওয়ার সাপ্লাই

এডাপ্টার কত প্রকার কি কি :

প্রকারভোদ করতে গেলে এডাপ্টার কে  প্রথমত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেগুলো থেকে আবার বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। সুতরাং আজ আমরা সব এডাপ্টার সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো, আমি আপনাদের বিস্তারিত বোঝানোর জন্য এডাপ্টারকে কয়েক ভাগে ভাগ করে দেখাবো। যেমন- এডাপ্টার কে প্রথমত দুই ভাগে ভাগ করতে পারি তারপর বিভিন্ন ভাবে ভাগ করা যায় উদাহারণ সরুপ যথা-

১. পাওয়ার এডাপ্টার :

  • এসি-ডিসি এডাপ্টার
  • রেগুলেটর এডাপ্টার
  • কানেক্টর এডাপ্টার
  • ভোল্টেজ এডাপ্টার
  • কনর্ভাটার এডাপ্টার
এডাপ্টার কি কাকে বলে

চিত্র : পাওয়ার এডাপ্টার

২. নেটওর্য়াকিং এডাপ্টার :

  • ওয়াইফাই এডাপ্টার
  • ব্লতুথ শেয়ার এডাপ্টার
  • শেয়ারইট এডাপ্টার
  • ডিভাইস এডাপ্টার
  • ইন্টারনেট এডাপ্টার
এডাপ্টার কি কাকে বলে

চিত্র : নেটওর্য়াকিং এডাপ্টার

এডাপ্টার এর কাজ কি :

যেকোন কোন তড়িৎ বা নেটওর্য়াকিং সিগন্যালকে এক রুপ থেকে অন্য রুপে বা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বা এক গতি থেকে অন্য গতিতে ড্রপ বা শেয়ার করার ডিভাইসকে এডাপ্টার বলা যায়। হতে পারে সেটা পাওয়ার এডাপ্টার বা নেটওর্য়াকিং এডাপ্টার। যেমন- পাওয়ার এডাপ্টারে ভোল্টেজ ড্রপ করে লো পাওয়ার দিয়ে থাকে, এসি থেকে ডিসি করে, না হয় ডিসি থেকে এসিতে ড্রপ করে। আর নেটওর্য়াকিং এডাপ্টার এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে ডেটা এডাপ্ট বা ট্রান্সমিট করে সংযোগ স্থাপন বা শেয়ার করে।

নেটওয়ার্ক এডাপ্টার কি :

যে এডাপ্টারের মাধ্যমে নেটওয়ার্কিং করা হয় বা ডেটা ট্রান্সমিট করা হয় তাকে নেটওয়ার্ক এডাপ্টার বলে। নেটওয়ার্কং এডাপ্টার গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: ওয়াইফাই, ব্লটুথ শেয়ারইট ওয়্যারলেস ইত্যাদি। বড় ডিভাইসকে কনভার্ট করে ছোট একটা ডিভাইসে রুপান্তরিত করে যেকোন ডিভাইসের সাথে সংযোগ করার যন্ত্রকে নেটওয়ার্ক এডাপ্টার বলা যায়। ওয়াইফাই, ব্লটুথ, শেয়ারইট ওয়্যারলেস ডিভাইস কে নেটওয়ার্ক এডাপ্টার বলা যায়।

এডাপ্টার এর দাম কত :

বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন এডাপ্টার পাওয়া যাবে, যদি পাওয়ার এডাপ্টার ক্রয় করতে চান তাহলে ৪৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২৫০০ টাকায় হাজারো ব্রান্ডের হাজারো কোয়ালিটির পাওয়ার এডাপ্টার পেয়ে যাবেন। তবে কেনার আগে অবশ্যই মনে রাখতে হবে ডিভাইস অনুযায়ী একইরেট আউটপুটের এডাপ্টার ক্রয় করতে হবে। যেমন- আউটপুট ভোল্টেজ ও অ্যাম্পিয়ার দেখে কেনা, নতুবা আপনি সমস্যায় পড়ে যাবেন।

আর যদি নেটওয়ার্ক এডাপ্টার কিনতে চান যেমন- ব্লুতথ, শেয়ারইট, ওয়াইফাই। তাহলে ১০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে বিভিন্ন মডেলের, বিভিন্ন রেঞ্জের, নেটওয়ার্কং এডাপ্টার পারেন। তবে কোনার আগে অবশ্যেই আপনার প্রয়োজনী রেঞ্জ ক্ষমতা জেনে কিনতে হবে। নতুবা আপনি সমস্যায় পড়ে যাবেন। এডাপ্টার কি কাকে বলে আরো জানুন।

এডাপ্টার কিভাবে তৈরী করে :

ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস বা সার্কিট চালানোর জন্য যে এডাপ্টার ব্যবহার করা হয় তা আগে তৈরী করা হতো ট্রান্সফরমার, ডায়োড, ক্যাপাসিটর রেগুলেটর আইসি এবং ভেরিয়েবল রেজিস্টর ব্যবহার করে। যেটা বর্তমানের আধুনিক এস.এম.পি.এস পাওয়ার এডাপ্টারের তুলনায় অনেক খারাপ সার্ভিস দিতো। এখন প্রায় সব এডাপ্টার তৈরী করা হয় এম.এম.পি.এস পাওয়ার বা সুইচিং মোড পাওয়ার সাপ্লাই ব্যবহার করে। যা অনেক নিরাপদ পাওয়ার সাপ্লাই।

এম.এম.পি.এস পাওয়ার সাপ্লাই নিরাপদ বলার কারণ হলো- যদি কোন কারণে পাওয়ারের সমস্যা হয়, তাহলে সার্কিটে কোন ভোল্টেজ পাস হয় না সার্কিট নিরাপদ থাকে। এমন কি পাওয়ার সাপ্লাই নষ্ট হলেও কোন ভোল্টেজ বা হাই ভোল্টেজ সার্কিটে যেতে পারেনা। কিন্তু আগের র্ফমূলায় তৈরী এডাপ্টার অনেক বেশি টেকশই এবং ভারি হয়ে থাকে অপর পক্ষে এস.এম.পি.এস পাওয়ার সাপ্লাই অতবেশি টেকশই নয় এবং ওজনে অনেক হালকা হয়ে থাকে।

এডাপ্টার তৈরীর নিয়ম জানুন

নিয়মিত শিক্ষণীয় পোস্ট গুলোর বিষয় যদি আপনাদের ভালো লাগে তাহলে লাইক কমেন্ট এবং শেয়ার করুন। আপনাদের মধ্যে যদি কারো মনে হয় আমার লেখার মধ্যে কোন ভূল আছে তাহলে নিচে কমেন্ট করে জানিয়ে দিন। আমরা জানি ভূলের উর্ধে কেউ না সুতরাং ভূল হতে হতেই পারে। নিচে কমেন্ট করলে সংশোধন করতে আমার অনেক সোজা হয়ে যাবে।

Leave a Reply

DMCA.com Protection Status
error: Content is protected !!