ভোল্টেজ সমস্যার সমাধান | ভোল্টেজের কারণে সমস্যা

ভোল্টেজ সমস্যা আমাদের নিত্যদিনের সহযোগী হিসাবে ইলেকট্রিক-ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জামকে যেভাবে দিনের পর দিন ব্যবহার করে চলেছি তার শেষ কোথায় কারো হয়ত জানা নেই। ইলেকট্রিক এবং ইলেকট্রনিক্স  গ্যাজেটের ব্যবহার দিনে দিনে বাড়ছে আর বাড়তেই থাকবে।

এসব ইলেকট্রিক-ইলেকট্রনিক্স গ্যাজেট সব চলে কারেন্টের সাহায্যে। যদি কোনদিন বাসায় কারেন্ট না থাকে তাহলে যারা কারেন্ট ব্যবহার করেন তারা নিশ্চয় জানেন কত সমস্যায় পড়তে হয়। আর যদি আমাদের অজানা কিছু কারেন্টের সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে তো এসব ইলেকট্রিক-  ইলেকট্রনিক্স গ্যাজেটের নানা সমস্যা হয়ে যায়।

কারেন্টের ভোল্টেজ সমস্যার জন্য আজ আমি আপনাদের কিছু টিপস্ দিবো যেগুলো আপনারা বাস্তবে কাজে লাগাতে এবং কারেন্ট সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পাবেন। কারেন্ট আমাদের নিত্যদিনের প্রতিটা গ্যাজেটে ব্যবহার করে থাকি ফলে কারেন্টের কোন সমস্যা হলে মনে করি আমাদের সেই সব গ্যাজেটের সমস্যা হয়েছে। এসব বিদ্যুৎ জনিত কারণে সৃষ্ট ইলেকট্রিক-  ইলেকট্রনিক্স সমস্যা সমূহের সঠিক সমাধান জানা থাকলে হয়ত আপনাদের গ্যাজেটটি রক্ষা করতে পারবেন।

ভোল্টেজের কারণে ইলেকট্রিক-ইলেকট্রনিক্স সমস্যা:

কারেন্টের ভোল্টেজের কারণে যেসব ইলেকট্রিক-ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জামের সমস্যা তৈরী হয় সেসব সমস্যা থেকে বাঁচার উপায় ও ভোল্টেজ সমস্যা বোঝার উপায় সমূহ:

কম্পিউটারের সমস্যা:

হঠাৎ কম্পিউটার বন্ধ হয়ে আবার চালু হয়ে যায়। ভোল্টেজের কারণে বেশির ভাগ সময় এমন সমস্যা হয়ে থাকে। আর মাঝে মধ্যেই এমন সমস্যা হয়ে থাকে তখন আমরা মনে করি আমাদের কম্পিউটারের সমস্যা হয়েছে। কিন্তু আসলে বেশির ভাগ সময় দেখা যায় কারেন্টের ভোল্টেজ আপ-ডাউন করলে কম্পিউটার বন্ধ হয়ে চালু হয়। এমন হলে সাথে সাথে কম্পিউটার বন্ধ করে লাইনের কারেন্ট ভোল্টেজ আগে পরিক্ষা করে নিতে হবে।   

রেফ্রিজারেটর-ফ্রিজের সমস্যা:

কারেন্টের ভোল্টেজের কারণে ফ্রিজের অনেক সমস্যা হয়ে থাকে। তার মধ্যে হলো ফ্রিজ অন হয়না, অন হয় আবার চালু হয়। মাঝে মাঝে কম্পোসরের রিলে ও মোটর বাইন্ডিং জ্বলে যায়। এজন্য প্রতিটা ফ্রিজের সাথে ভোল্টেজ স্টাবিলাইজর ব্যবহারের কথা বলা হয়। কারণ ফ্রিজ দিন-রাত সব সময় টানা চলতে থাকে। ফলে কারেন্টের ভোল্টেজ আপ-ডউন করলে ফ্রিজের সমস্যা বেশি হয়।

পানিতোলা পাম্পের (মোটরের) সমস্যা:

বেশির ভাগ সময় কারেন্ট ভোল্টেজ ঠিক না থাকার কারণে মোটরে পানি উঠতে অনেক দেরি হয়। আবার অনেক সময় মোটর অন করলেও পানি ওঠেনা। এমন সমস্যার দুইটা কারণে হয়ে থাকে

  •  মোটরে লাগানো ক্যাপাসিটরের মান কমে গেলে।
  •  কারেন্টের ভোল্টেজ ডাউন হয়ে গেলে।

যদি কারেন্টের ভোল্টেজ ঠিক থাকার পরেও পানি না ওঠে তাহলে ক্যাপাসিটর পরিবর্তন করলে মটরে পানি ওঠা শুরু করবে।

হাই স্পিকার বক্সের সমস্যা:

কারেন্টের ভোল্টেজ যদি কমে যায় তাহলে বড় সাউন্ড বক্সগুলোতে আওয়াজ কেমন যেন মোটা মোটা ঘেড়-ঘেড়ে হয়ে আসে। কারণ তখন সাউন্ড বক্সের ভেতরে থাকা স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমারে আউটপুট ভোল্টেজ ও অ্যাম্পিয়ার কমতে থাকে। যদি সাউন্ড বক্সের গান বাজঁতে বাজঁতে এমন হয় তাহলে আপনাকে আগে লাইনের এসি ভোল্টেজ পরিক্ষা করে নিতে হবে।

বড় সিআরটি টিভির সমস্যা:

আগেকার মডেলের সিআরটি টিভি বর্তমানে অনেকের বাড়িতে আছে, যেগুলোতে কারেন্ট অনেক টানে অথার্ৎ এসব সি আরটি টিভি কারেন্ট খরচের রাজা এজন্য একটু লো-ভোল্ট হলেই টিভির নানা সমস্যা দেখা দেয়। তখন আমরা মনে করে থাকি টিভির কোন সমস্যা হয়েছে। আবার ভোল্টেজ ঠিক হয়ে গেলে তখন টিভি ঠিক চলে। ভোল্টেজের সমস্যা হলে সিআরটি টিভির যে সমস্যা হতে পারে তাহলো-

  • চলতে চলতে পিকচার টিউবের আলো কমে যায়।
  • শব্দ খারাপ হয়ে যায় নয়েজ বেড়ে যায়।
  • ভিডিওতে কিছু সমস্যা হয়।
  • টিভি বন্ধ হয়ে আবার চালু হয়।
  • ইত্যাদি সমস্যা দেখা যায়।

টিভিতে এমন সমস্যা দেখা দিলে লাইনের ভোল্টেজ পরিক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে। কারেন্টের সমস্যা আছে কি-না অ্যাভোমিটার দিয়ে পরিক্ষা করে নিতে হবে। অথবা টিভির সুইচবোর্ডে একটা ছোট ভোল্টামিটার লাগিয়ে নিতে হবে তাহলে সব সময় ভোল্টেজ দেখা যাবে।

কিভাবে বুঝবেন আপনার কারেন্টের সমস্যা:

আমাদের প্রতিটা ইলেকট্রিক এবং ইলেকট্রনিক্স গ্যাজেট চলে এসি কারেন্টে আর এসি কারেন্টে ২২০-২৫০ ভোল্টেজের ৫০-৬০ হার্জ সম্পন্ন হয়। সুতরাং সব সময় ভোল্টেজ দেখার একটাই উপায় সেটা হলো ভোল্টামিটর। আপনার বাড়িতে যদি মেইন লাইনে অথবা প্রতি রুমে একটা করে ভেল্টামিটার লাগিয়ে নেন তাহলে খুব সহজে কারেন্টের ভোল্টেজ জনিত সব সমস্যা  সহজে বুঝতে পারবেন।

বাজারে ভোল্টামিটারের দাম মেটেও বেশি না ৩০-৫০ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন সামান্য একটা ইলেকট্রিক সুইজের দামের মত দাম নিবে। আমার কাছে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ এতদামে যদি সুইচ লাগাতে পারেন তাহলে একটা করে ভোল্টামিটার লাগাতে পারবেন না কোন? বাড়িতে একটা ভোল্টামিটার থাকলে সহজে কারেন্টের ভোল্টেজের গতি বোঝা য়ায়।

চিত্র: কারেন্টের ভোল্টামিটার

Voltage Problems Solutions

অথবা যখন ইলেকট্রিক-ইলেকট্রনিক্স গ্যাজেটের সমস্যা হবে তখন এভোমিটাররে সাহায্য বাড়ির এসি কারেন্ট ভোল্ট পরিক্ষা করে দেখতে হবে। ২২০ ভোল্ট এবং ৩-৫ অ্যাম্পিয়ার আছে কি-না। যদি দেখেন ভোল্টেজ ২২০ এবং অ্যাম্পিয়ার ৩-৫ এর মধ্যে আছে, তাহলে আপনার বাড়ির এসি কারেন্ট একদম ঠিক মনে করতে হবে। আর যদি ভোল্টেজ কম বেশি হয় তাহলে সমস্যা হবে ভোল্টেজ ২৫০ এর উপর গেলে সব ইলেকট্রিক এবং ইলেকট্রনিক্স পুড়ে যাবে আর ২২০ এর নিচে আসলে ইলেকট্রিক এবং ইলেকট্রনিক্স গ্যাজেটের বিভিন্ন সমস্যা হবে।

তবে সাধারণত ভোল্টেজ বেশি হয়না ভোল্টেজ কম হয়। মাঝে মধ্যে হাই-ভোল্টেজ চলে আসে এজন্য অনেক ইলেকট্রিক-ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে যায়। ভোল্টেজ সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে হলে ভোল্টেজ স্টাবিলাইজারের ব্যবহার করতে হবে অথবা ভেল্টেজ কম-বেশি ধারণ ক্ষমতা যুক্ত ইলেকট্রিক-ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হবে এটাই একমাত্র সমাধান। প্রতিটা ইলেকট্রিক-ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জামের পেছনের স্টিকার ভালোভাবে দেখলেই পাবেন আপ-ডাউন ধারণ ক্ষমতা লিখা আছে যেমন- ১৯০-২৬০ হতে পারে।

চিত্র: ভোল্টেজ স্টাবিলাইজার

Voltage stabilizer

বর্তমানের ইলেকট্রিক-ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জাম

বর্তমানে বেশির ভাগ ইলেকট্রিক-ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জামের পাওয়ার এসএমপিএস অটোমোডের করে তৈরী করা হয়। এজন্য ভোল্টেজ আপ-ডাউন করলে কোন সমস্যা হয়না। তবে ইলেকট্রিক-ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জাম কেনার আগে ভোল্টেজ সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো। কারণ আপনার বাড়ির ভোল্টেজ যদি ঠিক না থাকে তাহলে আপনার ইলেকট্রিক-ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জামটি কেনার পর সমস্যা হতে পারে।

যেমন আমি মোবাইল সার্ভিসিং করার জন্য একটা হটগান কিনেছিলাম তারপর বাড়িতে নিয়ে আসার পর পাওয়ার দিয়ে দেখছি ঠিকমত চলছেনা। তখন আমার মাথায় অনেক টেনশন কাজ করছিলো। দুইদিন তিন দিন ভোল্টেজ সমস্যা না বোঝার কারণে আমাকে অনেক হয়রানি হতে হয়েছে। দিয়ে ভোল্টেজ পরিক্ষা করে দেখছি কারেন্টের ভোল্টেজ ঠিক নেই। তারপর বিদ্যুতের তার পরিবর্তন করার পরে এসমস্যার সমাধান হয়েছে।

কারেন্টে পোলের সমস্যার কারণে ভোল্টেজ সমস্যা:

বেশির ভাগ সময় পোলের তারের কারণে ভোল্টেজ সমস্যা হয়। যেমন আপনার বাড়ির লাইনের তার অনেক দুর থেকে নেওয়া  হয়েছে এজন্য আপনার বাড়ি পর্যন্ত কারেন্ট আসতে আসতে ভোল্টেজ কমে আসে তাই সব সময় ভালো গেজের তামার তার মেইন লাইনে লাগানো উচিৎ। তবে অনেক সময় পোলের কানেকশন আয়রণ পুড়ে লুজ হয়ে যায়,পুড়ে যায় এজন্য ভোল্টেজ সমস্যার সৃষ্টি হয়।

ভোল্টেজ সমস্যা থেকে বাঁচার উপায়:

উপরোক্ত বিষয়গুলো নিয়মিত ফলো করলে ভোল্টেজ সমস্যা থেকে বাঁচা যাবে। তার মধ্যে বিশেষ কিছু কাজ নিয়মিত ভাবে পরিক্ষা করতে হবে যেমন-

  • মেইন লাইনে একটা ভোল্টমিটার লাগিয়ে নিতে হবে।
  • ইলেকট্রিক-ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জামের সমস্যা হলে কারেন্টে ভোল্টেজ পরিক্ষা করতে হবে।
  • কারেন্ট আপ-ডাউন করলে পোলের কানেকশন লাইন নতুন ভাবে করতে হবে।
  • কম্পিউটার ফ্রিজ সহ সেনসিটিভ ইলেকট্রিক-ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জামে স্টাবিলাইজর ব্যবহার করতে হবে।
  • বিকেল ৫টা-হতে রাত ১১টা পর্যন্ত সব থেকে বেশি ভোল্টেজ সমস্যা হয়। সম্ভব হলে এসময় সেনসিটিভ ইলেকট্রিক-ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জামে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা থেকে দূরে থাকতে হবে। যদি সব সময় ব্যবহার করেন তাহলে ভোল্টেজ স্টাবিলাইজর ব্যবহার করতে হবে।
  • যদি সব কিছু ঠিক থাকার পরেও ভোল্টেজ সমস্যা ঠিক না হয় তাহলে আপনাকে   ভোল্টেজ স্টাবিলাইজার ব্যবহার করতে হবে।

ভোল্টেজ সমস্যার সমাধান:

  • নিয়মিত ভোল্টেজ পরিক্ষা করতে হবে।
  • পোলের তার নিয়মিত দেখতে হবে পুড়েছে কি-না।
  • মেইন লাইনে ভালোমানের তার ব্যবহার করতে হবে।
  • বিদ্যুৎতের লাইন অনেক দূর থেকে নিয়ে ব্যবহার করলে সমস্যা হবে।
  • কারেন্টের আর্তিং লাইন ব্যবহার করতে হবে।
  • ভোল্টামিটার ব্যাবহার করতে হবে।
  • নিয়মিত ভোল্টেজ পরিক্ষা করতে হবে।
  • বাড়িতে ভালো গেজের তার ব্যবহার করতে হবে।3/20-3/22 মানের।
  • শেষমেশ সম্ভব হলে ভোল্টেজ স্টাবিলাইজর ব্যবহার করতে হবে।

ভোল্টেজ সম্পর্কে আরো কিছু জানার থাকলে আমাকে কমেন্ট করুন। আর টেকনোলজি সম্পর্কে জানতে প্রতিটা ক্যাটাগরি দেখুন তাহলে সকল সমস্যার সমাধান পেয়ে যাবেন। কারেন্ট সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

2 Comments

  1. Mahbubur July 16, 2019
    • eMakerBD July 17, 2019

Leave a Reply

DMCA.com Protection Status
error: Content is protected !!