ইউনি জাংশন ট্রানজিস্টর কি

ইউনি জাংশন ট্রানজিস্টর কি কাকে বলে এর কাজ

আজ আমরা জানবো ইউনি জাংশন ট্রানজিস্টর কি কাকে বলে এর কাজ কি। কারণ এটাও এক ধরণের উন্নত ইলেকট্রনিক্স ট্রানজিস্টার। ট্রানজিস্টর সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা নিতে হলে সব ধারণের ট্রানজিস্টর এর গঠন কার্যপ্রনালী ও ব্যবহার সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। তাই আজ আমরা জানবো ইউনি জাংশন ট্রানজিস্টর নিয়ে বিস্তারিত। তাহলে চলুন জেনেনি ইউনি জাংশন ট্রানজিস্টর কি কাকে বলে এবং এর কাজ কি।

ইউনি জাংশন ট্রানজিস্টর কি:

ইউনিজাংশন ট্রানজিস্টর হলো সাধারণ ট্রানজিস্টর এর এন-টাইপ সেমিকন্ডাক্টর দন্ডের এক পাশে সামান্য পরিমাণ পি-টাইপ সেমিকন্ডাক্টর ঢুকিয়ে পি-এন জাংশন সৃষ্টি করা হয়। পি-টাইপ থেকে যে র্টামিনাল বের হয় তাকে ইমিটর বলে। দন্ডের উপরের প্রান্ত থেকে যে টার্মিনালটি বের হয় বেস-২, এবং দন্ডের নীচের দিক থেকে যে টার্মিনালটি বের হয় বেস-১, তাহলো এ থেকে আমরা বোঝা যায় ইউনি জাংশন ট্রানজিস্টরেরও তিনটা টার্মিনাল আছে, যথা- ইমিটার, বেস-২, বেস-১,  নিচের ছবির সাহায্যে ইউনি জাংশন ট্রানজিস্টর এর গঠন ও সার্কিট সংকেত দেখানো হয়েছে।

ইউনি জাংশন ট্রানজিস্টর এর গঠন

চিত্র: ইউনি জাংশন ট্রানজিস্টর এর গঠন

ইউনি জাংশন ট্রানজিস্টর কাকে বলে:

ইউনিজাংশন ট্রানজিস্টরকে সংক্ষেপে UJT বলা হয়। ইউনি অর্থ একক আর জাংশন অর্থ সংযোগ, অর্থাৎ ইউনিজাংশন ট্রানজিস্টার হলো যে ট্রানজিস্টরে একটি মাত্র জাংশন আছে। ইউনিজাংশন ট্রানজিস্টর একটি তিন টার্মিনাল বিশিষ্ট সেমিকন্ডাক্টর সুইচিং ডিভাইস। একটি পি-টাইপ এবং একটি এন-টাইপ সেমিকন্ডাক্টর কে নিয়ে কেবল একটি পি-এন জাংশন তৈরি করা হয় বলে একে ইউনি জাংশন ট্রানজিস্টর বলে। যখন ইউনিজাংশন ট্রানজিস্টারকে ট্রিগার করা হয় তখন এর ইমিটারে কারেন্ট খুব দ্রুত ভাবে বাড়তে থাকে, তখন ইউনিজাংশন ট্রানজিস্টার কে শুধুমাত্র ইমিটার সাপ্লাই দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এ বৈশিষ্ট্য এর জন্য ইউনিজাংশন ট্রানজিস্টার কে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়।

ইউনি জাংশন ট্রানজিস্টর সার্কিট সংকেত

চিত্র: ইউনি জাংশন ট্রানজিস্টর সংকেত

ইউনি জাংশন ট্রানজিস্টরের গঠন:

ইউনিজাংশন ট্রানজিস্টর এর একটি এন-টাইপ সিলিকন বার আর দুই মাথায় দুটি টার্মিনাল থাকে যার একটি বেস-১ এবং অন্যটিকে বেস-২ বলা হয়। এন-টাইপ বারের মধ্যে বেস-১ এর তুলনায় বেস-২ এর কাছে পি-টাইপ মেটারিয়াল ডোপিং করে পি-এন জাংশন তৈরি করা হয়। এই পি-টাইপ মেটারিয়াল থেকে একটি টার্মিনাল বের করা হয়, একে ইমিটার বলা হয়। পি-এন জাংশন বিশিষ্ট ডায়োড এর দুটি বেস টার্মিনাল থাকায় ইউনি জাংশন ট্রানজিস্টর কে অনেক সময় ডাবল বেস ডায়োড ও বলা হয়। এখানে পি-এন জাংশনটি বেস-১ টার্মিনালের নিকটবর্তী হওয়ার ফলে ইমিটার বেস-১ এর রেজিস্ট্যান্স ইমিটার বেস-২ এর রেজিস্ট্যান্সের তুলনায় কম হয়। রেজিস্টর সম্পর্কে আরো বিস্তারিত ভাবে জানতে এখানে ক্লিক করুন।

ইউনি জাংশন ট্রানজিস্টর এর ব্যবহার:

ইলেকট্রনিক্স সার্কিটে ইউনি জাংশন ট্রানজিস্টর অনেক ভাবে ব্যবহার দেখা যায়। তার মধ্যে বিশেষ বিশেষ কয়েকটা নিচে উল্লেখ করা হলো।

  • সাইন ওয়েভ এবং স টুথ জেনারেটরে।
  • ভোল্টেজ, কারেন্ট রেগুলেটেড ইউনিটে।
  • অসিলেটর সার্কিট হিসেবে ব্যবহার।
  • ওভার ভোল্টেজ ডিটেক্টর হিসেবে।
  • টাইমিং ট্রিগারিং সার্কিট ব্যবহার।
  • ফেজ কন্ট্রোল সার্কিটে ব্যবহার।
  • সুইচিং সার্কিটে ব্যবহার।
  • পালস জেনারেশনে ব্যবহার।

ইউনি জাংশন ট্রানজিস্টর এর কার্যপ্রণালী:

ইউনিজাংশন ট্রানজিস্টর এর বিশেষ কার্যপ্রণালী বা ধর্ম হলো, কিছু নিদিষ্ট পরিস্থিতিতে এর ইমিটার কারেন্ট খুব দ্রুত বেগে যায়। তখন এই কারেন্ট নিয়ত্রন করা যায় না। শুধুমাত্র কারেন্টর ভোল্টেজ কমিয়ে ইমিটার নিয়ন্ত্রন করা যায়। এজন্যই ইউনি জাংশন ট্রানজিস্টর কে স-টুথ জেনারেটর তৈরী করতে সবচেয়ে বেশী ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে ইউনি জাংশন ট্রানজিস্টর এর আউটপুটে যে ভোল্টেজ পাওয়া যায় সেটা দেখতে অনেকটা করাতের দাতে মতো হয়ে থাকে।

ট্রানজিস্টর সম্পর্কে আরো জানুন

সিলিকন কনট্রোল রেকটিফায়ার সর্ম্পকে জানুন

ফিল্ড ইফেক্ট ট্রানজিস্টর সম্পর্কে জানুন

ইউনি জাংশন ট্রানজিস্টর কে স্বাভাবিক অবস্থায় বেস-২ কে, বেস-১ এর সাপেক্ষে পজেটিভ রাখা হয়। এটা তিন ভাবে কাজ করে যথা- ইমিটার ওপেন অবস্থায় একরকম,  ইমিটারে পজিটিভ ভোল্টেজ প্রয়োগ অবস্থায় একরকম, ইমিটারে নেগেটিভ ভোল্টেজ প্রয়োগ এক রকম, যেমন- ইউনি জাংশন ট্রানজিস্টর এর ইমিটারে নেগেটিভ ভোল্টেজ প্রয়োগ করলে এর পি-এন জাংশনে রিভার্স বায়াসে এর সৃষ্টি হয় ফলে ইমিটার কারেন্ট কাট অফ হয়। এ অবস্থাকে ডিভাইসের অফ স্টেট বলে। ইউনি জাংশন ট্রানজিস্টর সম্পর্কে আপনাদের যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে নিচে কমেন্ট করুন। আর লিখাটি ভালো লাগলে লাইক এবং শেয়ার করে। আমাদের গ্রুপে জয়েন করে আমাদের সাথে সংযুক্ত হয়ে যান।

Leave a Reply

DMCA.com Protection Status