হোস্টিং কত প্রকার | কখন কোন হোস্টিং ব্যবহার করবেন বিস্তারিত

হোস্টিং কত প্রকার- ওয়েবসাইটের জন্য কখন কোন হোস্টিং ব্যবহার করতে হয়, আমরা হয়ত অনেকেই জানি না। তাই আজ আমরা হোস্টিং সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো। আপনি যদি নতুন ব্লগ বা ওয়েবসাইট করার কথা চিন্তা করেন তাহলে আজকের লিখাটা আপনার জন্য। সুতরাং বেশি কথা না বাড়িয়ে মূল বিষয়ের দিকে যাওয়া যাক। প্রথমে হোস্টিং সম্পর্কে একটু জেনে নেয়া যাক।

হোস্টিং কি?

হোস্টিং হলো আনলাইন লাইভে ওয়েবসাইটের সবকিছু সংরক্ষণের স্থান বার রাখার জায়গা। যেখানে আমাদের ওয়েবসাইটের কনটেন্ট- আর্টিক্যাল, ছবি, থিম এবং ওয়েবসাইটের সব ফাইল অনলাইনে 24 ঘন্টা লাইভ রাখা হয়। মনে করুন হোস্টিং সার্ভার হলো একটা কম্পিউটার, যেটা 24 ঘন্টা নেট কানেকশন দিয়ে নন-স্টপ চালু চালু রাখা হয়। তার মধ্যে যে হার্ডডিস্ক থাকে সেখানে আমাদের ওয়েবসাইটের সব কিছু রাখা হয়। যেন কোন ভিজিটর যেকোন সময় আমাদের ওয়েবসাইটে গেলে সাথে সাথে সকল তথ্য বা ডাটা পেয়ে যায়। ভিজিটর সকালে নাহয় মিডনাইটে 24/365 দিন যেকোন সময় পাবে। (ভিজিটর হলো তারা- যারা আমাদের ওয়েবসাইটে এসে কনটেন্ট দেখবে পড়বে) আশা করছি হোস্টিং সম্পর্কে পরিস্কার বুঝে গিয়েছেন।

সার্ভার কি?

সার্ভর হলো একটি অনলাইন লাইভ কম্পিউটার, যেখানে কম্পিউটারের রিসোর্স থাকে, যেমন- হার্ডডিস্ক, প্রসেসর, র‌্যাম মাদারবোর্ড, নেট কানেকশন সব মিলে সার্ভার। সার্ভার নির্ভর করে কম্পিউটারের কনফিগারেশনের উপর। মনে করুন 30,000/-হাজার টাকা দামের কম্পিউটার আর 60,000/-টাকা দামের কম্পিউটার, কোনটা ভালো হবে? বোঝা যায় দামি টা ভালো হবে। তাই যত দামের কম্পিউটার কনফিগারেশন হবে, সার্ভার ততো ভালো হবে এবং হোস্টিং এর দাম ততো বেশি হবে।

হোস্টিং কত প্রকার। কখন কোন হোস্টিং ব্যবহার করবেন:

এখন আমরা জানবো হোস্টিং কত প্রকার হয়ে থাকে এবং কখন কোন ওয়েবসাইটের জন্য কোন হোস্টিং ব্যবহার করতে হবে, তাহলে আপনার ওয়েবসাইটের পারফামেন্স হবে সুপার ফাস্ট। চলুন জেনে নেয়া যাক হোস্টিং কত প্রকার- কখন কোন হোস্টিং ব্যবহার করতে হয়।

হোস্টিং চার প্রকার হয়ে থাকে যেমন –

  • শেয়ার হোস্টিং সার্ভার (Shared Hosting Server)
  • ভিপিএস হোস্টিং সার্ভার  (VPS-(Virtual Private Server) Hosting Server)
  • ডেডিকেটেড হোস্টিং সার্ভার (Dedicated Hosting Server)
  • ওয়ার্ডপ্রেস ম্যানেজ হোস্টিং সার্ভার (WardPress Manage Hosting Server)
হোস্টিং কত প্রকার- type of hosting server
Type of hosting server
হোস্টিং কত প্রকার

শেয়ার হোস্টিং সার্ভার (Shared Hosting Server):

Shared Hosting Server হলো- যে সার্ভারের হোস্টিং সকলে মিলে ভাগ বা শেয়ার করে ব্যবহার করা হয় তাকে Shared Hosting Server বোঝায়। একটা কম্পিউটারের বা সার্ভারের একটা হার্ডডিস্ক কে কয়েক জন ব্যবহার কারা বা বিভিন্ন ভাবে ভাগ করে নেওয়া। মনে করুন 100 জিবির একটা কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক 50 জন মিলে ভাগ করে নিলো, তাহলে তা Shared Hosting Server হয়ে গেলো। অর্থাৎ আপনি এক জিবি হোস্টিং নিলে আপনার হোস্টিং কোম্পানি তাদের যেকোন কম্পিউটার সার্ভার থেকে একজিবি হোস্টিং আপনাকে দেওয়া হলো, তাহলো সেটা হবে Shared Hosting Server

শেয়ার হোস্টিং সার্ভার কখন ব্যবহার করবেন:

মনে করুন আপনি একটা নতুন ব্লগ বা ওয়েবসাইট শুরু করছেন বা করবেন ভাবছেন, যখন আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিটর কম থাকবে, ওয়েবসাইটের উপর চাপ কম থাকবে, অর্থাৎ ওয়েবসাইট শুরুর প্রথম বছরে আপনি Shared Hosting Server ব্যবহার করতে পারেন। এতে কোন সমস্যা হবেনা। তাবে যদি ছয় মাসের মধ্যে বা যেকোন সময় হঠাৎ আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিটর বেশি হয়ে যায়। তখন আপনার সার্ভারে যারা হোস্টিং শেয়ার নিয়েছে তাদের সমস্যা হবে। ফলে হোস্টিং কোম্পানি আপনাকে VPS -Virtual Private Server এ ট্রান্সফার করে দিবে। ফলে পরের বছর হয়ত আপনার হোস্টিং এর দাম একটু বেশি নিতে পারে, তবে আপনার চিন্তার কোন কারণ নেই। অথবা আপনি যদি একটা Fastest Lording ওয়েবসাইট পেতে চান তখন VPS -Virtual Private Server এ আপনার ওয়েবসাইট কনভার্ট করে নিতে পারেন।

হোস্টিং কত প্রকার- type of hosting server

Shared Hosting Server Demographic

হোস্টিং কত প্রকার

ভিপিএস হোস্টিং (VPS -Virtual Private Server):

VPS -Virtual Private Server হলো অনেকটা শেয়ার হোস্টিং সার্ভারের মত। কিন্তু এখানে পার্থক্য হলো সার্ভারটা অনেক ফাস্ট এবং ভালো মানের হয়। একসাথে অনেক ভিজিটর ওয়েবসাইট ব্যবহার করলেও VPS -Virtual Private Server এর আপনার ওয়েবসাইট ডাউন হবে না সব সময় আপ থাকবে। সার্ভার কি আগেই বলেছি আবার বলছি! VPS -Virtual Private Server হলো ভালো মানের কম্পিউটার কনফিগারেশন করা সার্ভার। Shared Hosting Server এর তুলনায় ডাবল মনের দামি কম্পিউটার কনফিগারেশন দিয়ে VPS -Virtual Private Server তৈরী করা হয়। যার কারণে Shared Hosting Server এর তুলনায় VPS -Virtual Private Server এ ওয়েবসাইট Fastest Lording হয় এবং অনেক ভিজিটর থাকলেও কোন সমস্যা হয়না।

ভিপিএস হোস্টিং সার্ভার কখন ব্যবহার করবেন:

VPS -Virtual Private Server আপনি তখন ব্যবহার করবেন, যখন আপনার ওয়েবসাইট অনেক Fastest Lording করাতে চান এবং যখন আপনার ওয়েবসাইটে অনেক বেশি ভিজিটর হবে। তবে VPS -Virtual Private Server তখুনি ব্যবহার কারা উচিৎ যখন ওয়েবসাইটের বয়স এক বছরের বেশি হবে এবং ভিজিটর অনেক বেশি হবে। আর যদি Shared Hosting Server ব্যবহার করার সময় আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিটর বেশি হয়ে যায় তখন হোস্টিং কোম্পানি এমনিতেই আপনার ওয়েবসাইট VPS -Virtual Private Server এর ট্রানন্সফার করে নিবে। কারণ আপনার ভিজিটর বেশি হয়ে গেলে অন্য জনের সাইটের রিসোর্স কমে যাবে, ফলে তাদের ওয়েবসাইট ভারি হয়ে যাবে এবং বিভিন্ন সমস্যা করবে।

হোস্টিং কত প্রকার- type of hosting server

VPS -Virtual Private Server Demographic

হোস্টিং কত প্রকার

ডেডিকেটেড হোস্টিং সার্ভার (Dedicated Hosting Server):

Dedicated Hosting Server হলো নির্দিষ্ট এক জানের জন্য একটা করে কম্পিউটার সার্ভার। Dedicated Hosting Server এর কম্পিউটারে যা কনফিগারেশন থাকবে সবকিছু একজন ব্যবহার কারী Dedicated Hosting Server এ ব্যবহার করবে । এখানে শেয়ার হোস্টিং এর মত অন্য জনের সমস্যা হলে আপনাকে সমস্যায় পড়তে হবেনা। শুধুমাত্র ব্যবহার কারীর জন্য Dedicated Hosting Server কম্পিউটারটি বরাদ্ধ করা থাকবে। এজন্য Dedicated Hosting Server অনেক দামি হয় এবং সবাই ব্যবহার করতে পারেনা। তবে আপনার সাইট যদি ইকমার্স হয় এবং অনেক ভিজিটর হয় বা আপনার যদি অনেক বড় ওয়েবসাইট এবং বেশি বাজেট থাকে তাহলে এই Dedicated Hosting Server  আপনার ব্যবহার করা উচিৎ। সহজ ভাষায় বললে- যখন একটা কম্পিউটার সম্পূর্ণ টা একটা সার্ভার হিসাবে ব্যবহার করা হয় এবং একজনকেই তা ব্যবহার করতে দেওয়া হয়, তখন তাকে বলে Dedicated Hosting Server বলা হয়।

ডেডিকেটেড হোস্টিং সার্ভার কখন ব্যবহার করবেন:

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বড় রানিং ইকমার্স ওয়েবসাইটে অথবা বেশি ভিজিটার ব্লগে Dedicated Hosting Server ব্যবহার করা হয় এবং কোন কোম্পানি তাদের নিজেশ্ব সব ওয়েবসাইটের জন্য এই সার্ভার ব্যবহার করে থাকে। Dedicated Hosting Server ব্যবহার করলে ভিজিটর যতই বেশি হোক না কেন! আপনার ওয়েবসাইট সবসময় আপ থাকবে। কোন সময় ডাউন হওয়ার চান্স নেই। আর ওয়েবসাইট সব সময় সুপার ফাস্ট থাকবে।

হোস্টিং কত প্রকার-type of hosting server

Dedicated Hosting Server Demographic

হোস্টিং কত প্রকার

ওয়ার্ডপ্রেস ম্যানেজ হোস্টিং সার্ভার (Wardpress Manage Hosting Server):

Wardpress Manage Hosting Server হলো শুধু মাত্র ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটে ব্যবহার করার জন্য তৈরী করা হয়েছে। ওয়ার্ডপ্রেস কোম্পানি এই সার্ভার নিজ দায়িত্তে দেখা শোনা করে পরিচালনা করে। কোন সমস্যা হলে আপনাকে চিন্তা করতে হবেনা। ওয়ার্ডপ্রেস কোম্পানির অপারেটর তা সাথে সাথে ঠিক করে দিবে। এটা হলো ঝামেলা ফ্রি হোস্টিং সার্ভার। আপনি যদি মনে করেন- আমি একটা ঝামেলা মুক্ত Fastest Lording লোডিং ওয়েবসাইট নিবো যাতে কোন ঝামেলা থাকবেনা, তাহলে Wardpress Manage Hosting Server আপনার জন্য বেস্ট হবে।

ওয়ার্ডপ্রেস ম্যানেজ হোস্টিং সার্ভার কখন ব্যবহার করবেন:

আপনার যখন ওয়েবসাইটের সার্ভারের দিকে অত নজর দেওয়ার সময় থাকবে না।  যেমন- স্পিড আপ টেস্ট, সার্ভার টেস্ট, সিকিউরিটি দেখা- শোনা, ওয়েবসাইটের ব্যাকআপ, মেইনটেনেন্ট করা, সাইট নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদির মত বিষয় গুলো দেখার সময় থাকবেনা। তাহলে আপনার জন্য Wardpress Manage Hosting Server ব্যবহার করা উচিৎ। কারণ তাদের সার্ভারের প্রতিটা বিষয় দেখা-শোনার জন্য একজন কর্মী নিয়োগ দেওয়া থাকে। যারা 24 ঘন্ট সার্ভারে কাজ করে এবং ওয়েবসাইটের সমস্যা গুলো খঁজে তার সমাধান করা।

হোস্টিং কত প্রকার- type of hosting server

Wardpress Manage Hosting Server Demographic

হোস্টিং কত প্রকার

রিসেলার হোস্টিং সার্ভার (Reseller Hosting Server)

হোস্টিং কত প্রকার জানতে গিয়ে Reseller Hosting Server এর কথা হয়ত অনেকেই শুনেছেন রিসেলার হোস্টিং হলো- কেউ বা কোন কোম্পানি একটা Dedicated Hosting Server নিয়ে তা খুচরা ভাবে একজিবি, দুইজিবি ইত্যাদি ভাবে বিক্রয় করল অথবা নিজের কোম্পানির আলাদা আলাদা ওয়েবসাইটে ব্যবহার করল তখন তাকে রিসেলার হোস্টিং বলা হয়।

ফ্রি হোস্টিং সার্ভার :

আরো কিছু কিছু হোস্টিং সার্ভার রয়েছে যেগুলো ফ্রিতে ব্যবহার করা যায়। যেমন- ব্লগারের হোস্টিং, এছাড়াও গুগলে সার্চ দিলে অনেক ফ্রি হোস্টিং পাওয়া যাবে। তবে আপনাদের বলি ফ্রি হোস্টিং ব্যবহার করবেন না। কারণ ফ্রি হোস্টিং কোম্পানি অনেক লিমিটেশন দিয়ে রাখে। যেমন-

  • সাইটের আপ-ডাউন অবস্থার কোন ঠিক থাকবে না।
  • ব্যান্ডউইথ লিমিট থাকবে।
  • বেশি ভিজিটর হলে হোস্টিং সাসপেন্ড হতে পারে।
  • ওয়েবসাইট কখন হারিয়ে যাবে তার কোন ঠিক নাই।
  • ঠিক মত সাইট আপটিমাইজেশন করতে পারবেন না।
  • সাইটের ব্যকআপ নিতে সমস্যা হতে পারে।
  • এসইও ঠিক ভাবে করতে পারবেন না।

সুতরাং আপনি যদি একটা টার্গেট নিয়ে ব্লগ বা ওয়েবসাইট শুরু করতে চান, তাহলে ফ্রি থেকে দূরে থাকুন। ফ্রি হোস্টিং নিতে চাইলে আমার আরেকটি আর্টিক্যাল আছে ফলো করুন। আর কোন কিছু জানার থাকলে নিচে কমেন্ট করুন। ভালো লাগলে ফেইসবুকে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

DMCA.com Protection Status
error: Content is protected !!