কম্পিউটার এর প্রকারভেদ, ডিজিটাল কম্পিউটার

কম্পিউটার এর প্রকারভেদ, ডিজিটাল কম্পিউটার কয় প্রকার ও কি কি

কম্পিউটার এর প্রকারভেদ হলো এককথায় কম্পিউটারের ধরণ- আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন কাজে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করি তার নাম হলো কম্পিউটার। আমরা বেশির ভাগ কাজের ক্ষেত্রে ডিজিটাল কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু আপনি কি জানেন কি? পৃথিবীতে কত ধরণের কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। উন্নত বিশ্বের গবেষণার কাজে যে প্রযুক্তি সম্পূর্ণ কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়, তা আমাদের দেশে হয়ত আজও ব্যবহার করা হয় না। তাই আজ আমরা জানবো বিশ্বে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরণের কম্পিউটার এর প্রকারভেদ, ডিজিটাল কম্পিউটার কয় প্রকার ও কি কি বিস্তারিত

কম্পিউটার এর প্রকারভেদ :

কাজের ধরণ ও প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে কম্পিউটারকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

  • এনালগ কম্পিউটার  (Analog Computer)
  • ডিজিটাল কম্পিউটার (Digital Computer)
  • হাইব্রিড কম্পিউটার  (Hybrid Computer)

ডিজিটাল কম্পিউটার কয় প্রকার ও কি কি:

আকার আকৃতি আয়তন এবং ক্ষমতার ভিত্তিতে ডিজিটাল কম্পিউটারকে আবার চার ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

  • সুপার কম্পিউটার (Super Computer)
  • মেইন ফ্রেম কম্পিউটার (Main Fram Computer)
  • মিনি ফ্রেম কম্পিউটার (Mini Fram Computer)
  • ছোট মাইক্রো কম্পিউটার (Micro Computer)

মাইক্রো কম্পিউটার এর প্রকারভেদ:

বর্তমানে মাইক্রো কম্পিউটারকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে যথা-

  • ডেস্কটপ কম্পিউটার (DeskTop Computer)
  • ল্যাপটপ কম্পিউটার (LapTop Computer)
  • নোটবুক কম্পিউটার (NoteBook Computer)
কম্পিউটার এর প্রকারভেদ
কম্পিউটার এর প্রকারভেদ

এনালগ কম্পিউটার (Analog Computer):

Analog কথার অর্থ হচ্ছে সাদৃশ্য। এনালগ কম্পিউটার Analogু সংকেত ব্যবহার করে কাজ করে বলে একে এনালগ কম্পিউটার বলা হয়। এনালগ সংকেতের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পর্যায়ক্রমে সময়ের সাথে উঠানামা করা। তাপ, চাপ, তরল প্রবাহ ইত্যাদি। পরিবর্তনশীল ডাটার জন্য সৃষ্ট বৈদ্যুতিক তরঙ্গ পরিমাপ করে এনালগ কম্পিউটারের কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং সম্পাদিত ফলাফল সমূহ মিটার বা কাটার সাহায্যে প্রকাশিত হয়। মোটর গাড়ীর বেগ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র এনালগ কম্পিউটারের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

ডিজিটাল কম্পিউটার (Digital Computer):

বর্তমানে কম্পিউটার বলতে ডিজিটাল কম্পিউটারকে বোঝানো হয়। Digit শব্দ থেকে Digital শব্দের উৎপত্তি, ডিজিটাল কম্পিউটার এ বর্ণ, সংখ্যা, সংকেত, প্রতীক ইত্যাদি ইনপুট হিসাবে ব্যবহার করা হয়। ডিজিটাল কম্পিউটার মূলত গাণিতিক নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হয় এবং সুক্ষ নির্ভূল ফলাফল প্রদান করতে সক্ষম। ডিজিটাল কম্পিউটার 0 এবং 1 এই দুটি বাইনারী ডিজিট দিয়ে সব ধরণের কাজের প্রক্রিয়া করণ সম্পাদন করে।

ডিজিটাল কম্পিউটার এর বিভিন্ন অংশ :

একটি ডিজিটাল কম্পিউটারের প্রধান তিনটি অংশ থাকে যথা-

  • ইনপুট ইউনিট( Input Unit)
  • সিপিউ(Central Processing Unit)
  • আউটপুট ইউনিট (Output Unit)

হাইব্রিড কম্পিউটার (Hybrid Computer):

এনালগ এবং ডিজিটাল এই দুই শ্রেণীর কম্পিউটার প্রযুক্তি মিলে তৈরী করা কম্পিউটারকে হাইব্রিড কম্পিউটার বলা হয়। বিশেষ ধরণের বৈজ্ঞানিক গবেষণা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ‍এনালগ এবং ডিজিটাল সংকেত পদ্ধতির মিশ্র উপস্থিতি বিদ্যমান সেক্ষেত্রে হাইব্রিড কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। এ কম্পিউটার এনালগ প্রক্রিয়ার উপাত্ত সংগ্রহ করে সংখ্যায় রুপান্তর করার পরে তা প্রক্রিয়াকরণ এবং ফলাফল প্রদানের নিমিত্তে ডিজিটাল অংশে প্রেরণ করে। হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ারে এ ধরনের কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।

এনালগ এবং ডিজিটাল কম্পিউটারে পার্থক্য:

১। এনালগ কম্পিউটার বাহ্যিক অবস্থার উপর অনেকাংশ নির্ভরশীল। পর্যবেক্ষণ সুক্ষ্মভাবে করা না গেলে কার্যের ফলাফল আশা করা যায় না। অপর দিকে ডিজিটাল কম্পিউটার স্মৃতির উপর নির্ভর করে। দশমিকের পর অনেক পর্যন্ত কাজ করতে পারে।

২। এনালগ কম্পিউটার সাধারণত পর্যবেক্ষণ মূলক কাজের তথ্য সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। অপর দিকে ডিজিটাল কম্পিউটার গাণিতিক ও যৌক্তিক কাজে ব্যবহার করা হয়।

৩।এনালগ কম্পিউটার ক্রমাগত পরিবর্তনশীল সংকেত বা এনালগ সংকেত ব্যবহার করে কাজ করে অপর দিকে ডিজিটাল কম্পিউটার একটি বৈদ্যুতিক সংকেত ০ এবং ১ ব্যবহার করে বুলিয়ান এলজেব্রার দ্বারা কাজ করে।

৪। এনালগ কম্পিউটারের আউটপুট সাধারণত নির্দেশকের মাধ্যমে প্রদান করা হয়। অপর দিকে ডিজিটাল কম্পিউটারের আউটপুট স্কিনে প্রর্দশন করা হয়।

৫। এনালগ কম্পিউটার গাড়ির স্পিডমিটার এবং হার্টের বিট মাপার যন্ত্রে ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়। অপর দিকে পাসোনেল কম্পিউটার, মিনি কম্পিউটার, মাইক্রো কম্পিউটার ইত্যাদিতে ডিজিটাল কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।

সুপার কম্পিউটার (Super Computer):

সুপার কম্পিউটার হলো সবচেয়ে দ্রুতগতি সম্পন্ন এবং ব্যয় বহুল কম্পিউটার। আকৃতির দিক থেকে সর্ববৃহৎ। সুপার কম্পিউটারের তথ্য সংরক্ষণ, কার্য ক্ষমতা অন্য রকম অবিশ্বাস্য রকমের হয়ে থাকে। ফলে সুপার কম্পিউটারের সাহয্যে বৈজ্ঞানিক গবেষণা মূলক কাজ করা হয়ে থাকে। যেমন- সুক্ষ বৈজ্ঞানিক গবেষণা, বিপুল পরিমাণের তথ্য বিশ্লেষণ, নভোযান, জঙ্গি বিমান ক্ষেপনাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, মহাকাশ গবেষণা, পরমাণু গবেষণা ইত্যাদি ক্ষেত্রে সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। আমেরিকা জাপান কোরিয়া ইত্যাদি প্রভাবশালী দেশগুলো সুপার কম্পিউটার তৈরী এবং ব্যবহার করে থাকে।

মেইন ফ্রেম কম্পিউটার (Main Fram Computer):

মেইন ফ্রেম কম্পিউটার হলো এমন একধরণের কম্পিউটার যার সাথে টার্মিনাল যুক্ত করে এক সাথে অনেক মানুষ কাজ করতে পারে। বৃহদাকার মেইন ফ্রেম কম্পিউটারের সংঙ্গে সহস্রাধিক ডাম্প টার্মিনাল ব্যবহার করা হয়। এ কম্পিউটারে একাধিক প্রকৃয়াকরণ অংশ থাকে। ব্যাংক বীমা অর্থলগ্নকারী প্রতিষ্ঠানে এবং বৈজ্ঞানিক কর্মতৎপরতা পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ ও বিশ্লেষণ এবং মূল্যায়নের জন্য মেইন ফ্রেম কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশে প্রথম ১৯৬৫ খ্রিঃ সালে পরমাণু শক্তি কমিশনে মেইন ফ্রেম কম্পিউটার স্থাপন করা হয়।

মিনি ফ্রেম কম্পিউটার (Mini Fram Computer):

মেইন ফ্রেম কম্পিউটার এর চেয়ে আকারে ছোট মিনি ফ্রেম কম্পিউটার, এ কম্পিউটারে টার্মিনালের মাধ্যমে অনেক ব্যবহারকারী এক সংঙ্গে ব্যবহার করতে পারে। সাধরণত শিল্প গবেষণা, ব্যাংকিং কার্যক্রমে মিনি ফ্রেম কম্পিউটার ব্যবাহার করা হয়।

মাইক্রো কম্পিউটার (Micro Computer):

১৯৭০ দশকের শেষের দিকে মাইক্রো কম্পিউটারের জন্য প্রথম মাইক্রো প্রসেসর সংবলিত ছোট আকৃতির কম্পিউটার তৈরী করা হয়। এজন্য একে মাইক্রো কম্পিউটার বলে। একে পার্সোনাল কম্পিউটার পিসি ও বলা হয়।

ডেস্কটপ কম্পিউটার (DeskTop Computer):

সাধারণত ডেস্ক বা টেবিলে যে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয় তাকে ডেস্কটপ কম্পিউটার বলে। বাড়ি অফিস ইত্যাদি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ডেস্কটপ কম্পিউটার বেশি ব্যবহার করা হয়। বাজারে ডেস্কটপ কম্পিউটারের দাম ১৫০০০ থেকে ৪০০০০ হাজারের ভালো মানের ডেস্কটপ কম্পিউটার পাওয়া যায়।

ল্যাপটপ কম্পিউটার (LapTop Computer):

ল্যাপটপ কম্পিউটার হলো ছোট পোর্টেবল কম্পিউটার যেখানে সেখানে ক্যারি করে নিয়ে যাওয়া যায়। দেখতে বইয়ের মত ব্যাগে করে নিয়ে যেখানে সেখানে কাজ করা অনেক সহজ হয়। কিন্তু ল্যাপটপ কম্পিউটারে চার্জ দিতে হয়। ব্যাটারীর চার্জ টাইমের উপর নির্ভর করে আপনি ক্যারি করে কাজ করতে পারবেন। বাজারে বিভিন্ন দামের ল্যাপটপ কম্পিউটার পাওয়া যায়।

নোটবুক কম্পিউটার (NoteBook Computer):

নোটবুক কম্পিউটার হলো মোবাইলের মত ছোট আকারের কম্পিউটার যা ল্যাপটপের চেয়েও অনেক ছোট হাতের মুঠোয় নিয়ে যেকোন কাজ করা যায়। বর্তমানের নোটবুক কম্পিউটারের ব্যবহার অনেক হারে বেড়েছে।

উপরোক্ত কম্পিউটার এর প্রকারভেদ, ডিজিটাল কম্পিউটার কয় প্রকার ও কি কি কাকে বলে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আশা করছি আজ আপনাদের কম্পিউটারের প্রকারভেদ নিয়ে সকল কনফিউশন দূর হয়ে যাবে বিষয় গুলো ‍বুঝে যাবেন। বিশেষ অনুরোধ লেখাটি ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ার করে আপনার বন্ধদের জানিয়ে দিন। যা আমার লেখার অনুপ্রেরণাকে অনেক গুণ বাড়িয়ে দিবে।

আরো নতুন নতুন ভিন্ন তথ্য জানুন:

Leave a Reply

DMCA.com Protection Status