ল্যাপটপ এর যত্ন ব্যবহার

ল্যাপটপ এর যত্ন ব্যবহার | নতুন ল্যাপটপ চালানোর নিয়ম

আজ আমরা জানবো নতুন ল্যাপটপ এর যত্ন ও ব্যবহার কিভাবে করতে হবে। কারণ  ল্যাপটপ এর যত্ন ও ব্যবহার যদি সঠিক ভাবে করা হয় তাহলে ল্যাপটপের আয়ু যেমন বেড়ে যায় তেমনী সার্ভিস ভালো দেয় এবং নতুনের মত দেখায়। যদি মনে হয় ল্যাপটপ টি আপনার কষ্টের টাকায় কেনা এবং শখের ডিভাইস, অনেক কাজে আসে, অনেক মূল্যবান জিনিস, তাহলে কিভাবে ল্যাপটপ এর যত্ন ও ব্যবহার করতে হয় তা জেনে রাখুন। সুতরাং আর কথা না বাড়িয়ে জেনে নিন নতুন ল্যাপটপ চালানোর নিয়ম এবং কিভাবে ল্যাপটপের যত্ন নেওয়া যায়।

সূচীপত্র

ল্যাপটপ এর যত্ন ও ব্যবহার :

প্রতিদিনের কাজের ল্যাপটপটিতে যদি হঠাৎ কোন সমস্যা দেখা দেয় তখন মনে হবে যে ল্যাপটপের যত্ন নেওয়া উচিৎ ছিলো কি ছিলো না। ল্যাপটপ এর যত্ন নেওয়া তেমন কোন কঠিন কাজ বা কঠিন বিষয় নয়। কাজের মধ্যে একটু সর্তকতার সাথে ব্যবহার ও মেইনটেন্টে করার মত ছোট্ট একটা বিষয়। এজন্য তেমন খাটুনি বা টাকা খরচ করতে হয় না। নিচের নিয়ম গুলো মেনে ল্যাপটপ ব্যবহার করলেই ল্যাপটপ এর যত্ন যথেষ্ট হবে।

ল্যাপটপ হেভি ব্যবহার বা লোড দেওয়া :

আপনার ল্যাপটপ ব্যবহারের সময়- একটু উচু স্থানে রাখতে হবে যেন তার নিচে বাতাস চলাচল করতে পারে। কারণ যখন আপনি ল্যাপটপ হ্যাভি ব্যবহার করবেন তখন ল্যাপটপের কুলিং ফ্যান জোরে ঘুরবে, বেশি পরিমাণে গরম হবে, ফলে কুলিং সিস্টেম দ্রুত কাজ করবে এজন্য ল্যাপটপের ভিতরের বাতাস বের হওয়া এবং প্রবেশ করার দিকটা খেয়াল রাখতে হবে। যেন কুলিং সিস্টেমে কোন বাধা না পড়ে। বাধা পড়লে ওভার হিটিং এর কারণে ল্যাপটপ রিস্টার্ট নিতে পারে।

কিবোর্ড প্রোটেকটর ব্যবহার করা :

ল্যাপটপের কিবোর্ড প্রোটেকটর ব্যবহার করতে হবে। ল্যাপটপের কিবোর্ড প্রোটেকটরে কোন আঠা থাকে না। সেটা অটোমেটিক কিবোর্ডের সাথে লেগে থাকে, ফলে কিবোর্ড ধুলা ময়লা বা বাটনের লেখা উঠে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়। কিবোর্ড প্রোটেকটর বিভিন্ন ল্যাপটপ কোম্পানি ফ্রিতে দিয়ে থাকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ফ্রিতে দেওয়া হয়না অতিরিক্ত ভাবে কিনে নিতে হয়।

কানেক্টর বা পোর্ট সংযোগ ঠিক ভাবে করা:

আমরা ল্যাপটপ ব্যবহার করি কিন্তু কোন ইউএসবি বা চার্জিং কানেক্টর বা এইচডিএমআই বা এক্সট্রা ভিজিএ ব্যবহার করার সময় ঠিকমত যেকোন পোর্ট লাগাই না বা চাপ দিয়ে, একে-বেকে সেট বা খুলে থাকি। যার কারণে সহজেই যেকোন পোর্ট নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ল্যাপটপ এর যত্ন নিতে হলে এসব ছোট খাটো বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ এগুলোই এক সময় বড় সমস্যায় পরিণত হয়। যেকোন ইউএসবি ব্যবহার করার সময় সোজা-সোজি বের করা বা প্রবেশ করার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কোন সময় ভাজ করে বের করা যাবে না।

ধুলাবালি প্রোটেক্ট করে ল্যাপটপ ব্যবহার করা:

ল্যাপটপ এর যত্ন নিতে হলে ধুলাবালি থেকে প্রোটেক্ট করা গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্কার করার জন্য ক্লিনার ব্যবহার করতে হবে। বাজারে ল্যাপটপ ক্লিনিং করার জন্য বিভিন্ন ক্লিনার স্প্রে পাওয়া যায় সেটা ব্যবহার করতে হবে। বেশি ময়লা বাতাস বা ধুলাবলির কারণে ল্যাপটপের ভিতরে ময়লা জমে যায় ফলে দ্রুত নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা থাকে। এজন্য সব সময় ধুলাবালি থেকে ল্যাপটপকে প্রোটেক্ট করতে হবে।

তরল বা লিকুইড থেকে ল্যাপটপকে রক্ষা করা :

ল্যাপটপকে যেকোন ধরণে লিকুইড থেকে রক্ষা করতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় পানি বা চা খেতে লেগে ল্যাপটপের উপর পড়ে যায়। তখন আমরা মুছে রেখে দেয়। কিন্তু ভিতরে যে তরল লিকুইড প্রবেশ করে তার কোন খেয়াল করিনা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এজন্য ল্যাপটপের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। এজন্য কোন সময় যদি ল্যাপটপের উপর কোন তরল লিকুইড পড়ে তাহরে তাৎক্ষণাৎ সার্ভিসিং সেন্টারে নিয়ে শুকিয়ে পরিস্কার করা উচিৎ। নতুনবা শর্ট বা জং ধরে ল্যাপটপ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সুতরাং সকল লিকুড থেকে ল্যাপটপকে সব সময় রক্ষা করা উচিৎ।

পরিস্কার হাতে ল্যাপটপ ব্যবহার করা :

ল্যাপটপটি যদি আপনার শখের বা কষ্টের টাকা দিয়ে কেনা হয় তাহলে ক্লিন হাতে ল্যাপটপ ব্যবহার করবেন। এটা তেমন গুরুত্বপূর্ন নয় তাও বলছি অনেক সময় তেলের হতে বা ময়লা হতে ল্যাপটপ ব্যবহার করে থাকে। ফলে তাড়াতাড়ি ল্যাপটপের গ্লেজ নষ্ট হয় ময়লা যুক্ত হয়। এজন্য একটু নিজেকে সচেতন হয়ে ল্যাপটপ ব্যবহার করতে হবে।

বিছানার উপর রেখে ল্যাপটপ না ব্যবহার করা :

কোন সময় বিছানায় বা কপড়ের উপরে রেখে ল্যাপটপ ব্যবহার করা যাবে না। কারণ বিছানায় ল্যাপটপ রেখে ব্যবহার করলে। ল্যাপটপের কুলিং সিস্টেম ঠিকমত কাজ করে না। কারণ কাপড়ের ভিতর দিয়ে ল্যাপটপে বাতাস চলাচল করতে পারে না। ফলে অতি মাত্রায় ল্যাপটপ হিট হতে থাকে একসময় রির্স্টাট নেয়। এজন্য উচু স্থানে রাখতে হবে অথবা কুলিং কাভার ব্যবহার করতে হবে। বাজারে বিভিন্ন ধারনের ল্যাপটপের কুলিং ডেস্ক পাওয়া যায় দরকার হলে কিনে নিতে পারেন।

সঠিক নিয়মে ল্যাপটপ অন-অফ করা :

ল্যাপটপ বন্ধ করার প্রয়োজন হলে অনেক সময় আমরা কি করি? সারাসরি পাওয়ার বাটন চেপে বন্ধ করি, কিন্তু এটা মোটেও ঠিক নয়। সঠিক নিয়মে সিস্টেম থেকে ল্যাপটপ পাওয়া অফ বা সাট ডাউন করতে হবে। পাওয়ার বাটন প্রেস করে ল্যাপটপ অফ করলে সিস্টেমের বিভিন্ন সমস্যা হয়ে থাকে। এজন্য ল্যাপটপ ঠিক ভবে অফ করা এবং সরাসরি পাওয়ার অফ না করা উচিৎ। কন+অল+ডি প্রেস করে বন্ধ করতে পারেন।

যেকোন আঘাত থেকে ল্যাপটপ রক্ষা করা :

ল্যাপটপের যত্ন বলতে যেকোন আঘাত থেকে ল্যাপটপ রক্ষা করা অন্যতম। যেমন- বাঢ়ি দেওয়া, আছাড় খাওয়া, চাপ লাগা ইত্যাদি থেকে ল্যাপটপকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে তাহলে ল্যাপটপ অনেক দিন টেকশই হবে, নষ্ট হবে না। আছাড় সমস্যায় ল্যাপটপ এর জটিল সমস্যা সৃষ্টি হয়। আর এ সমস্যা সহজে খুঁজে বের করা যায় না

ল্যাপটপ কোন কিছু দিয়ে চাপা রাখা থেকে রিরত থাকা :

চালু ল্যাপটপ কোন কিছু দিয়ে চাপা রাখা যাবে না। যেমন- ল্যাপটপ কম্বোলের নিচে চাপা বা বালিশের নিচে চাপা দিয়ে রাখা যাবে না। এটার জন্যও ল্যাপটপের বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। এসব সমস্যা হয়ত তাৎক্ষনাৎ হয়না কিন্তু বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করে থাকে।

ল্যাপটপের মুভমেন্ট ঠিক ভাবে করা :

আপনার ল্যাপটপ দামি বলে আপনি বার বার ভাজ করবেন এবং খুলবেন নাকি? তাহলে এটার জন্য বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। যেমন- ডিসপ্লে রিবন সমস্যা হতে পারে। প্রয়োজনের বাইরে দেখা যায় মানুষ কথা বলতে বলতে বার বার ভাজ করছে খুলছে ভাজ করছে খুলছে। এমন করলে রিবনওয়্যার কেটে যেতে পারে। ডিসপ্লে কানেকশন কেটে বা ছুটে যেতে পারে।

ইউএসবি সব সময় ঠিক ভাবে লাগানো :

ল্যাপটপে যেকোন ধরণের ইউএসবি লাগানো বা খোলার সময় সোজা সোজি লাগতে হবে আবার টেনে খোলার সময় সোজা সোজি খুলতে হবে। খোলার জন্য আঁকা বাঁকা করে টেনে বের করা যাবে না। এমনটা করলে খুব তাড়াতাড়ি পোর্ট গুলো নষ্ট হয়ে যাবে। ফলে আপনার সার্ভিসিং খরচ বাড়তে থাকবে।

ল্যাপটপ টেম্পারেচার থেকে রক্ষা করা :

অতিরক্ত গরম স্থানে ল্যাপটপ ব্যবহার করা যাবে না। আগে তো এসি রুম ছাড়া ল্যাপটপ ব্যবহার করা নিষেধ ছিলো। কিন্তু বর্তমানে প্রযুক্তির আপডেটের কারণে যেকোন সময় যেকোন স্থানে ব্যবহার করা যায়। তাই বলে গরম স্থানে বা রোধে বা অধিক তাপমাত্রা যুক্ত স্থানে ল্যাপটপ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

ল্যাপটপে বিভিন্ন এডপ্টার ব্যবহার না করা :

এক ল্যাপটপের এডপ্টার এর সাথে অন্য ল্যাপটপ এর চার্জার বা এডপ্টার ব্যবহার থেকে রিরত থাকতে হবে। কারণ অনেক সময় দেখা যায় ভিন্ন ভিন্ন ল্যাপটপের এডপ্টার এর ভোল্টেজ ঠিক থাকলেও অ্যাম্পিয়ার একই হয় না। এমতস্তায় ব্যবহার করলে ধিরে ধিরে ল্যাপটপের মাদার্বোড ও ব্যাটারীর ক্ষতি হতে থাকে। প্রয়োজনের বেশি ল্যাপটপ চার্জে দিয়ে ব্যবহার করা যাবে না।

নতুন ল্যাপটপ চালানোর নিয়ম :

ম্যানুয়াল দেখে ল্যাপটপ চালানোর যুগ আর নেই বললেই চলে, কারণ আমরা যখন ল্যাপটপ কিনে থাকি তার সাথে কোন ম্যানুয়াল থাকে না। কিন্তু আপনি যদি মার্কেট থেকে কোন মোবাইল কিনেন দেখবেন সাথে একটা ইউজার ম্যানুয়াল আছে। কিন্তু ল্যাপটপের ক্ষেত্রে এমন থাকে না। তাই আজ আমি আপনাদের নতুন ল্যাপটপ চালানোর কয়েকটা স্পেশাল নিয়ম আলোচনা করবো। যে বিষয় গুলো ফলো করে ল্যাপটপ ব্যবহার করলে ল্যাপটপের লাইফ টাইম অনেকটাই বেড়ে যাবে, নষ্ট কম হবে, ফলে সার্ভিসিং সেন্টারে কম যেতে হবে।

ল্যাপটপ ল্যামিনেট না করা :

নতুন ল্যাপটপ কিনে নিয়ে আসার সাথে সাথে অনেক জন ল্যামিনেট করে নেয়। কিন্তু প্রথম ১০ দিনে ল্যাপটপের কোন সমস্যা বের হলে রিপ্লেসমেন্ট গ্যারেন্টি থাকে। কিন্তু ল্যামিনেট করলে আর রিপ্লেসমেন্ট গ্যারেন্টি থাকে না। কোন কোম্পানি নতুন ল্যাপটপ রিপ্লেসমেন্ট করে দেয় না। এজন্য নতুন অবস্থায় কিছু দিন ল্যাপটপ ব্যবহার করলে সাবধানতার সাথে করতে হবে যেন কোন স্ক্রাচ না লাগে এবং আগেই কোন ল্যামিনেট বা কোন স্কিন পেপার লাগানো যাবে না।

ফুল চার্জ দিয়ে ল্যাপটপ ব্যবহার করা :

নতুন ল্যাপটপ ব্যবহার করার জন্য সব সময় ফুল চার্জ দিয়ে ব্যবহার করতে হবে। তাহলে ব্যাটারী লাইফ টাইম এবং কনডিশন ভালো থাকবে। কোন সময় লো ব্যাটারীতে ল্যাপটপ চালানো যাবে না আর চার্জ ফুল না ফুরানোর আগে চার্জ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

এন্ট্রি ভাইরাস ব্যবহার করা :

নতুন ল্যাপটপ কেনার সাথে সাথে সম্ভব হলে একটা প্রিমিয়াম এন্টি ভাইরাস ইনস্টল করে নেওয়া উচিৎ। কারণ প্রথম প্রথম সবার প্রোগ্রাম সম্পর্কে ধারণা কম থাকে, ফলে বিভিন্ন ইনজেক্ট ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি ভাইরাস আক্রান্ত হয় তাহলে আমরা অনেকেই প্রথম বুঝতে পারিনা প্রোগ্রাম অটোমেটিক কাজ করে, ফাইল মিসিং হয়ে যায় ইত্যাদি অনেক নতুন সমস্যার সৃষ্টি হয়। তখন মনে করি ল্যাপটপের সমস্যা রয়েছে।

ল্যাপটপের সমস্যা সম্পর্কে জানুন :

ল্যাপটপ হ্যাং হলে করনীয়

ভাইরাস মুক্ত করার উপায়

ল্যাপটপের বিভিন্ন সমস্যা

Leave a Reply

DMCA.com Protection Status
error: Content is protected !!