রেজিস্টর কি? রেজিস্টরের কালার কোড মনে রাখার সহজ উপায় এবং ইলেকট্রনিক্সে রেজিস্টরের ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত তথ্য [Fully Updated]

ইলেক্ট্রনিক্স বলতে গেলে এককথায় রেজিস্টর দিয়ে শুরু এবং বর্তমানে ইলেক্ট্রনিক্স এর প্রতিটা সার্কিটে সবচেয়ে বেশি দেখাযায় রেজিস্টর। যার কাজ বিদ্যুৎ প্রবাহকে সঠিক মাত্রায় বাধা দিয়ে ইলেক্ট্রনিক্স সার্কিটের কার্যপ্রণালী নিয়ন্ত্রন করা। ইলেক্ট্রনিক্স জগতে রেজিস্টর এর অনেক গুরুত্ব, তাই রেজিস্টর সম্পর্কে ভালোভাবে না জানলে আপানার ইলেক্ট্রনিক্স জগত অজানাই থেকে যাবে। তাই আজ আমি আপনাদের রেজিস্টর সম্পর্কে একটা পুরো ধারণা দিবো। কোন হবি প্রজেক্ট করতে রেজিস্টর নিয়ে আপনার যতটুকু জানার দরকার আশাকরি মনোযোগের সাথে লিখাটি পড়লে জানতে পারবেন।

ইলেক্ট্রনিক্স বলতে গেলে এককথায় রেজিস্টর দিয়ে শুরু এবং বর্তমানে ইলেক্ট্রনিক্স এর প্রতিটা সার্কিটে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় রেজিস্টর। যার কাজ বিদ্যুৎ প্রবাহকে সঠিক মাত্রায় বাধা দিয়ে বা বিদুৎতের গতি রোধ করে ইলেক্ট্রনিক্স সার্কিটের কার্যপ্রণালী নিয়ন্ত্রণ করা। ইলেক্ট্রনিক্স জগতে রেজিস্টর এর অনেক গুরুত্ব, তাই রেজিস্টর সম্পর্কে ভালোভাবে না জানলে আপানার ইলেক্ট্রনিক্স জগৎ অজানাই থেকে যাবে। তাই আজ আমি আপনাদের রেজিস্টর সম্পর্কে একটা পুরো ধারণা দিবো। কোন হবি প্রজেক্ট করতে রেজিস্টর নিয়ে আপনার যতটুকু জানার দরকার আশাকরি মনোযোগের সাথে লিখাটি পড়লে জানতে পারবেন।

রেজিস্টর কি?

রেজিস্টর হলো একটি বিদ্যুৎ শক্তি বাধা প্রদানকরী কিট। রেজিস্টরের কাজ সার্কিটে বিভিন্ন মাত্রায় বিদ্যুৎ প্রবাহের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে সার্কিটের বিদ্যুৎ প্রবাহ সঠিক রাখা। এককথায় ‍বিদ্যুতের গতি রোধ করাই রেজিস্টিরের কাজ। রেজিস্টর এর একক হলো ওহম। বর্তমানে যেসব ইলেক্ট্রনিক্স সার্কিটে বিভিন্ন ধরণের রেজিস্টর দেখা যায় তাহলো কার্বনের তৈরী। এগুলো দেখতে অনেকটা ছোট হয় বলে এর গায়ে কিছু লিখে মান প্রকাশ করা সম্ভব হয় না। তাই রেজিস্টর এর মান বিভিন্ন কালার কোড দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

ইলেক্ট্রনিক্স সার্কিটে রেজিস্টর এর ব্যবহার:

ইলেক্ট্রনিক্স তার যাত্রা শুরুর থেকে রেজিস্টর ব্যবহার করে আসছে। এটা সেই বহু আগের কথা যখন প্রথম তড়িৎ আবিস্কার হয় তখন থেকে রেজিস্টর ব্যবহার করা হয়। বর্তমানেও রেজিস্টর ছাড়া সার্কিট পূর্ণ করা সম্ভব নয়। মোবাইল, টিভি, রেডিও, কম্পিউটার ইত্যাদি প্রতিটা ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্রে বহু রেজিস্টর ব্যবহার করা হয় তবে এটা এখন দেখতে বিভিন্ন ধরণের হতে পারে। বর্তমানের ইলেক্ট্রনিক্স মাদারবোর্ডে এত ছোট আকারের হয়ে থাকে যে ভালোভাবে না দেখলে বোঝায় যায়না কোনটা রেজিস্টর। কারণ দিনে দিনে ইলেক্ট্রনিক্স সার্কিট এত পরিমানে ছোট হয়ে আসছে যে, আগের সামান্য রেডিওতে যে পরিমাণ পার্ট দেখা যেত বর্তমানে তা চিপস আকারে তৈরী হচ্ছে । আর তা খালি চোখে দেখে রেজিস্টরকে সনাক্ত করা অনেক সময় সম্ভব হয়না।

ইলেক্ট্রনিক্স সার্কিটে রেজিস্টরের কাজ:

ইলেক্ট্রনিক্স সার্কিটে রেজিস্টরের অনেক কাজ রয়েছে তার মধ্যে প্রধান কাজ হলো সার্কিটকে সঠিক মাত্রায় বিদ্যুৎ প্রবাহ দেওয়া। রেজিস্টর সার্কিটের ভেরিয়েবল হিসাবেও কাজ করে। রেজিস্টরে কাজ সার্কিটে বিভিন্ন মাত্রায় বিদ্যুৎ প্রবাহের পরিমাণ নিয়ন্ত্রন করে সার্কিটের বিদ্যুৎ প্রবাহ সঠিক রাখা।

রেজিস্টরের ওয়াট বা অ্যাম্পিয়ার:

রেজিস্টর বিভিন্ন ওয়াটের হয়ে থাকে তার মধ্যে সাধারণত ১/৪ ওয়াট বেশি ব্যবহৃত হয়। যেগুলো বড় সাইজের পাওয়ারের জন্য ব্যবহার হয় তার গায়ে লিখা থাকে যে সেটা কত ওয়াটের আবার বিভিন্ন ডায়াগ্রামে উল্লেখ করা থাকে যে কত ওয়াটের রেজিস্টর নিতে হবে। সাধারণত ১/৪ ওয়াট থাকে। মনে রাখবেন রেজিস্টর যত বেশি ওয়াটের হবে দেখতে তত বড় মোটা সিরামিকের হবে। 

রেজিস্টরের প্রকার সমূহ:

রেজিস্টার সাধারণত দুই ধরণের হয়ে থাকে যথা-

১। মান অপরিবর্তনীয় রেজিস্টর।

যে রেজিস্টরের মান সবসময় অপরিবর্তনীয় অবস্থায় থাকে যার মান পরিবর্তন হয় না তাকে তাকে অপরিবর্তনীয় রেজিস্টর বলে। যেমন ক্যাপসুল রেজিস্টর চিত্র : ১

২। মান পরিবর্তনশীল রেজিস্টর: যে রেজিস্টরের মান সহজে পরিবর্তন করা যায় তাকে পরিবর্তনশীল রেজিস্টর বলে যেমন- ভেরিয়েবল রেজিস্টর চিত্র : ২

ইলেক্ট্রনিক্স সার্কিটে রেজিস্টর চেনার উপায়:

বর্তমানে ইলেক্ট্রনিক্স সার্কিটে বিভিন্ন ধরণের রেজিস্টর দেখা যায়। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

  • ভেরিয়েবল রেজিস্টর বা মান পরিবর্তনশীল রেজিস্টর ।
  • ক্যাপসুল আকারের কার্বন রেজিস্টর বা মান অপরিবর্তনীয় রেজিস্টর ।

ভেরিয়েবল রেজিস্টর দেখতে

চিত্র : ১

Variable resistor jpg

কার্বন ক্যাপসুল রেজিস্টরের গায়ে কিছু ডোড়াকাটা কালার দাগ থাকে যেটার দ্বারা তার মান প্রকাশ করা হয়।

ক্যাপসুল রেজিস্টর দেখতে

চিত্র: ২

resistors color jpg

কালার কোড দেখে রেজিস্টরের মান বের করার নিয়ম:

রেজিস্টরের গায়ে সাধারণত যে কালারের দাগ দেওয়া থাকে তাহলো কালার কোড বা সংকেত নিম্নে কোড বা সংকেত গুলো ছক আকারের দেখানো হলো:

কালার কোড ১ম কালার ২য় কালার ৩য় কালার টলারেন্স
কালো (Black) না ±১%
খয়েরী/বাদামী (Brown) ±২%
লাল (Red) ০০
কমলা (Orange) ০০০
হলুদ (Yellow) ০০০০
সবুজ (Green) ০০০০০
নীল (Blue) ০০০০০০
বেগুনি (Violet)
ধুসর (Grey)
সাদা (White)
সোনালী (Gold)   ×০.১ ±৫%
রুপালী (Silver)   ×০.০১ ±১০%
রং না থাকলে (Non)   ±২০%

সূত্র:  প্রথম কালার আর দ্বিতীয় কালার যোগ হবে তার সাথে ৩য় কালার শূণ্য গুন হবে।

যেমন- খয়েরী+ কালো × খয়েরি

   ১   +   ০    × ০   = ১০০ ওহম

কোড দেখে রেজিস্টরের মান বের করার সহজ উপায় হলো কালার কোড গুলো আগে মুখস্ত করে নিতে হবে। তার পর রেজিস্টরের গায়ে প্রথম যে তিনটা কালার কোড দেওয়া থাকবে তার মধ্যে প্রথম ২টা কালার কোড যোগ করে ৩য় কোডের শূণ্যগুলো গুন করতে হবে, তাহলেই মান বের হয়ে যাবে। আর ৪র্থ কোডটা হলো টলারেন্স। টালারেন্স কি পরে আলোচনা করা হবে।

যেমন- উদাহারণ সরুপ সাধারণ কিছু নিয়ম দেওয়া হলো অনুসরণ করলে বুঝতে পারবেন:-

লাল + লাল × সোনালী
২  +  ২   ×  –      
   
=  ২২ ওহম
এখানে প্রথম কালার কমলার মান ২, দ্বিতীয় সাদার মান ২, তৃতীয় সোনালী, এখানে সোনালীর কোন মান নেই, তাহলে সহজ হিসাব =২২ওহম
কমলা + সাদা × খয়েরী     
৩  +  ৯  ×   ০       
 
=  ৩৯০ ওহম  
এখানে প্রথম কালার কমলার মান ৩, দ্বিতীয় সাদার মান ৯, তৃতীয় খয়েরীর, মানযত ততটা শূণ্য হবে, যথা- খয়েরী  মানে একটা শূণ্য ০ হবে তাহলে সহজ হিসাব =৩৯০ওহম
লাল  + লাল  ×  হলুদ
২  + ২  ×  ০০০০
 
=  ২২০০০০ ওহম
এখন ২২০০০০কে১০০০ দিয়ে ভাগ
করলেই = ২২০ কি: ওহম হবে  
খয়েরি + কালো × কালো
১  +   ০  ×    –
 
=  ১০ ওহম
 
খয়েরী + কালো × লাল
১  +  ০  ×   ০০

=  ১০০ কি: ওহম
 
কমলা + কমলা × লাল  
৩  +  ৩  ×  ০০
 
=  ৩৩০০ ওহম
এখন ৩৩০০ কে ১০০০ দিয়ে ভাগ
করলেই = ৩.৩ কি: ওহম মান হবে।
লাল + হলুদ × সোনালী
২  +  ৪  ×   –      
 
=  ২৪ ওহম
 
হলুদ + লাল × সোনালী
২  +  ৪  ×   –       
 
=  ৪২ ওহম
 
কালার কোড পরিমাণ হিসাবের সূত্র
গুলো ভালো ভাবে দেখি  

১০০০ ওহম         = ১ কি: ওহম ১০০০ কি: ওহম     = ১ মেগা ওহম  
এইভাবে হিসাব করে ওহম থেকে কি.ওহম, কি.ওহম থেকে মেগা.ওহমে মান বের করতে হয়।

এবার চতুর্থ কালার কোড সম্পর্কে বলি।

চতুর্থ কালার কোড না জানলেও কোন সমস্যা নেই। এটা আসলে হলো রেজিস্টরের টলারেন্স। টলারেন্স কি এবার সে ব্যাপারে জানবো

resistor information

রেজিস্টর টলারেন্স কি?

রেজিস্টর টলারেন্স হলো: রেজিস্টর যখন তৈরী করা হয় তখন রেজিস্টর একবারে সঠিক মাপে তৈরী করা যায় না কিছু পরিমাপের পার্থক্য থেকে যায়। এটাকেই রেজিস্টর টলারেন্স বলা হয়। যা ১%-২০% এর মধ্যে হতে পারে। এজন্য এটাকে চতুর্থ কালার দিয়ে প্রকাশ করা হয়। আপনার বেসিক হিসাবে টলারেন্স না জানলেও চলবে তবে সার্কিটের প্রবাহ সঠিক জানতে হলে টলারেন্স জানা দরকার। রেজিস্টরের চতুর্থ ব্রান্ডকালার সোনলী হলে ৫% কমবেশি হয়, রুপালী হলে ১০% আর কালার না থাকলে ২০% হয়ে থাকে এটাকে টলারেন্স হিসাবে ধরা হয়ে থাকে।

সহজে রেজিস্টরের কোড মনে রাখার উপায়:

বিভিন্ন লেখক রেজিস্টরের কোড মনে রাখার বিভিন্ন টেকনিক অবলম্বন করে থাকে যেন প্রতিটি ছাত্র সহজে মনে রাখতে পারে। আজ আমি আপনাদের রেজিস্টরের কালার কোড মনে রাখার একটা উপায় বলে দিচ্ছি সেটা হলো আপনি প্রতিটা কালারের নামের প্রথম অক্ষর নিয়ে একটি ছন্দ তৈরী করে নিতে পারেন যেমন- কাবালক হসনী বেধুসা সেরুনা এই ৪টা কথার শব্দের মধ্যে সব কালারের  নামের প্রথম অক্ষর আছে।

আবার ইংরেজিতে-

‘‘BB ROY Good Boy Very Good Worker ’’

যেমন- Black, Brown, Red, Orange Yellow, Green, Blue, Violet, Grey, White

মিটার দিয়ে রেজিস্টর মাপার পদ্ধতি :

রেজিস্টর সাধারণত মাপার জন্য আমার যে মিটার ব্যবহার করি তা হলো অ্যাভোমিটার

avometer jpg

এভোমিটারের মাধ্যমে রেজিস্টারের মান কোড না দেখেও খুব সহজে বের করা যায়। অ্যাভোমিটারে রেজিস্টর মাপার জন্য একটা সেকশন থাকে যার সাহয্যে খুব সহজে রেজিস্টরের মান বের করা যায়। অ্যাভোমিটারে রেজিস্টর মাপার পদ্ধতি নিয়ে আপনাদের ভবিষ্যৎতে একটি ভিডিও তৈরী করে দিবো।

বেসিক হবিপ্রজেক্ট পার্টস সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন।

আপনাদের রেজিস্টর সম্পর্কে আরো কিছু জানার থাকলে আমাকে কমেন্ট করুন আমি সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করবো।

Leave a Reply

error: Content is protected !!