Sunday , September 26 2021
Breaking News
Home / Fridge AC / ফ্রিজের বিভিন্ন অংশের নাম ও কাজ, যন্ত্রাংশ, পার্টস পরিচিতি
ফ্রিজের বিভিন্ন অংশের নাম

ফ্রিজের বিভিন্ন অংশের নাম ও কাজ, যন্ত্রাংশ, পার্টস পরিচিতি

যদি রেফ্রিজারেটর ফ্রিজ সার্ভিসিং শিখে আপনি ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাহলে আজকের সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি আপনার জন্য। কারণ এই আর্টিকেলে আমি প্রতিটা ফ্রিজের বিভিন্ন অংশের নাম ও কাজ, যন্ত্রাংশ সমূহ, কম্পোনেন্ট পরিচিতি, ফ্রিজ কিভাবে কাজ করে তার ছবি সহকারে বাস্তব কার্যপ্রনালী বিস্তারিত তুলে ধরেছি। আপনি যদি ধর্য ধরে প্রতিটা পয়েন্ট একবার পড়তে পারেন! তাহলে আমি বিশ্বাস করি আপনি ফ্রিজ সার্ভিসিং এর অর্ধেক কাজ শিখে যাবেন। তাই আজকের এই ফ্রিজ সার্ভিসিং এর পরিপূর্ণ কোর্স আপনাকে স্বাগতম।

সূচীপত্র

ফ্রিজের বডি পরিচিতি:

সাধারণত সব ফ্রিজের বডি তৈরী হয় জিং কোটিং লোহার সীট, অ্যালুমিনিয়াম সীট, কাপার ম্যাটেরিয়াল, ইনসুলেটেড প্লাস্টিক, গ্লাসকোট, ফাইবার ইত্যাদি দিয়ে। তবে এগুলো ব্যবহৃত হয়ে থাকে ফ্রিজের মডেল এবং দামের উপর ভিত্তি করে। ফ্রিজের দাম যেমন হয় ঠিক তেমনী কোয়ালিটির ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করে ফ্রিজ বা রেফ্রিজারেটর মডেল তৈরী বা করা হয়। আপনি  যদি আর এসি টেকনিশিয়ান হয়ে থাকেন বা নতুন হতে চান তাহলে ভালোভাবে লক্ষ করলে বিষয় গুলো বুঝতে পারবেন।

ফ্রিজের বডি পরিচিতি
ফ্রিজের বডি পরিচিতি

ফ্রিজের সিস্টেম পরিচিতি:

ফ্রিজ সাধারণত দুইটি সিস্টেমের উপর ভিত্তি করে পরিচালিত বা কাজ করে থাকে যেমন- (১) ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম এবং (২) মেকানিক্যাল সিস্টেম। নিচে ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম এবং মেকানিক্যাল সিস্টেম সম্পর্কে ছবি সহকারে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন আজকের এই আর্টিকেল নতুন ফ্রিজ টেকনিশিয়ানদের শেখার অনেক কিছু রয়েছে।

ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম:

ফ্রিজের মধ্যে বিদ্যুৎতের দ্বারা যেসকল যন্ত্রাংশ পরিচালিত হয়ে কাজ করে থাকে তাকে ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম বলা যেতে পারে। যেমন- লাইট, ফ্যান, কম্প্রোসারের ভিতরে থাকা মটর ইত্যাদি বিদ্যুৎতের সাহয্যে চলে। তবে মনে রাখবেন মেকানিক্যাল সিস্টেমকে চালানোর জন্যও বিদ্যুৎতের প্রয়োজন হয়ে থাকে। যেমন- কম্প্রোসারের ভিতরের মটর, পিস্টন, সিলিন্ডার, লাইট, ফ্যান চলতে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়। তাই এগুলো ফ্রিজের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্রিজের বিভিন্ন অংশের নাম ।

ফ্রিজের কম্প্রোসার:

কম্প্রোসার হলো ফ্রিজের প্রধান অংশ যার মধ্যে রয়েছে মটর, পিস্টন, সিলিন্ডার, পাম্প ইত্যাদি। এটার কাজ হচ্ছে ফ্রিজের প্রতিটা অংশে গ্যাস সঞ্চালন করে কুলিং সিস্টেম পরিচালনা করা বা কুলিং করা, ইভোপোরেটরকে ঠান্ডার করা। ইতিমধ্যে আগেই কম্প্রেসার নিয়ে বিস্তারিত ভাবে আমি একটি আর্টিকেল পাবলিশ করেছি। নিচের লিংকে গিয়ে কম্প্রেসার সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জেনে নিতে পারেন। এখানে ক্লিক করুন

ফ্রিজের কম্প্রোসার
ফ্রিজের কম্প্রোসার

ফ্রিজের পাওয়ার ফিউজ:

বর্তমানে প্রতিটা ফ্রিজ ও ইলেকট্রিক ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের নিরাপত্তার জন্য পাওয়ার লাইনের সাথে বিভিন্ন ভাবে ফিউজ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ফিউজের কাজ– যদি সার্কিট বা পাওয়ার সাপ্লাইয়ে কোন ধরণের সমস্যা হয় তৎক্ষনিক ফিউজটি কেটে গিয়ে পাওয়ার সাপ্লাই বন্ধ করে দেওয়া। এটা যেকোন ডিভাইসে বিভিন্ন ভাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তাই ফ্রিজের পাওয়ার বন্ধ হলে প্রথমে ফিউজ চেক করা দরকার। নিচে কয়েকটি ফিউজের নমুনা ছবি দেওয়া হয়েছে যা ভালোভাবে দেখলে বিষয়টি বুঝতে পারবেন। ফিউজ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

ফ্রিজের পাওয়ার ফিউজ
ফ্রিজের পাওয়ার ফিউজ

ওভারলোড প্রোটেক্টর:

কম্প্রেসারকে চালু করার জন্য ওএলপি- ওভারলোড প্রোটেক্টর লাগানো হয়। তবে বর্তমানে তিন পিন রিলের জন্য ওএলপি- ওভার লোড প্রোটেক্টর প্রয়োজন হয় না। তবে দুইপিন রিলের সাথে ওএলপি- ওভারলোড প্রোটেক্টর থাকে। কম্প্রেসারে কারেন্ট বেশি প্রবাহ হলে বা কম্প্রেসার বেশি গরম হলে তা বন্ধ করে দেওয়া এর প্রধান কাজ। যাকে ওভার লোড রিলে হিসাবে ধরতে পারেন। ওএলপির দুটা পিন থাকে যা নিউটাল লাইনে কম্প্রেসার এর কমন লাইনে লাগানো থাকে। নিচে ফ্রিজের ওএলপি র ছবি দেওয়া হয়েছে।

ফ্রিজের ওভারলোড প্রোটেক্টর
ফ্রিজের ওভারলোড প্রোটেক্টর

রেফ্রিজারেটর রিলে:

ওএলপির সাথে একটি রিলে দেওয়া থাকে যার কাজ কম্প্রোসার স্টার্ট করা। বর্তমানে রিলেতে তিন পিন থাকে কারণ ওএলপি- যুক্তা থাকে। আর দুইপিনের রিলেতে ওএলপি আলাদা থাকে। রিলেতে স্টার্টিং আর রানিং দুইটা পয়েন্ট থাকে। কম্প্রেসার চালু করার সাথে সাথে কম্প্রেসারে স্টাটিং এবং রানিং উভয় পিনে সাপ্লাই যেয়ে কম্প্রেসার ফুল স্পিডে গেলে স্টার্টি কানেকশন কেটে যায় দিয়ে রানিং থেকে যায়। নিচে ফ্রিজের রিলের ছবি দেওয়া হয়েছে।

রেফ্রিজারেটর রিলে
রেফ্রিজারেটর রিলে

ফ্রিজের ক্যাপাসিটর:

আমরা যেমন ফ্যান বা মটরের সাথে ক্যাপাসিটর ব্যবহার করি তেমনী ফ্রিজ বা রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসারের সাথে একটি ক্যাপাসিটর ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কম্প্রোসারে গতি নিয়ন্ত্রণ, ভোল্টেজ ঠিক রেখে স্টার্ট বা চালু করতে ক্যাপাসিটর ব্যবহার করা হয়। ক্যাপাসিটর সাধারণত প্রতিটা ইলেকট্রিক এন্ড ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে ব্যবহার করা হয়ে থাকে ক্যাপাসিটরের কাজ কি এটা নিয়ে কয়েকটা আর্টিকেল পাবলিশ করা হয়েছে। এখানে ক্লিক করে ক্যাপাসিটর এর সকল ব্যবহার জেনেনিন।

ফ্রিজের ক্যাপাসিটর
ফ্রিজের ক্যাপাসিটর

ফ্রিজের থার্মোস্ট্যাট:

থার্মোস্টেট এক প্রকার ফ্রিজের টেম্পারেচার সেন্সার। এটা ফ্রিজের প্রয়োজনের তুলনার ঠান্ডা বা কুলিং কম বেশি করে থাকে। ফ্রিজের ভিতরে বরফ জমলে থার্মোস্টেট সেন্সর নিয়ন্ত্রণ করে। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ঠান্ডা হলো ফ্রিজের টাইমারকে স্টপ করে দেয়। ফলে ফ্রিজের কলিং সিস্টেম বন্ধ হয়ে যায়। থার্মোস্ট্যাটে ক্যাপোলারী পাইব ইভোরেপোটর সংস্পর্শে থেকে তাপমাত্রা পরিমাণ করে থাকে।

ফ্রিজের থার্মোস্ট্যাট
ফ্রিজের থার্মোস্ট্যাট

ফ্রিজের ডিফ্রোস্ট টাইমার:

রেফ্রিজারেটর ডিফ্রেস্ট টাইমার এর প্রধান কাজ হলো হিটিং এবং কুলিংকে নিয়ন্ত্রণ করা। যার চারটা পিন থাকে যার। টাইমারের উপরে ৩-৪-১-২ নম্বর লেখা থাকে যেগুলো কোন সময় পরিবর্তন হয় না ৩ নং পয়েন্ট ফেইজ এবং ১ নং পয়েন্ট নিউটাল, ৪ কুলিং এর কাজ করে আর ২ হিটিং এর কাজ করে। ৪ আর ২ কুলিং আর হিটিং এর সুইচ হিসাবে কাজ করে। ৮-১০ ঘন্টা কুলিং মোডে থাকে তারপর ১০-২০ মিনিট হিটিং মোডে চলে। এইভাবে ফ্রিজের টাইমার কাজ করে। নিচের ফ্রিজের টাইমারের ছবি দেওয়া হয়েছে।

ফ্রিজের ডিফ্রোস্ট টাইমার
ফ্রিজের ডিফ্রোস্ট টাইমার

ফ্রিজের ডিফ্রোস্ট হিটার:

ডিফ্রোস্ট হিটারের কাজ হলো হিটিংকে মেনটেন্ট করা। রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজে যখন বেশি ঠান্ডা হয়ে যায় বা বরফ জমে যায় তখন ডিফ্রোস্ট হিটার চলু হয়ে যায় এবং হিটিং কে মেনটেন্ট করে। আর যখন হিটিং মেনটেন্ট হয়ে যায় তখন বায়ো মেটাল ডিফ্রোস্ট হিটারের সুইচ বন্ধ করে দেয়। নিচের ফ্রিজের ডিফ্রোস্ট হিটার এর ছবি দেওয়া হয়েছে।

ফ্রিজের ডিফ্রোস্ট হিটার
ফ্রিজের ডিফ্রোস্ট হিটার

ফ্রিজের বায়ো মেটাল:

বায়ো মেটাল হলো একপ্রকার হেভি টেম্পারেচার মিটার। যা ডিফ্রেস্ট হিটার অন অফ করে থাকে। যখনই ফ্রিজে -৫ ডিগ্রি তাপমাত্রার কম হয়ে যায় তখনই বায়ো মেটাল অন হয়ে যায় আর যখন ফ্রিজে +৫ ডিগ্রি তাপমাত্রার বেশি হয়ে যায় তখন বায়ো মেটাল অফ হয়ে যায় ফলো ফ্রিজের ডিফ্রোস্ট হিটার অফ হয়ে য়ায়।

ফ্রিজের বায়ো মেটাল
ফ্রিজের বায়ো মেটাল

ফ্রিজের থার্মাল ফ্রিউজ:

যদি কোন সমস্যার কারণে রেফ্রিজারের বা ফ্রিজে ডিফ্রেস্ট হিটার যখন ৭০ ডিগ্রির উপর টেম্পারেচার হয়ে যায়। তখন ফ্রিজের ভিতরে সিস্টেমে থাকা বায়ো মেটাল খারাপ হয়ে গেলে ডিফ্রেস্ট হিটার লাগাতারে তাপ উৎপাদন করতে থাকে। ফলো ফ্রিজের ফাইবার বডিতে আগুন লাগতে পারে। এমন অবস্থায় থার্মাল ফ্রিজ কেটে যায়। সাধারণত ওভার হিটিং প্রটেক্টর হিসাবে এটা কাজ করে। এটা ফ্রিজের সেফটি ডিভাইস হিসাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

ফ্রিজের থার্মাল ফ্রিউজ
ফ্রিজের থার্মাল ফ্রিউজ

ফ্রিজের কুলিং ফ্যান:

কুলিং ফ্যানের প্রধান কাজ হচ্ছে বাতাস সঞ্চালন করা। কুলিং ফ্যান ফ্রিজের ভিতরে প্রবাহিত বাতাসকে নিচে প্রবাহিত করে। মনে রাখবেন ফ্রিজের শুধু ডিপ অংশ ঠান্ডা হয় বাকি অংশ নরমাল উপরের থেকে ইভোপোরেটর থেকে ঠান্ডা ছড়িয়ে যায়। তাই বলা যায় ফ্রিজ বা রেফ্রিজারেটরের নরমাল অংশে কোন সিস্টেম থাকে না।

ফ্রিজের কুলিং ফ্যান
ফ্রিজের কুলিং ফ্যান

ফ্রিজের ডোর সুইচ:

দেশি বিদেশি সকল ফ্রিজের দরজার সাথে একটি সুইচ থাকে। যেটা ফ্রিজের দরজা বা ডোর খোলার সময় চাপ লাগে ফলে ভিতরে থাকা বাল্ব বা লাইট অটোমেটিক জ্বলে ওঠে যেন কোন ব্যবহার কারীর ভিতরে থাকা খাবার দেখতে কোন সমস্যা না হয়। নিচে ছবিতে কয়েকটি ডোর সুইচ এর ছবি দেওয়া হয়েছে।

ফ্রিজের ডোর সুইচ
ফ্রিজের ডোর সুইচ

রেফ্রিজারেটর লাইট:

প্রতিটা ফ্রিজের ভিতরে লাইট বা বাল্ব দেওয়া থাকে। যার মাধ্যমে ফ্রিজের দরজা খোলা মাত্র লাইট জ্বলে উঠে। বাল্বের সুইচ ফ্রিজের দরজার সাথে সংযুক্ত থাকে ফলে দরজা অন অফ করার সাথে সাথে বাল্ব অন অফ হয়ে থাকে। নিচে ফ্রিজের বাল্ব বা লাইটের ছবি দেওয়া হয়েছে।

রেফ্রিজারেটর লাইট
রেফ্রিজারেটর লাইট

মেকানিক্যাল সিস্টেম:

ফ্রিজের মেকানিক্যাল সিস্টেম হলো প্রেসারের সাথে প্রবাহিত গ্যাস চলাচল করা সকল প্রক্রিয়াধীন সংযোগ বা লাইন যা সংকোচনের দ্বারা কুলিং বা রেফ্রিজারেন্ট সম্পন্ন হয়ে থাকে তাকে বলা যায়। যেমন- কম্প্রেসার থেকে সাকশান লাইন, ডিসচার্জ লাইন, চাজিং লাইন, কনডেন্সার, ফিল্টার, ক্যাপোলারী, ইভোপেরটর, রেফ্রিজারেন্ট কম্পোনেন্ট এর মধ্যে দিয়ে গ্যাস চলাচল পদ্ধতি। তাহলে চলুন ফ্রিজের মেকানিক্যাল সিস্টেম প্রক্রিয়াধীন কম্পোনেন্ট পার্টস্ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনেনি। কারণ এগুলো ফ্রিজের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্রিজের বিভিন্ন অংশের নাম ।

ফ্রিজের মেকানিক্যাল সিস্টেম
ফ্রিজের মেকানিক্যাল সিস্টেম

মেকানিক্যাল সিস্টেমের ৫টি অংশ:

ফ্রিজের মেকানিক্যাল সিস্টেম গ্যাস কিভাবে চলাচল করে ফ্রিজের সম্পূর্ণ সিস্টেম পাঁচটি অংশ কিভাবে কাজ করে নিচের ছবিটিতে বোঝানো হয়েছে আশা করছি। ভালোভাবে পক্ষবেক্ষণ করলে রেফ্রিজারেন্ট বা ফ্রি চলমান প্রক্রিয়া বুঝতে আপনাদের কোন সমস্যা হবে না।

ফ্রিজের কুলিং কম্প্রেসার:

ফ্রিজ বা রেফ্রিজারেটরের মধ্যে প্রধান এবং বিশেষ টুলস্ বা যন্ত্রের নাম হলো কম্পোসার। যার মধ্যে ইলেকট্রিক্যাল এবং মেকানিক্যাল সিস্টেম উভয় কাজ করে। যেমন- বিদ্যুৎ এর মাধ্যমে কম্প্রোসারের ভিতরে থাকা ফ্যানের মটর ঘুরিয়ে গ্যাস কনডেন্সার- ফিল্টার- ক্যাপোলারী- ইভোপেরেটর এর ভিতর দিয়ে উচ্চ প্রেসারে প্রবাহিত করে। ফলে গ্যাস অতিরিক্ত প্রেসারে প্রবাহিত হয়ে কনডেন্সারে উত্তপ্ত হয় তারপর ক্যাপোলারী চিকন পাইপে গিয়ে ঘনীভূত হয়ে ইভোপেরটরকে ঠান্ডায় রুপান্তরিত করে বরফ জমতে সাহায্য করে।

কম্প্রেসার সাকশান লাইন:

ফ্রিজের প্রতিটা কম্প্রোসারে তিনটা পাইব থাকে তার মধ্যে একটা হলো সাকশান লাইন কম্প্রোসারের ইনপুট লাইন। উপরের ছবিটি ভালোভাবে দেখুন। সাকশান লাইনের মাধ্যমে কম্প্রেসারে গ্যাস টেনে প্রবেশ করিয় প্রেসার দিয়ে ডিসচার্জ লাইন দিয়ে বের করে দেয়। যেমন- পানি সেচের মটর একদিক থেকে পানি টেনে আপর দিক থেকে বের করে দেয়। ফ্রিজের বডির ভিতর থেকে ইভোপোরেটর হতে যে পাইপ কম্প্রেসারে যুক্ত হয়ে থাকে তা সাকশান লাইন। কম্প্রেসার, সাকশান লাইন থেকে ইভোপোরেটর- ক্যাপোলারী- ফিল্টার কনডেন্সার থেকে কম্প্রেসার গ্যাস শোষণ করে।

কম্প্রেসার ডিসচার্জ লাইন:

ফ্রিজের প্রতিটা কম্প্রোসারে তিনটা পাইবের মধ্যে যেটি দিয়ে গ্যাস বের হয়ে চেনার উপায় হলো কম্প্রেসারের সাথে যে পাইপ কনডেন্সারের সাথে লাগানো থাকবে সেটা হলো ডিসচার্জ লাইন।  কম্প্রেসার, ডিসচার্জ লাইন থেকে কনডেন্সার- ফিল্টার- ক্যাপোলারী- ইভোপোরেটর থেকে গ্যাস কম্প্রেসার বের করে দেয়। আর এই প্রক্রিয়া বরাবর হওয়ার মাধ্যমে রেফ্রিজারেন্ট কাজ করে ফ্রিজ ঠান্ডা হতে থাকে।

কম্প্রেসার চার্জিং লাইন:

ফ্রিজের কম্প্রোসারে গ্যাস ও লিকুইড তেল রিফিল করার জন্য এই পাইব লাইনটি থাকে। তাছাড়া চাজিং লাইনের তেমন কোন কাজ থাকে না। গ্যাস ও লিকুইড রিফিল করা হয়ে গেলে এই পাইপের মুখটি সব সময়ের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় থাকে। বিষয়টি বেঝার জন্য একটি কম্প্রোসার বাস্তবে দেখতে হবে তারপর পাওয়ার দিয়ে নিষ্কাষণ পদ্ধতি পরিক্ষা করতে হবে। কম্প্রোসার সম্পর্কে বিস্তারিত একটি আর্টিকেল পাবলিশ করা হয়েছে এখানে ক্লিক করে দেখে নিতে পারেন।

ফ্রিজের কনডেন্সার:

কনডেন্সার হলো ফ্রিজের পেছনে খাঁচার মত করে লাগানো থাকে। কনডেন্সার এর কাজ হলো কম্প্রোসার থেকে বের হওয়া গ্যাসকে প্রেসার দিয়ে ঘুরিয়ে সংকোচন করে ফলে কনডেন্সার গরম হয়ে যায়। তবে বর্তমানে বেশ কিছু ব্রান্ডের ফ্রিজের পেছনে নিচের ছবির মত খাঁচা পাইপ থাকে না। এখন ফ্রিজের বডির ভিতর সাইডে দেওয়া থাকছে। যদি দেখেন বাইরে নিচের ছবির মত কেনা কিছু ফ্রিজের বডির সাথে লাগানো নাই তাহলে বুঝে নিতে হবে সেটা ফ্রিজের বডির এক পাশে লাগানো আছে। বিষয়টি বুঝতে হলে যেকোন ফ্রিজ রানিং অবস্থায় বডির পাশে হাত দিলে গরম অনুভব হবে। নিচে ফ্রিজের কনডেন্সার এর ছবি দেওয়া হয়েছে।

ফ্রিজের কনডেন্সার
ফ্রিজের কনডেন্সার

ফ্রিজের ফিল্টার :

কম্প্রেসার থেকে গ্যাস সংকুচিত হয়ে ক্যাপোলারীর মধ্যে যাওয়ার আগে ছেকে ফিল্টারিং বা পরিস্কার হয়ে ক্যাপোলারীর চিকন পাইবে প্রবেশ করে গ্যাসের প্রেসার কন্ট্রোল বা রেফ্রিজারেন্ট করার জন্য প্রস্তুত হয়। নিচের ফ্রিজের কয়েক ধরণের ফিল্টারে ছবি দেওয়া হয়েছে ভালোভাবে দেখলে বুঝতে পারবেন। কারণ এটিও ফ্রিজের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্রিজের বিভিন্ন অংশের নাম ।

ফ্রিজের ফিল্টার
ফ্রিজের ফিল্টার

ফ্রিজের ক্যাপোলারী :

রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস পরিস্কার হয়ে ফিল্টার থেকে ক্যাপোলারীতে প্রবেশ করে প্রতিটা ফ্রিজের ক্যাপোলারী পাইব ৮-১২ ফিট হয়ে থাকে। তাই সেটা কম্প্রেসারের পাশে নিচের ছবির মত জড়ানো অবস্থায় থাকে।

রিজের ক্যাপোলারী পাইব
রিজের ক্যাপোলারী পাইব

ফ্রিজের ইভোপোরেটর:

ইভোপোরেটর হলো ফ্রিজ ঠান্ডা হওয়ার স্থান আমরা যাকে ডিপ অংশ বলে থাকে। নিচের ছবিটি দেখলে বুঝতে পারবেন। ইভোরেটর পাইবের শেষ অংশ কম্প্রেসারের সাথে যুক্ত হয় যাকে বলে সাকশান লাইন। ফ্রিজের ডিপ অংশের চারিদিকে পাইবের মত জড়ানো থাকে যার কারণে সেখানে ঠান্ডা উৎপন্ন হয়ে থাকে।

ফ্রিজের ইভোপোরেটর
ফ্রিজের ইভোপোরেটর

ফ্রিজের রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস:

বর্তমানে ফ্রিজে বেশ কয়েক ধরণের গ্যাস ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে যেসকল গ্যাস বেশি ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে আর৬০০এ বা আর ১৩৪ এ। এখন আর আর২২ গ্যাসের ব্যবহার হয় না। রেফ্রিজারেটর সার্ভিসিং শিখতে হলে আপনাকে অবশ্যই ফ্রিজের রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস সম্পর্ক বিস্তারিত জানতে হবে। ফ্রিজের গ্যাস সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

ফ্রিজের রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস
ফ্রিজের রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস

ফ্রিজের ডোর লক :

প্রতিটা ফ্রিজের দরজার সাথে যে লক বা তালা থাকে সেটিই ডোর লক। নিচে কয়েকটি রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজের দরজার তালা বা লক এর ছবি দেওয়া হয়েছে। ফ্রিজের ডোর লক ফ্রিজের ভিতরে সংরক্ষিত খাবারের নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ডোর লকের গুরুত্ব অনেক ফলে যার জন্য ফ্রিজ কেনার আগে ব্যবহার কারী ডোর লক ছাড়া কিনতে চায় না। তাই এটিও ফ্রিজের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্রিজের বিভিন্ন অংশের নাম ।

ফ্রিজের ডোর লক
ফ্রিজের ডোর লক

ফ্রিজের বিভিন্ন অংশের নাম ও কাজ সম্পর্কে হয়ত আপনারা আজ পরিস্কার ধারণা পেয়েছেন এবং ফ্রিজের প্রতিটা কম্পোনেন্ট এর কাজ সর্ম্পকে বুঝতে পেরেছেন। আমার লেখার মধ্যে যদি কোন ভূল ভ্রান্তি থাকে তাহলে আমাকে কমেন্ট করে জানিয়ে দিন। আমি আমার সর্বোচ্চ জ্ঞান আপনাদেরকে শোয়ার করেছি। আর খুব শিগ্রই এর প্যাকটিক্যাল ভিডিও আমার চ্যানেলে আপলোড করা হবে। ভালো লাগলে লাইক এবং শোয়ার করুন। এছাড়াও আপনি সরকারি আরএসি কোর্সে অংশ গ্রহন করতে পারেন।

About admin

রিপেয়ারিং নিয়ে আপনার পছন্দের বিষয় কি? কোন বিষয়ে আপনি আর্টিকেল চান? কনটেক্ট পেইজে আপনার পছন্দের বিষয় লিখে সেন্ড করুন, আর সার্ভিসিং জনিত সমস্যা থাকলে গ্ররুপে জয়েন্ট করে প্রশ্ন করুন।

Check Also

ইনভার্টার এসির সুবিধা কি

ইনভার্টার এসির সুবিধা কি, ইনভার্টার এসি কিভাবে কাজ করে

আজ আমরা জানবো ইনভার্টার এসির সুবিধা কি, ইনভার্টার এসি কিভাবে কাজ করে। কারণ বর্তমানে আমরা …

4 comments

  1. very good post. Thanks emakarbd.com

  2. আমি এসির কাজ শিখতে চাই এটা আমার ইমো ওয়াটস এপ নাম্বার +9609926017

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

+ 53 = 56

error: Content is protected !!