প্রিন্টার ব্যবহার

প্রিন্টার ব্যবহারের নিয়ম, সব প্রিন্টারের কমন সমস্যা ও সমাধান

যদি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে কিংবা বাড়িতে ব্যবহারের জন্য কোন প্রিন্টার কিনতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে প্রিন্টার ব্যবহারের বেসিক নিয়ম এবং প্রিন্টারের প্রাথমিক সমস্যা ও সমাধান সম্পর্কে জানতে হবে। কারণ ডকুমেন্ট প্রিন্ট অথবা ছবি প্রিন্ট দেওয়ার সময় মাঝে মাঝে প্রিন্টারে কিছু সমস্যা হয়ে থাকে তাই আপনাদের জন্য প্রিন্টার নিয়ে কয়েকটা শিক্ষনীয় আর্টিকেল ধারবাহিক ভাবে প্রকাশ করেছি, যেগুলোর মাধ্যমে আপনি প্রিন্টার ব্যবহারের সময় কোন সমস্যায় পড়লে নিজে নিজে সমাধান করতে পারবেন। তার আগে একটু বেসিক ভাবে প্রিন্টারের প্রকার সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

প্রিন্টার কত প্রকার কি কি:

আমরা বাসাবাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যে সকল প্রিন্টার ব্যবহার করে থাকি তা সাধারণত তিন ধরণের হয়ে থাকে প্রকার যথা-

১. ইঙ্কজেট প্রিন্টার (Inkjet Printer)

যে প্রিন্টারে লিকুইড কালি ব্যবহার করে প্রিন্ট করা হয়ে থাকে তাকে ইনজেক্ট প্রিন্টার বলা হয়। আবার যে সকল প্রিন্টারে কালির ট্যাংক ব্যবহার করা হয় তাকে ইংট্যাংক প্রিন্টার বলা হয়। দেখবেন এখনকার প্রিন্টারের সাথে কালির ট্যাংক পাশে লাগানো থাকে। আর বর্তমানে কালার প্রিন্ট দেওয়ার জন্য ইনজেক্ট প্রিন্টারের চাহিদা অনেক বেশি।

২. থার্মাল প্রিন্টার (Thermal Printer)

থার্মাল প্রিন্টার এমন এক ধরণের প্রিন্টার যে প্রিন্টারে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণে প্রিন্ট পেপারে তাপ দেওয়ার মাধ্যমে প্রিন্ট হয়ে থাকে। যেগুলো বিজনেস প্রতিষ্ঠান, মেডিকেল শপ, মুদি দোকানে রিসিভ দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

৩. লেজার প্রিন্টার (Laser Printer)

লোজার প্রিন্টার হলো আলোর সাহায্যে শুকনা গুড়ো কালি কাগজে প্রিন্ট করে থাকে সাধারণত সাদা কালো প্রিন্ট করার জন্য এটা ব্যবহার করা হয়। ইনজেক্ট প্রিন্টারের তুলনায় সুপার ফাস্ট সাদা কালো প্রিন্ট করা যায়।

এছাড়াও আরো কয়েক ধরণের প্রিন্টার রয়েছে। যেমন-

  • ইমপ্যাক্ট প্রিন্টার (impact printer)
  • ডেইজি হুইল প্রিন্টার (daisy wheel printer)
  • ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টার (dot matrix printer)
  • নন ইমপ্যাক্ট প্রিন্টার(non impact printer)

আর প্রিন্টার উৎপাদন কারী বিশ্বের সেরা কোম্পানির মধ্যে রয়েছে এইচপি, ক্যানন, ইপসন, ব্রাদার্স ইত্যাদি।

প্রিন্টার ইন্সটল করার নিয়ম:

নতুন প্রিন্টার কেনার পর খুব সহজে আপনার ডেস্কটপ অথবা ল্যাপটপে সাথে কানেক্ট করে ড্রাইভার সফট্ওয়্যার ইনস্টল করতে পারেন। প্রতিটা প্রিন্টারের সাথে ড্রাইভার সিডি দেওয়া থাকে। যেগুলো ডিভিডি রাইটারের মাধ্যমে ল্যাপটপে প্রবেশ করিয়ে সাধারণ যেকোন সফট্ওয়্যারের মত ইনস্টল করা যায়। আবার অনলাইন থেকে প্রতিটা প্রিন্টারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ড্রাইভার সফট্ওয়্যার ডাউনলোড করে প্রিন্টার ইনস্টল করা যায়। তবে নতুন প্রিন্টার কোনার পর আপনি দোকান থেকেই প্রিন্টার সেটআপ করে নিতে পারেন কারণ সেখানে কালি, ড্রাম, হেড, কার্টিজ ফিটিং এর মত অনেক বিষয় থাকে যেগুলো দক্ষ প্রিন্টার টেকনেশিয়ান ছাড়া ইনস্টল করা সম্ভব নয়। আপনি যখন প্রিন্টার ক্রয় করবেন সাধারণত বেশির ভাগ বিক্রেতা ড্রাইভার সেটআপ ছাড়া প্রিন্টারে সব কিছু সেটআপ করে দিবে।

প্রিন্টার সমস্যা ও সমাধান :

প্রিন্টারের প্রাথমিক কিছু সমস্যা ও তার সমাধান সম্পর্কে আজ আমি আপনাদের ধারণা দিবো। যেগুলো সব ইপসন এল-130 পিন্টারের আলোকে দেওয়া হবে। আমি কয়েক ধরণের প্রিন্টার ব্যবহার করেছি তার মধ্যে ইপসন এল-130 প্রিন্টার অন্যতম, এখনও  ব্যবহার করি। তবে মনে রাখবেন সব প্রিন্টারের সমস্যা প্রায় একই রকম হয়ে থাকে।

প্রিন্টারে পাওয়ার না আসলে:

আপনার প্রিন্টারে যদি দেখন হঠাৎ পাওয়ার আসছে না তাহলে প্রথমে পাওয়ার প্লাগ, তারপর পাওয়ার কেবল চেক করুন। দরকার হলে দুই পারে খুলে আবার শক্ত করে লাগিয়ে অন করে দেখুন তারপরেও যদি অন বা চালু না হয়, তাহলে পাওয়া লাইন দিয়ে পাওয়ার আসছে কি-না টেস্টার দিয়ে চেক করুন। প্রিন্টারের লাইন পর্যন্ত ভালো ভাবে চেক করুন। সুইচ ভালো ভাবে চেপে ধরে দেখুন অন হচ্ছে কি-না। যদি অন না হয় তাহলে তিনটা কারণে থাকতে পারে ১. পাওয়ার সুইচ সমস্যা ১. পাওয়ার এডাপ্টারে সমসা ৩. প্রিন্টারের সার্কিটে সমস্যা। তবে সাধারণত পাওয়ার সুইচে বেশি সমস্যা হয়ে থাকে.. তারপর পাওয়ার এডাপ্টার। এগুলো নিয়ে পরবর্তীতে এডভান্স লেভেলে আলোচনা করে বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করব।

প্রিন্টার ব্যবহারের নিয়ম :

কালার প্রিন্টার বেশি দিন ব্যবহার করতে হলে পিন্টার বন্ধ করে ফেলে রাখা যাবে না আপনাকে প্রতিদিন অন্তত ২-১ টা প্রিন্ট দিতে হবে। আপনি যদি প্রিন্টার ব্যবহার না করে বন্ধ অবস্থায় রেখে দেন দেখবেন কয়েক সপ্তাহ পরে হেডে জ্যাম হয়ে গিয়েছে। কালির সমস্যা হচ্ছে ইত্যাদি। এজন্য প্রিন্টার ব্যবহারের নিয়ম হলো প্রতিদিন অন্তত একটা করে প্রিন্ট দেওয়া এবং ধুলা বালি থেকে প্রিন্টারকে রক্ষা করা। আর আসল কালি ব্যবহার করা। ভালো কাগজ ব্যবহার করা। তাহলে প্রিন্টার অনেক দিন চলবে সমস্যা কম হবে।

সিঙ্গেল/মাল্টি ফাংশন প্রিন্টার:

বাড়িতে ব্যবহারের জন্য প্রিন্টার নিলে আপনি মাল্টি ফাংশন প্রিন্টার ব্যবহার করতে পারেন। কারণ বাড়িতে বেশি প্রিন্ট দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। আবার মাল্টি ফাংশন প্রিন্টারে স্ক্যান/কপি/প্রিন্ট এক সাথে সব সুবিধা পাওয়া যায়। আর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করতে চাইলে আপনি সিঙ্গেল ফাংশন প্রিন্টার ব্যবহার করতে পারেন কারণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অনেক অনেক প্রিন্ট দেওয়ার প্রয়োজন হয়ে থাকে। সিঙ্গেল ফাংশন প্রিন্টার হলো যে প্রিন্টারে শুধু প্রিন্ট করা যায় আর মাল্টি ফাংশন অল ইন ওয়ান প্রিন্টার হলো যে প্রিন্টারে প্রিন্ট/স্ক্যান/কপি করা যায়।

পেপার জ্যাম/আটকে গেলে:

প্রিন্টারে হঠাৎ পেপার জ্যাম হলে বা পেপার আটকে গেলে প্রথমে প্রিন্টারটি অফ করে দিতে হবে, তারপর পেপার প্রিন্টারে আটকে থাকলে আপনার সুবিধা মত ইনপুট অথবা আউটপুট দিয়ে সাবধানে টেনে বের করতে হবে। তারপর প্রিন্টার অন করে দেখুন প্রিন্ট একটিভ হয়ে আছে কি-না, যদি একটিভ থাকে তাহলে প্রিন্টার সেটিং থেকে প্রিন্ট ক্যানসেল করুন। তারপর আবার নতুন ভাবে প্রিন্ট কমান্ট দিন। তবে নতুন ভাবে প্রিন্ট হতে কিছু সময় নিয়ে কালি টানতে পারে।

প্রিন্টে কালির সমস্যা হলে:

প্রিন্ট দিলে ছবিতে দাগ অথবা লেখা কেটে কেটে প্রিন্ট হলে বুঝতে হবে ইংকট্যাংক প্রিন্টারের হেডের সমস্যা আর ইনজেক্ট প্রিন্টারের কার্টিজের সমস্যা হয়েছে। আর লেজার প্রিন্টারে টোনারের সমস্যা হয়েছে। আসলে বেশির ভাগ সময় কার্টিজ ক্লিনিং করলেই ঠিক হয়ে যায় লেজারের ড্রাম মুছে দিলেই ঠিক হয়ে যায়। তবে কয়েক বার কার্টিজ ক্লিন করলেও যদি লেখাতে বা ছবি তে টান টান দাগ আসে তাহলে বুঝতে হবে প্রিন্ট হেডে বা কার্টিজে সমস্যা হয়েছে সেক্ষেত্রে কার্টিজ বা টোনার পরিবর্তন করতে হবে। কিভাবে প্রিন্টারে হোড ক্লিন করবেন তার ভিডিও নিচে দেওয়া হয়েছে।

প্রিন্ট লিমিট সার্ভিস ইরর:

ইপসন, ক্যানন, এইচপি প্রায় সব ধরণের প্রিন্টারে প্রিন্টের সংখ্যা নির্ধারণ করা থাকে ফলে সেই সংখ্যা পরিমাণ প্রিন্ট করা হলে আপনার প্রিন্টারের সার্ভিস ইরর লেখা আসে। তখন আমরা বিষয়টা না জানার কারণে প্রিন্টার নিয়ে হতাশ হয়ে পড়ি। এক্ষেত্রে একটি ছোট সফট্ওয়্যারের মাধ্যমে প্রিন্টারের লিমিট বাড়িয়ে নেওয়া যায় আবার প্রথম থেকে করে নিতে পারেন। কিভাবে করবেন তার ভিডিও নিচে দেওয়া হয়েছে।

প্রিন্টারে কাগজ জ্যাম হলে:

প্রিন্টার ব্যবহারের নিয়ম মাঝে মাঝে প্রিন্ট দেওয়ার সময় হঠাৎ করে প্রিন্টারে কাগজ আটকে যায়। এ সমস্যাটা বেশির ভাগ হয়ে থাকে স্ট্যাম পেপার প্রিন্ট দেওয়ার সময়। আবার নরমাল কাগজ ব্যবহার করলে একই সমস্যা হয়। আবার ভাজ হওয়া বাঁকা কাগজ ব্যবহার করলে প্রিন্টারে কাগজ আটকে যেতে পারে। তাই পেপার জ্যাম সমস্যা থেকে বাঁচতে হলে সব সময় ভালো মানের 80 জিএমস/ডাবলএ পেপার ব্যবহার করতে হবে এবং ধুলাবালি মুক্ত রাখতে হবে।

সার্ভিসিং এর একটা হিসাবে দেখা গিয়েছে যে বেশির ভাগ সময় প্রিন্টার সার্ভিস রিকুয়ার /পেপার জ্যাম সমস্যা প্রিন্টারের ভিতরে ময়লা জমে হয়ে থাকে। প্রিন্টার খুলে ব্লয়ার দিয়ে বাতাস মেরে পরিস্কার করলে ঠিক হয়ে যায়।

Leave a Reply

35 + = 40

DMCA.com Protection Status
error: Content is protected !!