অনলাইনে আয়ের গাইডলাইন | অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়

অনলাইনে আয়ের গাইডলাইন এর জন্য আপনাকে কি কি করতে হবে সে সর্ম্পকে আজ আমি বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করবো । যেন এই লেখাটি পড়ার পর আপনি সম্পূর্ণ ভাবে বুঝতে পারেন যে অনলাইনে আয় করতে হলে আপনাকে কি কি করতে হবে এবং কিভাবে করতে হবে। অনলাইনে আয়ের জন্য সঠিক পথ কোনটা এবং কি ভাবে অনলাইনে আয় করা সম্ভব।

অনলাইনে আয়ের গাইডলাইন :

বর্তমান বিশ্ব অনলাইনের দিকে দিনে দিনে এগিয়েই চলেছে যার প্রেক্ষিতে অনলাইনে কাজের বিভিন্ন মার্কেট প্লেস তৈরী হচ্ছে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের চাহিদা মত কর্মী দ্বারা অনলাইন কাজ করিয়ে নিচ্ছে। বলতে পারেন এটাও একটা চাকুরী, কিন্তু এটা সাধারণ চাকুরী নয় এটাতে স্বাধীনতা আছে। আপনার ইচ্ছা হলে করবেন ইচ্ছা না হলে করবেন না। অনলাইনে আয়ের সহজ নিয়ম গুলো জানুন।

মোট কথা অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস থেকে বিভিন্ন বায়ারের কাজ নিয়ে তার কাজটি করে দিয়ে টাকা আয় করাকে অনলাইনে আয় বোঝায়। এসব কাজ কোথায় কিভাবে পাবেন ই-মেকার বিডি দেখুন। অনলাইনে আপনি কি কি ভাবে আয় করতে পারেন ধারাবাহিক ভাবে বর্ণনা করা হলো :

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং:

Affiliate মার্কেটিং করেও আপনি প্রতিমাসে বেশ কিছু টাকা আয় করতে পারেন তবে এর কোন লিমিট নেই, আপনার কমিশনের উপর আপনি টাকা পাবেন। আপনি যত বেশি পণ্য সেল করতে পারবেন তার উপর আপনার কমিশন পাবেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি :

Affiliate মার্কেটিং হচ্ছে অন্যের পণ্য আপনি আপনার ওয়েবসাইট, ব্লগসাইট, ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার করে বিক্রি করে দেয়া এবং তার একটা কমিশন নেয়া । যার এ্যাফিলিয়েট করবেন সে আপনাকে তার পণ্যের এটা রেফারেল লিং দিবে, সেই রেফারেল লিং টি আপনাকে বিভিন্ন মাধ্যমে শেয়ার করতে হবে আর ঐ রেফারেল লিং শেয়ার করা পর কেউ যদি ক্লিক দিয়ে দেখে এবং সে যদি ৯০ দিনের মধ্যে সে পণ্যটি ক্রয় করে, তাহলে আপনি সেই পণ্যের কমিশন আকারে টাকা পাবেন আর এটা হলো এ্ফিলিয়েট মার্কেটিং আশা করছি বুঝতে পেরেছেন।

অ্যাফিলিয়েট করার জন্য কি করতে হবে :

Affiliate করার জন্য দেখবেন বিভিন্ন ই-কমার্স ওয়েবসাইটে এ্যাফিলিয়েট অপশন আছে সেখানে সাইন আপ করে আপনার রেফারেল লিং টি নিয়ে আজ থেকে কাজ শুরু করে দিতে পারেন। যেমন- অ্যামাজন, স্যানাপডিল, ইত্যাদি পণ্য বিক্রি সাইট ঘুরে দেখতে পারেন।

সিপিএ মার্কেটিং:

সিপিএ মার্কেটিং হলো এ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর একটি শাখা। সিপিএ মানে ক্রস-পার-এ্যকশন। মানে ক্লিক করা মাত্র আপনি একটা কমিশন পাবেন। সিপিএ মার্কেটিং করেও আপনি প্রতিমাসে বেশ কিছু টাকা আয় করতে পারেন। সিপিএ মার্কেটিং বর্তমানে খুব খারাপ অবস্তায় চলে গিয়েছে। সবাই খারপ পর্ণ লিং শেয়ার করে যেন কেউ লিং পাওয়া মাত্র ক্লিক করে। তবে আমার মতে এটা না করাই ভালো। আপনাদের কাছে আশা করছি আপনারা কেউ পর্ণ লিং শেয়ার করবেন না। সৎ ভাবে আয় করবেন আল্লাহও আপনাকে ভালোবাসবে। এটার মধ্যে পরে বিভিন্ন রেফারেল লিং শেয়ার করা লাগে তাছাড়াও-

ই-মেইল মার্কেটিং:

ই-মেইল মার্কেটিং হলো বিভিন্ন দেশের ই-মেইল সংগ্রহ করার কাজ। আপনাকে বলা হবে বিভিন্ন দেশের রানিং ই-মেইল সংগ্রহ করে দিতে, এবং সে ই-মেইল গুলো নিয়ে বিভিন্ন কোম্পানি তাদের পণ্যর, বিভিন্ন আপডেট, অ্যাড ইত্যাদি ই-মেইলের মাধ্যমে প্রচার করবে। এজন্য টাকা দিয়ে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সার সাইটে ই-মেইল সংগ্রহের কাজ দেয়া হয় এবং বলে দেয় হয় কোন দেশের ই-মেইল সংগ্রহ করতে হবে। সেই কাজগুলো আপনি নিয়ে কিছু টেকনিক খাটিয়ে প্রতি মাসে বেশ কিছু টাকা আয় করে নিতে পারেন।

ফেসবুক মার্কেটিং:

আপনি যদি প্রতিদিন আপনার অজান্তে ফেসবুকে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দেন তাহলে আমি বলবো আপনার জন্য ফেসবুক মার্কেটিং। ফেসবুকের মাধ্যমে সবার সাথে কমিউনিকেশন করে আপনার রেফারেল লিং টি শেয়ার করতে পারেন এবং প্রতি মাসে পার্ট টাইম কাজ করে বেশ কিছু টাকা আয় করে নিতে পারেন। এর জন্য আপনার ফেসবুক ফ্রেন্ডদেরসংখ্যা বেশি করতে হবে। এবং তাদের সাথে কথপথন করে আপনার রেফারেল লিং টি শেয়ার করবেন । তাদের বলতে পারেন তারা যদি কোন পণ্যকিনে তাহলে যেন তার এই রেফারেল লিং এর মাধ্যমে কিনে।

ইউটিউব মার্কেটিং :

ইউটিউব মার্কেটিং দুই ভাবে করা যায় যথা নিচে তুলে ধরা হলো কি কি ভাবে আপনি ইউটিউব মার্কেটিং করতে পারেন ।

প্রথমত: নিজে একটা ইউটিউব চ্যানেল খুলে বিভিন্ন ভিডিও তৈরী করে ‍দিয়ে গুগলের অ্যাডসেন্স নিয়ে রয়েলিটি ইনকাম করা যায়। যদি আপনি আপনার চ্যানেলটা চালু করতে পারেন তাহলে আপনার ইনকাম চলতেই থাকবে। এটা কিন্তু স্থায়ী ইনকাম যা কখোনো বন্ধ হবে না। আপনি হয়তো প্রতিদিনই ইউটিউব চ্যানেল দেখেন কিন্তু একবারও ভেবে দেখেছেন যে কারা এসব ভিডিও দেয়, কেন দেয়, তাদের লাভ কি, আসল কথা এসব তাদের ইনকামের জন্য দেয়। ইউটিউব চ্যানেল দেখার সময় দেখবেন যে মাঝে মাঝে কিছু অ্যাড দেখা যায় যার বিনিময়ে ইউটিউব চ্যানেলের মালিকরা টাকা পায়।

দ্বিতীয়ত: ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে আপনার পণ্য, লিং ইত্যাদি ভালো ভাবে প্রচার করে প্রতি মাসে ভালো একটা টাকা আয় করা সম্ভব। শুধু যদি আপনি ইউটিউব চ্যানেল দিয়ে আপনার ক্যারিয়ার গড়তে চান তাও সম্ভব।বর্তমানে বাংলাদেশের হাজার হাজার মানুষইউটিউব চ্যানেল নিয়ে কাজ করছে শুধু মাত্র তাদের ক্যারিয়ার গড়ার জন্য কারণ তারা জানে এটা কেমন ভাবে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে সাহায্য করে। আপনি যদি অনলাইনে আয়ের গাইডলাইন করার জন্য কাজের খোঁজ করেন, তাহলে অনলাইন কাজের ওয়েবসাইট যেমন-

  • আপওয়ার্ক ডটকম
  • ফাইভার ডটকম
  • ফ্রিল্যানসারডটকম

এর সবার জন্য কাজ উন্মুক্ত তাই যারা নতুন তা ফ্রিল্যানসার ডটকম এ কাজ শুরু করতে পারেন। সার্চ দিলেই হাজার হাজার কাজ পাবেন। কিন্তু আপনি কি কাজ পারেন যেটার মাধ্যমে আপনি আজ থেকে কাজ করতে পারেন। এটা আপনাকে আগে খুঁজে বের করতে হবে। আমি কিছু কাজের নমুনা বলছি—

গ্রাফিক্স ডিজাইন :

অ্যাডবিফটোশপ, অ্যাডবি ইলেস্টেটর দ্বারা যত কাজ করা যায়, আমার মনে হয় সেসব… কাজ আপনি অনলাইনে আয়ের জন্য করতে পারবেন যেমন—

  • লগো ডিজাইন,
  • ব্যানার ডিজাইন,
  • ভিজিটিং কার্ড ডিজাইন
  • ফেস্টন ডিজাইন
  • পোষ্টার ডিজাইন
  • ক্লথ ডিজাইন ইত্যাদি যত ডিজাইন মূলক কাজ আছে আপনি সব করতে পারেন।
  • এছাড়া বিভিন ছবির কাজ, ফটোসপে বিভিন্ন এডিটিং কাজ ইত্যাদি।  

এসইও Search Engine Optimization :

এসইও কি, কিভাবে এসইও করে অনলাইনে আয় করা যায় সে বিষয়ে বিস্তারিত জেনে কাজ করতে পারেন। এসইও নিয়ে আমার কয়েকটা আর্টিকেল রয়েছে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ওয়েব ডিজাইন :

বর্তমানে অনলাইনের সবচেয়ে চাহিদা মূলক কাজ হলো ওয়েবসাইট কে ঘিরে। ওয়েবসাইট দিনে দিনে বাড়ছে এজন্য ওয়েবসাইটের কাজও দিনে দিনে অনলাইনে বাড়ছে। বিভিন্ন দেশের মানুষ ওয়েবসাইটের কাজ অনলাইনে দিয়ে থাকে যা আপনি সহজেই করতে পারেন যদি কাজ জানা থাকে তার মধ্যে হলো-

  • ওয়েবসাইট ডিজাইন
  • এইচটিএমএল সিএসএস কোডিং
  • জাভা স্ক্রিপ
  • জেকুয়েরী
  • রিস্পন্সসিভ ওয়েব ডিজাইন
  • পিএসডি টু এইচটিএমএল
  • বুটস্ট্রাপ
  • ওয়ার্ডপ্রেস
  • সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও)
  • অ্যাপডিজাইন ইত্যাদি কাজের কদর অনেক বেশি একাজ গুলো আপনার জানা থাকলে তো কথায় নাই আপনি আজ থেকে কাজ শুরু করে দিতে পারেন। আর যদি আপনার জানা না থাকে তাহলে কিছু সময় দিয়ে শিখে কাজ করতে পারবেন।

অনলাইনের বিশেষ কাজ সমূহ :

  • গুগল এনালাইটিক্স রিসার্স, অনলাইনে আয়ের গাইডলাইন
  • ডাটা এন্ট্রি ,অনলাইনে আয়ের গাইডলাইন
  • পিডিএফ টু এম এস ওয়ার্ড, অনলাইনে আয়ের গাইডলাইন

ইত্যাদি হাজার হাজার কাজের মধ্যে আপনি একটু অনলাইন মার্কেট গুলো ঘুরে দেখলে বুঝতে পারবেন আপনি কোন কাজটি পারবেন। তাই আর দেরি নয় আগে সাইটগুলো ঘুরে দেখুন তার পর ঠিক করুন।

এছাড়াও- ওয়েবসাইট তৈরী করার মাধ্যমেও আপনি বিভিন্ন ভাবে আয় করতে পারেন। আপনি যদি মনে করেন যে আপনি অনলাইনে কাজ করবেন, শুরু করুন, দেখবেন আপনার আয়ের জন্য কত দরজা খুলে গেছে। শুধু ধর্য ধরে লেগে থাকুন।

অনলাইনে আয়ের যে যোগ্যতা দরকার:

আপনার অনেক শিক্ষাগত যোগ্যতার দারকার নেই আপনাকে বেসিক কিছু জানা লাগবে তা হলো:

১। বেসিক ইংরেজি জানা লাগবে, কারণ আপনাকে বিভিন্ন বায়ারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। যারা আপনাকে অনলাইনে কাজ দিবে তাদের সাথে ম্যাসেজে কথা বলার প্রয়োজন হতে পারে।

২।আপনি যে কাজ করবেন তার ব্যাপারে পূর্ণ ধারণা থাকতে হবে। মানে আপনাকে সে কাজে অনেক দক্ষ হতে হবে। কোন মতেই কাজ থেকে দূরে সরে যাওয়া যাবে না। তাই কাজ বুঝে শুনে জেনে নিতে হবে। যদি আপনি কাজ ঠিক মত ডেলিভারী দিতে ব্যর্থ হন তাহলে কিন্তু পরবর্তীতে আপনার কাজ এবং টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।

৩। আপনাকে ধর্য ধরে কাজের সাথে লেগে থাকতে হবে। প্রথমে আপনাকে কেউ কাজ দিতে চাইবে না কারণ আপনি নতুন, মনে রাখবেন সবার ক্ষেত্রেই এমন হবে। তাই কাজ পাওয়ার জন্য আপনাকে ধর্য ধরে লেগে থাকতে হবে।

৪। আপনি যে কাজ পারেন তার উপর একটা ডেমো বা পোর্টফলিও প্রোফাইল করে রাখতে হবে। কারণ যারা আপনাকে কাজ দিবে তারা আপনার কাজের নমুনাও দেখতে পারে।

৫। আপনার কাজের বা অ্যাকাউন্টের প্রোফাইল ১০০% করার জন্য চেষ্টা করতে হবে। প্রোফাইলের প্রতিটা বিষয় ভালো ভাবে পূরণ করতে হবে। সব সময় মনে রাখবেন যারা  আপনাকে কাজ দিবে তারা আপনার প্রোফাইল আগে ভালোভাবে দেখবে।

টাকা তোলা নিয়ে সমস্যা হলে কি করবেন:

আপনার যদি মনে হয় কাজ করার পর টাকা আমাদের বাংলাদেশে কি ভাবে আমাদের  একাউন্টে আসবে। আপনার যদি ইন্টারন্যাশনাল একাউন্ট না থাকে তাহলে আমাদের দেশের একটা ওয়েবসাইট আছে যারা ডলার কিনে নিয়ে আপনাকে বিকাশের মাধ্যমে পেমেন্ট করবে। আপনার যখন কাজ করে ডলার জমা হবে, আপনি শুধু উক্ত ওয়েবসাইটের একাউন্টে টাকা পার করে দিবেন। তাহলে তারা আপনাকে বাংলাদেশের যেকোন মাধ্যমে টাকা দিয়ে দিবে। আপনি উক্ত ওয়েবসাইটে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন আমি লিং টি নিচে দিলাম।

আশা করছি আপনারা আমার এই অনলাইনে আয়ের গাইডলাইন সম্পর্কে বিস্তারিত বুঝতে পেরেছেন। যদি আপনাদের এই অনলাইনে আয়ের গাইডলাইন কারো কাজে আসে তাহলে আমার এই লিখাটা সার্থক বলে মনে করবো। আর কোথাও যদি আপনাদের বুঝতে সমস্যা হয়  তাহলে আমাকে কমেন্ট করে জানাবেন।

2 Comments

  1. Oprol evorter September 29, 2019

Leave a Reply

DMCA.com Protection Status
error: Content is protected !!