অনলাইনে আয় করার নিশ্চিত উপায় | অনলাইনে আর্নিং টিপস্

অনলাইনে আর্নিং… অনলাইনে আর্নিং…. সবার মুখে মুখে অনলাইনে আর্নিং। অনলাইনে আয় করার নিশ্চিত উপায় কিন্তু আপনারা জানেন কি অনলাইনে আর্নিং কি? কিভাবে অনলাইনে আর্নিং করতে হয়। অনলাইনে আর্নিং বলতে আমরা যা বুঝি বিদেশী বায়ারের কাজ করে টাকা উপার্জন করা। কিন্তু আপনারা কখনো ভেবেছেন কি বর্তমান বাজারে অনলাইনের কাজ কতটা সহজ, কতটা কঠিন? আসলে অনলাইনে কাজ করা অত সহজ নয় কারণ বর্তমানে অনলাইনে কাজের উপর অনেক প্রতিযোগীতা চলছে। এখন ভেবে দেখুন আপনি অনলাইনের বাজারে প্রতিযোগীতার সাথে কাজ করতে পারবেন কি-না। অনেকেই তো চিন্তা করে ফেলেছে সিডি কিনবো বা কোর্স করে কাজ শিখে অনলাইনে কাজ করবো কিন্তু বর্তমানে অনলাইনে কাজের যে অবস্থা সে কথা ভূলে যান। 

কারণ বর্তমানে অনলাইনে আর্নিং করতে হলে অনেক প্রতিযোগীতা করে বায়ারের কাছে থেকে কাজ নিতে হয়। যদি নিজেকে অনলাইনের বাজারে কাজ করার যোগ্য মনে করেন তাহলে অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে পারেন। আর যদি আপনি এখনো নিজেকে যোগ্য হিসাবে গড়তে না পারেন তাহলে আপনি প্রাথমিক পর্যায়ে দুটি সহজ কাজ করে সহজে অনলাইনে ১০০% নিশ্চিত আয় করতে পারেন। সে কাজ দুটি, কি কিভাবে করতে হবে, আয়ের উপায় গুলো বিস্তারিত আজ আপনাদের জানবো।

আজ আমি আপনাদের অনলাইনে আয়ের সহজ দুটি উপায় বলে দিবো এবং কিভাবে করবেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত বলে দিবো সুতরাং আর না ভেবে আজ থেকেই শুরু করে দিন। কয়েক মাসের মাথায় আপনার আর্নিং শুরু হয়ে যাবে এবং স্থায়ী ভাবে হতে থাকবে। তাহলে চলুন আয়ের উপায় দুটি বিস্তারিত জেনে ফেলি।

অনলাইনে আয় করার নিশ্চিত উপায় :

  • ফ্রিতে ব্লগ ওয়েবসাইট করে আয় করা।
  • ইউটিউব ভিডিও তৈরী করে আয় করা।

ব্লগ ও ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় :

ব্লগ ওয়েবসাইট এবং ইউটিউব চ্যানেল দিয়ে আপনি দুই ভাবে আয় করতে পারেন।

  • গুগলের এডসেন্স থেকে আয়।
  • এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়।

ফ্রিতে ব্লগ ওয়েবসাইট করে আয় :

ফ্রিতে ব্লগ ওয়েবসাইট করতে হলে আপনাকে প্রথমেই একটা গুগলের ইমেইল একাউন্ট করে নিতে হবে। তারপর সেই ইমেইল দিয়ে সাইন-ইন করে ব্লগ ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেল তৈরী করতে হবে। আপনি যদি মনে করেন যেকোন একটা কাজ করে আয় করবেন যেমন ইউটিউব অথবা ব্লগিং তাও করতে পারেন। তা কিভাবে করবেন এবং কিভাবে আয় করবেন। আমি কয়েকটা ধাপে আপনাদের বুঝিয়ে বলি।

প্রথম ধাপ: শখ নিয়ে ব্লগিং করা :

আপনি যদি ব্লগ সাইট করতে চান তাহলে আপনার শখ নিয়ে ব্লগিং করুন। কারণ শখ নিয়ে কাজ করলে অনেক সহজ মনে হবে। আপনার মাঝে দেখুন আপনি কি-ভালো পারেন, কি করতে ভালোবাসেন, যেগুলো নিয়ে লিখা-লিখি করলে আপনার মাঝে কোন অলসতা আসবেনা, দরকার হলে অন্য জনের ব্লগ সাইট দেখুন, তারা কিভাবে কি নিয়ে লিখা-লিখি করছে, বেশির ভাগ দেখবেন সবাই তাদের হবি নিয়ে লিখা-লিখি করেছে। আপনি যদি টেকনোলজি নিয়ে কাজ করতে পারেন তাহলে টেকনোলজি নিয়ে ব্লগ করেন, যদি রান্না-বান্না বা কৃষি কাজ করতে ভালোবাসেন তাহলে তাই নিয়ে ব্লগিং করেন মোটকথা আপনি যা পারেন তাই নিয়ে লিখা-লিখি করে ব্লগিং করেন। যেমন- আমি টেকনোলজি নিয়ে লিখা-লিখি করছি এটা আমার হবি। এমনি আপনি একটা নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে ব্লগিং শুরু করুন। তাহলে আয়ের রাস্তা অটোমেটিক চলে আসবে এটা সাধারণ আয়ের মত না স্থায়ী আয়। ব্লগিং করতে করতে এক সময় ছেড়ে দিবেন তাও আপনার আর্নিং হতেই থাকবে।

দ্বিতীয় ধাপ: ফ্রিতে ব্লগ তৈরী :

আপনার ব্লগিং টপিক নিবার্চন করা হয়ে গেলে আপনি ব্লগস্পট.কমে গিয়ে একটা ফ্রিতে ব্লগ তৈরী করে ফেলুন। দরকার হলে ইউটিউবের সাহায্য নিন এবং সেই ব্লগ ওয়েবসাইটটি একটা সুন্দর থিম দিয়ে বিভিন্ন ব্লগ সাইট দেখে দেখে সুন্দর ভাবে সাজিয়ে নিন। অনলাইনে আর্নিং করতে হলে একটা ব্লগ সাইট অতিগুরুত্বপূর্ণ। তার মধ্যে বিশেষ কিছু পেজ থাকতে হবে যে পেজ গুলো অনলাইনে আর্নিং এবং গুগলের এডসেন্স পেতে হলে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যেমন-

  • About Us পেজে আপনার নিজের ও ওয়েবসাইট সম্পর্কে বিস্তারিত লিখে রাখতে হবে।
  • Contact us পেজে আপনার সাথে যোগাযোগের মাধ্যম লিখে রাখতে হবে।
  • Privacy policy পেজে ভিজিটরের গোপনীয়তা সংরক্ষনের কথা লিখে রাখতে হবে।
  • Trams and Conditions পেজে ওয়েবসাইট ব্যবহারের শর্ত সমূহ লিখে রাখতে হবে।

আপনি যদি পেজগুলো সম্পর্কে বুঝতে না পারেন তাহলে আমার ওয়েবসাইট দেখুন এই চারটা পেজ আছে। তা ভালো ভাবে দেখুন-পড়ুন তাহলে আপনি বিস্তারিত বুঝতে পারবেন। আর যদি কোন কিছু বুঝতে সমস্যা হয় তাহলে আমাকে কমেন্ট করুন অথবা ইমেইল করুন।

তৃতীয় ধাপ: ১৫-২০ পোস্ট করা :

আপনার ব্লগ সাইট তৈরী হয়ে গেলে পরপর যেকোন ১৫-২০ পোস্ট করে দিন। কিভাবে পোস্ট বা কনটেন্ট লিখবেন তার নিয়ম বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। আপনি যে পোস্ট গুলো করবেন তা যেন কোথাও থেকে কোন রকম কপি-পেস্ত করা না হয়, নিজে নিজে স্ট্যাডি করে বানিয়ে লিখুন।

চতুর্থ ধাপ: ৪-৫টা পেইজ করা :

এখন আপনার ব্লগ সাইটে ১৫-২০টা পোস্ট আছে। ৪-৫টা পেজ আছে। আপনার সাইটের জন্য এখন আপনি সবার আগে গুগল এডসেন্স এর জন্য আবেদন করুন। গুগল এডসেন্স সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। গুগল এডসেন্স সর্ম্পকে না জেনে গুগলের সাথে কাজ করতে পারবেন না। তাদের অনেক শর্ত বিধি-নিষেধ আছে সেগুলো আগে জেনে নিন।

পঞ্চম ধাপ: সোস্যাল শেয়ার কারা :

এখন আপনার সাইটে গুগলের এডসেন্স আছে, ভালো কনটেন্ট আছে। এবার আপনি বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়াতে যেমন- ফেইসবুক, টুইটার, লিংডইন, ইত্যাদিতে আপনার সাইটের পোস্ট শেয়ার করুন। সবাইকে জানিয়ে দিন আপনার সাইট সম্পর্কে, আপনার সাইটে কি কি আছে সেগুলো শেয়ার করুন। মোটকথা আপনার সাইটের মার্কেটিং করুন। মার্কেটিং করলে যখন সাধারণ মানুষ জানবে আপনার সাইট সম্পর্কে তখন আপনার সাইটের আর্টিক্যাল পড়তে অটোমেটিক ভিজিটর আসবে। আপনার সাইটে যদি ভালো কনটেন্ট দিতে পারেন তাহলে অবশ্যই আপনার আর্নিং হবেই কারণ মানুষ ভালো কিছুই চাই। এভাবে ব্লগিং করে আপনি আর্নিং শুরু করতে পারেন। আমি মনে করি প্রথম পর্যায়ে অনলাইনে নিরাপদ আর্নিং হলো ব্লগিং এবং ইউটিউবিং করা। কারণ এতে তিনটা লাভ আছে কোন লস নাই যথা-

  • আপনাকে সবাই চিনবে, দিনে দিনে আপনার পরিচিতি বাড়বে।
  • সহজে স্থায়ী ভাবে অনলাইনে আর্নিং করতে পারবেন।
  • আপনার ডেমেন হোস্টিং এর কোন টাকা খরচ হবেনা।

ইউটিউব ভিডিও তৈরী করে আয় :

ব্লগিং এর পাশাপাশি আপনি একই ইমেইল আইডি দিয়ে একটি ইউটিউব চ্যানেল করেও গুগলের এডসেন্স এবং এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আর্নিং করতে পারেন। যা সবাই করছে। আপনি ইউটিউব দেখলে বুঝবেন কত হাজার হাজার মানুষ করছে। প্রতিদিন কত ভিডিও দিচ্ছে কেউ তো আর এমনি বিনা করণে এসব করছে না। সবার একটাই উদ্দেশ্য তাহলো আর্নিং করা।

কিভাবে ইউটিউব ভিডিও তৈরী করবেন :

ইউটিউব ভিডিও তৈরী করতে বিশেষ কোন কিছু লাগবেনা শুধু আপনার মোবাইলের ক্যামেরা অথবা কম্পিউটারের স্কিন রেকর্ডিং করে সুন্দর করে কথা বলে চ্যানেলে নিয়মিত ভিডিও আপলোড করতে থাকুন। দেখবেন ধীরে ধীরে আপনার ব্লগ এবং ইউটিউব চ্যানেল ‍দুইটা একসাথে রান করছে। এভাবে একই অ্যাকাউন্ট দিয়ে ব্লগ এবং ইউটিউব চ্যানেল করে অনলাইনে স্থায়ী আর্নিং এর রাস্তা তৈরী করে নিতে পারেন। একই একাউন্ট দিয়ে ব্লগ এবং ইউটিউব করলে কাজটা অনেক গুছানো সাজানো থাকবে। একবার শুধু মাত্র সাইন-ইন করে দুইটাতে একসাথে কাজ করতে পারবেন।

যারা মনে করছেন অনলাইন আর্নিং করবেন তারা প্রথমে ব্লগিং এবং ইউটিউব দিয়ে শুরু করুন। কারণ অনলাইনে কাজ করা এত সহজ না। আপনারা যদি মনে করেন কোথাও থেকে সিডি কিনে কাজ শিখে কাজ করবেন তাহলে বড় ভূল করবেন। কাজ শিখে কাজ করা অনেক কঠিন একটা কাজ। অনলাইন মার্কেটে কাজ করতে হলে আপনাকে যে কোন বিষয়ে ১০০% জানতে হবে তাহলে মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে পারবেন। আর সবার জন্য যেকোন কাজ ১০০% শেখা এতো সহজ নয়। ১০০% কাজ শিখতে পারলে তারপর আপনি অনলাইন মার্কেট প্লেসে বিভিন্ন বায়ারের কাজ প্রতিযোগীতা করে নিতে পারবেন।

আমি আপনাদের অনলাইনে অনলাইনে আয় করার নিশ্চিত উপায় এর যে দুটি কাজের কথা বললাম, আপনি যদি ঠিকমত করতে পারেন তাহলে কয়েক মাসের মাথায় ঠিকই আর্নিং শুরু হবে। এতে কোন ভূল নাই সুতরাং অনলাইনে আর্নিং করতে চাইলে আগে একটা ব্লগ এবং ইউটিউব চ্যানেল করে কাজ শুরু করুন। যদি এ বিষয়ে আরো কিছু জানার থাকে তাহলে আমাকে কমেন্ট করতে ভূলবেন না। আর আমার ফেইসবুক পেজে লাইক দিন এবং নিয়মিত নতুন নতুন তথ্য পেতে আমার ওয়েবসাইট ফলো করুন।

2 Comments

  1. MD Habibur Rahman October 26, 2019
    • admin October 27, 2019

Leave a Reply

DMCA.com Protection Status
error: Content is protected !!