অফ পেইজ অপটিমাইজেশন। Off Page SEO [Full Update]

অফ পেইজ অপটিমাইজেশন হলো একথায় ওয়েবসাইটের মার্কেটিং করা। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের এটা শেষ ধাপ। ওয়েবসাইট তৈরীর পর গোটা অনলাইন জগতে বা ইন্টারনেটে ভাইরাল করাকে অফ-পেজ এসইও বোঝায়। আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইট অনলাইন জগতে ভাইরাল করতে না পারেন তাহলে আপনার ওয়েবসাইট কোন কাজে আসবেনা। তাই সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনে অফ পেজ এসইও অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অফ-পেজ এসইও করতে কারো ওয়েবসাইটের কোন লগিন আইডি লাগবে না।

এটা সম্পূর্ণ আলাদা ভাবে করা যায়। ওয়েবসাইট করার পর ইন্টারনেট জগতে ছড়িয়ে দিতে বা ভাইরাল করতে হলে আপনাকে অফ-পেজ এসইও করতে হবে। অফ পেইজ অপটিমাইজেশন কিভাবে করতে হয় বা সবাই কিভাবে করে তার বিভিন্ন দিকগুলো আজ জেনে নিবো। নিম্নে অফপেজ এসইও কিভাবে করতে হবে সে বিষয় গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত ধারাবাহিক ভাবে জেনেনি।

তবে সবকথার শেষকথা গুগল কিসের কারণে আপনার ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পাতায় নিয়ে আসবে তা কেউ সঠিক বলতে পারেনা। গুগলের বিভিন্ন অ্যালগরিদম রয়েছে তার মাধ্যমে গুগল বিভিন্ন সাইটকে র‌্যাংকিং করাই। তবে এর মধ্যে যেগুলো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো সম্পর্কে জেনেনি। এভাবে সাধারণত এসইওতে সবাই তাদের সাইট গুগলে র‌্যাংকিং করায়।

  • সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মার্কেটিং
  • বিভিন্ন ফোরাম পোস্টিংয়ের মাধ্যমে মার্কেটিং
  • ওয়েব 2.0 সাইট ব্যবহার করে। যেগুলোকে ছোট ব্লগ সাইট বলে।
  • বড় বড় ওয়েবসাইটের রেফারেন্স নিয়ে।
  • বিভিন্ন ওয়েব সাইটের লিং নিয়ে রেফারেন্স নিয়ে।
  • বিভিন্ন সাইট থেকে টাকা দিয়ে রেফারেন্স নিয়ে লিং কিনে।
  • প্রাইভেট সাইট তৈরী করে।

সোস্যাল মিডিয়ায় মার্কেটিং :

ওয়েবসাইট তৈরী করার পর তার বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়াতে মার্কেটিং করতে হবে। সোস্যাল মিডিয়াতে আপনার সাইটের বেশি প্রচারপ্রচারণা হলে সবাই তা নিয়ে আলোচনা করলে আপনার সাইট সম্পর্কে গুগল বুঝতে পারে এবং র‌্যাংক বাড়ে। কারণ যে কোন কিছু মার্কেটিং করা জন্য সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো সোস্যাল মিডিয়া। বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের বিভিন্ন প্রডাক্ট সোস্যাল  মিডিয়াতে মার্কেটিং করে বিশাল পরিমানে সেলস আনছে। মানুষ প্রতিদিন বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে থাকে যার কারণে এসব সোস্যাল মিডিয়ার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন মার্কেটিং করা হয়।

যেমন- ফেইসবুক, টুইটার, ইনস্টগ্রাম, লিংকইন, ইত্যাদিতে পেজ করে নিজের সাইট বুষ্ট করে প্রচার করা।

অফপেজ এসইওর মূলমন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ টিপস্:

বাস্তব জগতে মানুষের পরিচয় কিভাবে হয়? একজন মানুষ অন্যজন মানুষকে ভালো বললে সে ভালো বলে বিবেচিত হয় কিন্তু অনলাইন জগত একটু আলাদা, এক ওয়েবসাইট অন্য ওয়েবসাইটকে ভালো বললে তার র‌্যাংকিং বাড়ে সে ভালো হয় কিন্ত অনলাইন জগতে একটাই পার্থক্য সেটা হলো অনলাইনে মুখে না বলে ওয়েবসাইটে লিংক দেওয়ার মাধ্যমে সেটার পরিচয় হয়ে থাকে। কারণ আপনার ওয়েবসাইট যদি ভালো কোয়ালিটির হয় সবাই তো আপনার কোয়ালিটির প্রসংশা করবেই এবং যে প্রসংশা করবে তার সাইটে আপনার সাইট সম্পর্কে কথা বলবে লিংক দিবে তখনই গুগল বুঝবে আপনার ওয়েবসাইট ভালো, তখন গুগল আপনার সাইটকে র‌্যাংকে নিয়ে আসবে। এভাবে অনলাইনে সবাই সবার কাছে পরিচিত হয় আর এটাই হলো অফ-পেই এসইও। অন-পেজ এসইওর পরে অফপেজ এসইও কাজ

অফ পেইজ অপটিমাইজেশন মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো লিংক বিল্ডিং করা। এসব লিং বিল্ডিং বিভিন্ন ধরনের হয়। বেশির ভাগ মানুষ তার ওয়েবসাইটের এসইও করার জন্য নিজেই নিজের সাইটের বিভিন্ন ভাবে লিং বিল্ডিং করে থাকে যেটা গুগলের পলিসির বাইরে। কারণ অনলাইনে কে কাকে বিনা করণে লিং দিবে বলেন? তাই আপনাদের আজ বলবো সবাই তাদের ওয়েব সাইটের এসইও করা জন্য কিভাবে লিং বিল্ডিং করে।

বিভিন্ন ফোরাম পোস্টিং এর মাধ্যমে লিং জেনারেট:

অনলাইনে বিভিন্ন ফোরাম ওয়েবসাইট রয়েছে। ফোরাম ওয়েবসাইট হলো সেসব ওয়েবসাইট যেখানে মানুষ তাদের মতামত সমস্যা বিভিন্ন বিষয় শেয়ার করে যেমন রেডিট.কম বর্তমানে বিশ্বের একনম্বর ফোরাম সাইট। এসব সাইটের লিং নেওয়ার জন্য সাবাই বিভিন্ন পোস্ট করে তার মধ্যে তাদের লিং থাকে। একটা পোস্টে সাথে লিং শেয়ার করে দিলে গুগল মনে করে তাদের সাইট ভালো এসব ফোরামে তাদের সাইট নিয়ে কথা হচ্ছে তখন তার সাইট গুগলের র‌্যাংকে নিয়ে আসে।

ওয়েব 2.0 সাইট ব্যবহার করে লিং জেনারেট:

ওয়েব 2.0 সাইট হলো যেগুলোকে ছোট ব্লগ সাইট হিসাবে ধরা হয় যেমন- ব্লগস্পট, ওয়ার্ডপ্রস ইত্যাদি সাবডোমেন দেয় যেসব ওয়েবসাইট, সেসব ওয়েবসাইট যে কেউ ফ্রিতে খুলতে পারে। বেশির ভাগ মানুষ কি করে তাদের মূল ওয়েবসাইটের জন্য এসব ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরী করে, দিয়ে সেখানে ইচ্ছমত তার মূল সাইটে লিং দিতে থাকে যেন তাদের মূল ওয়েবসাইট গুগলে র‌্যাংক করে। এগুলে গুগলের কাছে মিডিয়াম লিং হিসাবে পরিচিত হয়।

শক্তিশালী মূ্ল্যবান লিং বিল্ডিং :

যেসব ওয়েবসাইট গুগলের কাছে টপ রেজাল্টে আছে, যাদের ডোমেন অথরিটি, পেজ অথরিটি অনেক বেশি, সেসব ওয়েবসাইটের লিং হলো অনেক মূল্যবান। আপনাকে এসব হাই অথরিটিপূর্ণ ওয়েবসাইট তখনি লিং দিবে যখন আপনার সাইটে কোয়ালিটি থাকবে। এছাড়া কখোনো এসব সাইটের লিং পাওয়া সম্ভব নয়। কারণ আপনার সাইট যদি ভালো না হয় তাহলে সে আপনাকে ভালো বলবে কেন? কারণ আপনি তো এখন জানেন, লিং দেওয়ার মাধ্যমে ওয়েবসাইটেকে ভালো বলে পরিচিত করানো হয়। এজন্য ভালো না হলে কখোনো এসব বড় সাইট থেকে লিংক পাওয়া সম্ভব নয়।

বড়বড় ওয়েবসাইটের রেফারেন্স লিং নিয়ে:

বড় বড় ওয়েবসাইট আপনাকে যখন লিংক দিয়ে রেফার করবে তখন অটোমেটিক আপনার ওয়েব সাইট গুগলে র‌্যাংক করবে। কারণ গুগল নিয়মিত দেখে কোন কোন ওয়েবসাইট কাকে কাকে লিং দিচ্ছে। এভাবে আপনার সাইট লিং পেলে সহজে গুগলে র‌্যাংকিং করবে।

বিভিন্ন সাইট থেকে টাকা দিয়ে রেফারেন্স লিং কিনে:

আপনি যদি চান আপনার সাইটকে গুগলে তাড়াতাড়ি র‌্যাংক করুক তাহলে বড় বড় সাইট যেসব সাইটে ভিজিটর অনেক বেশি সেসব সাইটের লিং টাকা দিয়ে কিনে নিতে পারেন। কারণ বর্তমানে কার কাজ আছে যে আপনাকে ফ্রিতে লিংক দিবে। তাকে গিয়ে সরাসরি টাকা অফার করেন দেখবেন সে লিং দিতে রাজি হবে। কারণ হাজার লিংকের থেকে অথরিটি সাইটের লিংকের অনেক মূল্য রয়েছে।

প্রাইভেট ওয়েবসাইট তৈরী করে:

নিজে অনেকগুলো প্রাইভেট সাইট করেও নিজের মধ্যে লিং দেয়া নেয়া করতে পারেন। এইভাবে প্রাইভেট সাইটে করা অনেক টাকার ব্যাপার তবে একবার করতে পারলে আপনি প্রতিমাসে অনেক টাকার লিং বিক্রি করতে পারবেন। তবে এটা সবাই গোপনে করে গুগল কে বুঝতে দেয়না যে সব ওয়েবসাইটের মালিক একজন। কারণ যদি গুগল বুঝতে পারে এসিওর জন্য এতগুলো সাইট একজন করেছে তাহলে গুগলের কাছে ধরা খাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তবে আপনার বিভিন্ন বিজনেসের জন্য যদি করেন তাহলে হয়ত সমস্যা নাই।

অনেক ভাবে আপনাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি অফ-পেজ এসইও সম্পর্কে বিস্তারিত অফ-পেজ এসইও কিভাবে করতে হয়। অফ-পেজ এসইও কেন করতে হয়, অফ-পেজ এসইওর লাভ কি, সবাই কিভাবে অফ-পেজ এসইও করে, এখন আপনি যদি একটু এনালাইসিস করেন তাহলে অফ-পেজ এসইও পরিস্কার হয়ে যাবে। এসইও সম্পর্কে আরে জানতে এসইও ক্যাটাগরিতে সার্চ করতে পারেন অথবা এখানে ক্লিক করুন।

এসইও বিষয়টা অনেক বড় একটা বিষয় একবারে সব লিখে শেষ করা সম্ভব নয় তাই এসইও নিয়ে কোন কিছু জানার থাকলে আমাকে কমেন্ট করতে ভূলবেন না। আরো জানতে এখানে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

error: Content is protected !!