নতুন ফ্রিজ চালানোর নিয়ম | ফ্রিজে খাবার সংরক্ষন টিপস্

নতুন ফ্রিজ চালানোর নিয়ম না জেনে আমরা অজানা কিছু ভূলের শিকার হয়ে যায়। যার ফলে পরবর্তীতে আমাদের বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয়। ফলে ফ্রিজ ঠিক করার জন্য আমাদের পকেট থেকে অনেক টাকা খসে যায়। এজন্য আজ আমি আপনাদের জন্য ফ্রিজ চালানোর নিয়ম এবং ফ্রিজে খাবার সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে এসেছি। যে বিষয় গুলো ফলো করলে আশা করছি নতুন ফ্রিজ চালাতে কোন সমস্যা হবে না এবং ফ্রিজের সংরক্ষিত খারার নিরাপদে থাকবে। তাহলে কথা না বাড়িয়ে চলুন নতুন ফ্রিজ ব্যবহারের নিয়ম সমূহ এবং ফ্রিজে খাবার সংরক্ষন নিয়ম বিস্তারিত জেনে নি। নতুন ফ্রিজ চালানোর নিয়ম এবং ফ্রিজে খাবার সংরক্ষন নিয়ম গুলো নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। আশা করছি এগুলো ফলো করলে আপনাদের নতুন ফ্রিজ চালাতে কোন সমস্যা হবে না। তাহলে চলুন বিষয় গুলো জেনে নি।

নতুন ফ্রিজ ব্যবহারের নিয়ম :

ফ্রিজ কিনে নিয়ে আসার পর সঠিক ভাবে নতুন ফ্রিজ ব্যবহারের কিছু নিয়ম কানুন থাকে। যেগুলো সঠিক ভাবে ফলো না করলে, নতুন ফ্রিজ ব্যবহারের নিয়ম না জেনে ব্যবহার করলে, সব কিছু না জেনে ফ্রিজ চলু করলে এবং খাবার সংরক্ষণ করলে অনেক সমস্যায় পড়তে হতে পারে সে বিষয় গুলো আজ আমরা জনবো। তাহলে চলুন বিষয় গুলো জেনে ফেলি ।

নতুন ফ্রিজ চালু করার নিয়ম :

নতুন ফ্রিজ চালানোর নিয়ম গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্ব পূর্ণ বিষয় হলো ফ্রিজ গাড়িতে করে বাড়িতে ডেলিভারি নেওয়ার পর বা এক জায়গা থেকে অন্য জায়াগতে গড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে ফ্রিজে লাইন দিয়ে অন করবেন না। কারণ ফ্রিজ যখন গাড়িতে থাকে তখন ফ্রিজে ভিতরে থাকা গ্যাস গাড়ির ঝাকুনি খেয়ে সংকুচিত হয়। ফলে সাথে সাথে লাইন দিলে গ্যাস লাইন বন্ধ হয়ে ফ্রিজের সমস্যা হতে পারে। এজন্য কয়েক ঘন্টা পর ফ্রিজে কারেন্ট লাইন দিন।

ফ্রিজে কমা মাল্টিপ্লগের ব্যবহার :

নতুন ফ্রিজ কিনে এনে আমরা যে ভূলটা করি তা হলো প্রথমত মাল্টি প্লাগে ফ্রিজ অন করে ব্যবহার করি, ফলে দুই এক দিনের মধ্যে ফ্রিজের মাল্টিপ্লগ গরম হয়ে পুড়ে গলে যায়। তখন থেকে ফ্রিজের বিভিন্ন সমস্যা হতে থাকে। তবে বর্তমানে ফ্রিজের অনেক দিন গ্যারেন্টি থাকে। কিন্তু ফ্রিজের গ্যারেন্টি থাকলেও ফ্রিজ নষ্ট হলো অনেক ঝামেলাই পড়তে হয়। যারা ফ্রিজের ঝামেলাই পড়েছেন তারা হয়ত বিষয় টা জানেন। এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে আপনাকে ফ্রিজের জন্য একটা কম্মাইন সহ 3/20 তারের ডাইরেক্ট বোর্ড সংযোগ করে ফ্রিজ চালু করতে হবে।

New fridge operating guide- How to use power supply plug নতুন ফ্রিজ চালানোর নিয়ম

ভোল্টেজ স্টাবিলাইজারের ব্যবহার :

আগেকার ফ্রিজে ভোল্টেজ স্টাবিলাইজার ব্যবহার না করলে বিভিন্ন সমস্যা তৈরী হতো। কিন্তু বর্তমানে ফ্রিজ প্রযুক্তির অনেক উন্নয়ন হয়েছে। যেমন ফ্রিজে অটো কুলিং সিস্টেম আপডেট, কম্পেসর আপডেট, ফ্রিজের গ্যাস আপডেট ইত্যাদির কারণে বর্তমানে ফ্রিজে ভোল্টেজ স্টাবিলাইজার ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। তবে যারা ব্যবহার করবেন- ভোল্টেজ স্টাবিলাইজ সম্পর্কে আগে জেনে নিবেন। যেমন- ডিলে টাইম, ওভারলোড, লো-ভোল্ট কানেকশন ইত্যাদির মত বিষয় গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত।

প্লাগের লুজ কানেকশন এড়ানো :

আপনি ফ্রিজে ভালো মানের মাল্টিপ্লাগ বা কম্মাইন ব্যবহার করলেন! কিন্তু দেখা যাচ্ছে- সেখানে প্লগ দিলে নড়ে বেড়াছে তাহলে কোন লাভ নেই। মনে রাখবেন কখনো লুজ কানেকশন রাখা যাবে না। দরকার হলে আপনার টেকনিশিয়ান কে দিয়ে কানেকশন টাইট করে নিন। কম্মাইন টাইট না করা গেলে পরির্বতন করে ফেলুন। কোন অবস্থাতে দূর্বল খারাপ লুজ কানেকশন রাখা যাবে না।

ফ্রিজের বডি গরম হচ্ছে কি-না :

ফ্রিজে কারেন্ট লাইন দেওয়া পর- ইনার কন্ডেন্সার যুক্ত ফ্রিজের বডি গরম হতে থাকে সেজন্য আপনি বডিতে (সাইডে) হাত দিয়ে দেখুন গরম হচ্ছে কি-না। কারণ ফ্রিজের বডি গরম হলে ভিতর ঠান্ডা হবে। এভাবে কয়েক ঘন্টা ফ্রিজ ফাঁকা রেখে নতুন ফ্রিজ ঠান্ডা করুন। বর্তমানের ফ্রিজ সব অটো থার্মোস্ট্যাট ব্যবহার করা হয় ফলে প্রয়োজন মত টেম্পারেচার নিয়ে অটোমেটিক বন্ধ হয় আবার চালু হয়। মনে রাখবেন এটা কোন সমস্যা নয়।

ফ্রিজ রাখার স্থান নির্বাচন :

নতুন ফ্রিজ কিনে আনার পড় ফ্রিজ রাখার একটি সঠিক স্থান নির্বাচন করুন। যেখানে ফ্রিজ টি স্থায়ী ভাবে রাখা হবে। এমন জায়গা নির্বাচন করবেন যেখানে ফ্রিজ রাখলে নড়া চড়া করবে না আবার দেওয়ালের সাথে ঘেষে থাকবে না। সব সময় ফ্রিজ দেওয়াল থেকে একটু দুরে স্থাপন করুন। ফ্রিজ খোলামেলা জায়গাতেই রাখুন যেমন- ডাইনিং রুম, তাই বলে গরম স্থান বা রোধে রাখা যাবে না আবার ফার্ণিচারের সাথে লাগিয়ে রাখা যাবে না ।

ফ্রিজে খাবার সংরক্ষন নিয়ম সমূহ :

ফ্রিজ কেনার পর আমরা খাবার সংরক্ষনে অনেক কিছু ভূল করে থাকি যেগুলোর কারণে খারের সমস্যা এবং ফিজের সমস্যা হয়ে থাকে। নতুন ফ্রিজ চালানোর নিয়মের সাথে খাবার সংরক্ষন পদ্ধতি গুলো জেনে নি।

New fridge operating guide -নতুন ফ্রিজ চালানোর নিয়ম

ফ্রিজে খাবার সংরক্ষণের নিয়ম :

আমরা কি করি কোরবানির সময় আসলেই গরুর গোস্তো গাদা-গাদি করে ফ্রিজের ডিপ অংশ ভর্তি করে ফেলি, ফলে এমন অবস্থা হয়ে যায় ফ্রিজে কুলিং সিস্টেম আর ঠিক মত কাজ করে না, তখন সহজে আর বরফ জমে না। আর যদিও বরফ জমে, তখন হয় কি ফ্রিজের সব গোস্তো জমে এটা পাথর হয়ে যায়। যা ফ্রিজ বন্ধ না করে বের করা অসম্ভব হয়ে দ্বাড়ায়। আপনি যদি ফ্রিজ ভর্তি করে রাখতে চান তাহলে পলিব্যাগে করে ছোট ছোট পুটলা করে ভাগে ভাগে সাজিয়ে রাখুন। ভর্তি ফ্রিজে বরফ জমতে প্রায় 12-16 ঘন্টা লাগতে পারে।

ফ্রিজের তাপমাত্রা কত রাখা উচিত :

বর্তমানের সব ফ্রিজের কুলিং সিস্টেম অটেমেটিক হয়ে থাকে। ঠান্ডা হতে যত সময় লাগবে ঠিক তত সময় ফ্রিজ চলবে তারপর বন্ধ হয়ে যাবে। ওয়ালটন ফ্রিজের তাপমাত্রাও ঠিক একই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে তবে ফ্রিজে বরফ জমে গেলে 3-5 এর মধ্যে ফ্রিজের তাপমাত্রা রাখা উচিত। যদি আপনি তাড়া তাড়ি ঠান্ডা করতে চান তাহলে ফুল ভলিয়াম দিতে পারেন। ভলিয়ামের ব্যাপার নিয়ে চিন্তার কোন কারণ নেই। বর্তমানের ফ্রিজ অটোমেটিক তাপমাত্রা নিয়ে বন্ধ হয় আবার চালু হয়ে থাকে।

ফ্রিজের খাবার গ্রহনের নিয়ম :

বরফ জমা খাবার ফ্রিজ থেকে বের করলে তা আর দ্বিতীয় বারের মত ফ্রিজে রেখে খাবার উপযোগী থাকে না। তাই মাছ-মাংস, দুধ ডিম ডিপ থেকে বের করলে রান্ন করে খেয়ে নিতে হবে, নতুনবা সেটা স্বাস্থ্য সম্মত থাকে না। এজন্য আপনি ছোট ছোট কন্টেইনার বা পলিব্যাগে খাবার সংরক্ষন করুন, যেন এক বার বের করলে সব খেয়ে নিতে পারেন।

ফ্রিজে শাক-সবজি, ফল-মূল রাখার নিয়ম :

মনে রাখবেন ফ্রিজে শাক-সবজি, ফল-মূল রাখার জন্য সব সময় নরমাল অংশ ব্যবহার করুন, ডিপ অংশে রাখবেন না। আপনি যদি ডিপ অংশে শাক-সবজি, ফল-মূল রাখেন তাহলে তা খাবার উপযোগীতা হারাবে এবং স্বাদ ও গুনাগুন নষ্ট হয়ে যাবে। শাক-সবজি পলেথিন ব্যাগে রাখুন তাহলে শুকিয়ে যাবে না। ডিম রাখলে তা ধুয়ে রাখুন নতুবা ফ্রিজের ভিতরে পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাবে। অন্য কাঁচা খাবারে জীবানু যুক্ত হয়ে যাবে।

গরম খাবার সংরক্ষণ করার নিয়ম :

ফিজে সরাসরি গরম খাবার সংরক্ষন করা যাবে না। আর ভূলেও গরম খাবার কখনও ফ্রিজে রাখবেন না। আপনি রান্না করা গরম খাবার স্বাভাবিক তাপ মাত্রায় ঠান্ডা করে তারপর ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। এতে ফ্রিজের কুলিং সিস্টেম থার্মোস্ট্যাট কেন ভূল বুঝবে না। ফলে ফিজের কোন সমস্যা হবে না। মনে রাখবেন বর্তমানে ফ্রিজের প্রযুক্তি দিনে দিনে আপডেট হচ্ছে।

ফ্রিজের নরমাল অংশে রান্ন করা খাবার রাখুন এবং প্রতিটা খাবার টিফিন বাটির মত ঢাকনা যুক্ত পাত্রে সংরক্ষণ করুন। এতে ফ্রিজ ও খাদ্যে খারাপ, দুটোই পরিস্কার স্বাস্থ্যকর থাকবে, গন্ধ বা নোংরা হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।

ফ্রিজের কিছু সাধারণ সমস্যা :

বর্ষাকালে, শিতে বা স্যাঁত-স্যাঁতে আবহাওয়াতে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমান বেশী থাকায় ফ্রিজের বডিতে ফোঁটা ফোঁটা ঘামের মত পানি জমতে পারে, আপনার ফ্রিজের বড়িতে যদি এমন ঘাম জমে তাহলে তা শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে দিন।

হঠাৎ ফ্রিজ বন্ধ হলে :

যদি হঠাৎ ফ্রিজ বন্ধ হয়ে যায় বা ফ্রিজের বিদ্যুতের লাইন না পাই। তখন প্রথমে আপনার ফ্রিজের কম্মাইন বোর্ডের সকেট পরিক্ষা করুন ঠিক আছে কি-না। ফ্রিজে হতে লাইন সকেটে বিদ্যুত যাচ্ছে কি-না চেক করুন। যদি ফ্রিজের সাথে ভোল্টেজ স্টাবিলাইজার ব্যবহার করেন তাহলে ফ্রিজের প্লাগ লাইন ভোল্টেজ স্টাবিলাইজার হতে খুলে সরাসরি বোর্ডের সকেটে লাগিয়ে দেখুন ফ্রিজ অন হচ্ছে কি-না। হঠাৎ ফ্রিজ বন্ধ হলে কি করবেন বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

যদি আমার লিখাটি আপনাদের কাজে আসে তাহলে আমি নিজেকে সার্থক মনে করবো। ফ্রিজ সার্ভিসিং নিয়ে আমার আরো কয়েকটা আর্টিকেল আছে সেগুলো দেখুন ভালো লাগলে শেয়ার করুন। আর কোন বিষয়ে জানার থাকলে কমেন্ট করুন সে বিষয়ে আপনাদের জন্য আর্টিকেল প্রকাশ করবো।

Leave a Reply

error: Content is protected !!