মাল্টিমিটার ব্যবহার করার নিয়ম। ছবি সহকারে মাল্টিমিটারের বিভিন্ন অংশ পরিচিতি ও ব্যবহার।

সার্ভিসিং করতে হলে প্রতিটা সার্ভিসিং টুলস সম্পর্কে যেমন বেসিক ধারণা থাকতে হবে তেমনী মাল্টিমিটার ব্যবহার সম্পর্কে বেসিক ধারণা থাকতে হবে। সার্ভিসিং বা কোন কিছু মেরামত করতে হলে মাল্টিমিটারের ব্যবহার জানা অত্যন্ত জরুরী। ইলেকট্রিক এবং ইলেকট্রনিক্সের কাজ সহজ করতে মাল্টিমিটার অনেক ভূমিকা রাখে। এজন্য মাল্টিমিটার ব্যবহারের নিয়ম বিভিন্ন অংশের নাম প্রাথমিক পর্যায়ে জানা অতি জরুরী। তাই আজ আমরা এনালগ মাল্টিমিটারের বিভিন্ন অংশের পরিচিতি ও কাজ সম্পর্কে জেনে নিবো। তবে ডিজিটাল এবং এনালগের মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য নেই। ডিজিটালে লিখা ওঠে আর এনালগে কাটা রিডিং দেয়, ডিজিটাল মাল্টিমিটার এর ব্যবহার নিয়ে অন্য একটা আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। আজ আমরা এনালগ মাল্টিমিটার সম্পর্কে জানবো। তাহলো চলুন মাল্টিমিটারের বিভিন্ন অংশ ছবি সহকারে জেনে ফেলি।

Multimiter Redding Show Display: এনালগ মাল্টিমিটারের ডিসপ্লেতে কাটার সাহায্যে আমাদের প্রয়োজনীয় ‍রিডিং ‍দিয়ে থাকে। আমরা যখন কোন কিছু পরিক্ষা করার জন্য মিটারে সংযোগ দিয়ে মিটার সিলেক্ট করি, তখন সে অনুযায়ী কাটা আমাদের যে রিডিং দেয়। তা আমাদের রেজাল্ট হিসাবে গণ্য হয়। আর এটা আমরা মিটারের যে অংশের সাহায্যে দেখি তাকে ডিসপ্লে বলা হয়।

চিত্র: এনালগ মাল্টিমিটারের ডিসপ্লে

Multimiter Redding Show Display

Multimiter Redding Left Side Pointer- Adjusts Control: মাল্টিমিটারের ডিসপ্লের নিচে একটা মাইনাস স্কু ড্রাইভার থাকে। যার সাহায্যে মিটারের কাটা বাম দিকে এডজাস্ট করা হয়। অনেক সময় দেখবেন মিটারের কাটা ডানে ঠিক আছে কিন্তু বামে ঠিক নেই। আপনার মিটারের কাটা যদি বামে এডজাস্ট না থাকে, তাহলে এটা ঘুরিয়ে সিলেক্ট করতে হবে।

চিত্র: মাল্টিমিটার বাম পাশ এডজাস্ট

Multimiter Redding Left Side  Pointer Adjusts Control

Multimiter Redding Adjusts Control Right Side: আপনার মাল্টিমিটারের কাটা ডানে কত রিডিং দিবে তা আপনি আগেই সিলেক্ট করতে পারেন মাল্টিমিটার টিউন ব্যাবহার করে। আবার মিটারের ব্যাটারী চার্জ শেষ হতে শুরু করলেও রিডিং কাটা বামে চলে আসে তখন টিউনের মাধ্যমে অ্যাডজাস্ট করতে হয়।

চিত্র: মাল্টিমিটার টিউন

Multimiter Redding Adjusts Control Right Side

DC Voltage Section: মাল্টিমিটারের ডিসি ভোল্ট সিলেক্ট করে 0.25 হতে 1000 পর্যন্ত যেকোন ভোল্ট পরিমাপ করা যায় ডিসি বিভাগে। তবে আপনার ভোল্ট পরিমাপের জন্য জানতে হবে সেটার ভোল্ট কত থাকে। সে অনুয়াযী ভোল্টেজ বিভাগ সিলেক্ট করলে সঠিক রিডিং পাওয়া যাবে।

চিত্র: মাল্টিমিটার ডিসি ভোল্ট বিভাগ।

Multimiter Adjusts DC Voltage Section

Adjusts AC Voltage Section: এটা হলো মাল্টিমিটারের এসি ভোল্ট মাপার অংশ আপনার যদি এসি কারেন্ট পরিমাপের দরকার হয় তাহলে এই বিভাগ সিলেক্ট করে ভোল্টেজ পরিমাপ করতে পারেন। তবে এখানে 10-1000 ভোল্ট পর্যন্ত কারেন্ট পরিমাপ করা যাবে।

চিত্র: মাল্টিমিটার এসি ভোল্ট বিভাগ।

Multimiter Adjusts AC Voltage Section

Adjusts DC Amp Section: এটা হলো ডিসি অ্যাম্পিয়ার বিভাগ। ডিসি বা ব্যাটারীর অ্যাম্পিয়ার সিলেক্ট করে তার ক্ষমতা পরিমাপ করা হয়। কিন্তু এই মাল্টিমিটারে শুধু মাত্র 2.5 হতে .25 অ্যাম্পিয়ার ভোল্ট পরিমাপ করা যায়। অর্থাৎ ছোট সেল ব্যাটারীতে যেমন 1.5 ভোল্ট এর বেশি অ্যম্পিয়ার পরিমাপ করা যায় না। এজন্য ফ্রিজের কারেন্ট আম্পিয়ার পরিমাপের জন্য আলাদা আম্পিয়ার মিটার ব্যবহার করতে হয়।

চিত্র: মাল্টিমিটার অ্যাম্পিয়ার বিভাগ।

Multimiter Adjusts DC Amp Section

Adjusts Ohms Section or Continuity sections: ওহমস বিভাগ সিলেক্ট করে আপনি রেজিস্টর, ক্যাপাসিটর, ট্রানজিস্টর, আইসি, ডায়োড ইত্যাদি পরিক্ষা করতে পারেন। সাথে সাথে কন্টিনিটি ইন্ডিকেটরের মাধ্যমে কন্টিনিটি পরিক্ষা করতে পারেন। এটি আমাদের ব্যবহৃত সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ একটা বিভাগ। এজন্য এ বিভাগ সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। 

চিত্র: মাল্টিমিটার ওহমস বিভাগ।

Multimiter Adjusts Ohms Section

Buzzer Section: মাল্টিমিটারের এই বিভাগ সিলেক্ট করলে আপনি স্পিকারের মাধ্যমে আওয়াজ শুনে কন্টিনিটি পরিক্ষা করতে পারবেন।

চিত্র: বুজার বা স্পিকার বিভাগ।

Multimiter Adjusts Buzzer Section

Adjusts Selection Controller: মাল্টিমিটারের সাথে একটা ভলিউম থাকে যার সাহায্যে আপনি মিটারের বিভিন্ন রেঞ্জে সেট করতে পারেন। কারণ কিছু কিছু সময় মিটারের কাটার রেঞ্জ পরিবর্তন করা লাগে। তখন অ্যাডজাস্ট কন্টোলার দিয়ে অ্যাডজাস্ট করা হয়ে থাকে।

চিত্র: মিটার অ্যাডজাস্ট কন্টোল ভলিউম।

Multimiter Adjusts Selection Controller

Continuity Indicator: কন্টিনিটি ইন্ডিকেটর মিটারের ডিসপ্লের উপরের বাম কর্ণারে থাকে এটা কন্টিনিটি পরিক্ষা করার সময় জ্বলে ওঠে।

চিত্র: মিটারের কন্টিনিটি ইন্ডিকেটর।

Continuity Indicator

Multimiter Negative Port: কোন কিছু পরিক্ষা করার সময় মিটারের নেগেটিভ ও পজেটিভ প্রয়োজন হয়। এটা হলো মিটারের নেগেটিভ সংযোগ। এখানে নেগেটিভ প্রোব লাগানো হয়।

চিত্র: মিটারের নেগেটিভ পোর্ট।

Multimiter Port Negative

Multimiter Positive Port: মাল্টিমিটারের বিভিন্ন পরিক্ষা রয়েছে যা নেগেটিভ পজেটিভ ঠিক না রাখলে সঠিক রিডিং পাওয়া যায়না। এটা হলো মিটারের পজেটিভ পোর্ট

চিত্র: মিটারের পজেটিভ পোর্ট।

Multimiter Port Positive

Multimiter Port Output: এটা হলো মিটারের আউটপুট বিভাগের সংযোগ। সাধারণত আউটপুটের ব্যবহার প্রয়োজন হয়না।

চিত্র: মিটারের আউটপুট পোর্ট।

Multimiter Port Output

Multimiter Negative Positive Probe: মাল্টিমিটারের নেগেটিভ পজেটিভ পোর্টে দুইটা তার বের হয়। যার সাহায্যে আমরা সহজে যেকোন কোম্পনেন্টের সাথে সংযোগ করে পরিক্ষা করতে হয়।

চিত্র: মিটারের নেগেটিভ পজেটিভ প্রোব।

Multimiter Negative Positive Probe

[বিঃ দ্রঃ মাল্টিমিটারে কোন কিছু পরিক্ষা করার আগে সঠিক বিভাগ সিলেক্ট করুন। যদি ভূল কিছু সিলেক্ট করে পরিক্ষা করেন তাহলে আপনার মিটার পুড়ে যাবে। ডিজিটাল মিটার হলে পুরো মিটার বাতিল হয়ে যাবে আর এনালগ সিলেক্ট করা বিভাগ পুড়ে যাবে। যেমন- ওহমস বিভাগে সিলেক্ট করে এসি পরিমাপ করলেন মিটার পুড়ে যায়] 

আজকের মাল্টিমিটার সম্পর্কে বেসিক ধারণা আপনাদের কাজে লাগবে। তবে মাল্টিমিটারের ব্যবহার সম্পর্কে ভালো জানতে হলে আপনাকে মিটার কিনে বাস্তবে ব্যবহার করে পরিক্ষা করতে হবে, তাহলে সব বুঝতে পারবেন মিটার কিভাবে কাজ করে। তবে মাল্টিমিটার চালানো ততটা কঠিন কাজ নয়। মাল্টিমিটার নিয়ে কিছু জানার থাকলে আমাকে কমেন্ট করতে ভূলবেনা। আরো জানতে নিচে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

error: Content is protected !!