মোবাইল রিপেয়ারিং কোর্স | মোবাইলে সার্ভিসিং এর সহজ কোর্স

মোবাইল রিপেয়ারিং কোর্স কথাটা প্রতিটা স্টুডেন্ট এর অনেক আগ্রহ চলে আসে বলতে গেলে স্বপ্ন। কারিগরি প্রশিক্ষণের মধ্যে যত কোর্স আছে তার মধ্যে সবচেয়ে আর্কষনীয় কোর্স হলো মোবাইল রিপেয়ারিং কোর্স। কারণ মোবাইল ব্যবহার করে না এমন ব্যক্তি বর্তমানে পাওয়া দুসাধ্য ব্যাপার। আর মোবাইল এর সমস্যাই সবাকেই পড়তে হয়। তাই মোবাইলে সার্ভিসিং এর সহজ কোর্স গুলো নিজের মোবাইল নিজে ঠিক করার জন্য বেশির ভাগ মানুষ করে থাকে। আবার  কেউ কেউ মোবাইল সার্ভিসিং ব্যবসা করার জন্য কোর্স করে থাকে। বর্তমানে ক্যারিয়ার গঠনের জন্য বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানিতে মোবাইল সার্ভিসিং কোর্স জানা লোক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সুতরাং বলা যায় বর্তমানে মোবাইল রিপেয়ারিং কোর্স এর অনেক মূল্য রয়েছে।

মোবাইলে সার্ভিসিং এর সহজ কোর্স :

আপনারা যারা মোবাইলে রিপেয়ারিং এর সহজ কোর্স করতে চান তাদের জন্য আমার এই সাইট সবচেয়ে বেশি কাজে আসবে। সুতরাং আমার পোস্ট গুলো নিয়মিত পড়তে পারেন এবং মোবাইল রিপেয়ারিং কোর্স সহজেই পূর্ণ করতে পারেন। মোবাইল রিপেয়ারিং করার জন্য আমি আপনারদের প্রাথমিক সহজ কোর্স নিয়ে এসেছি। এই পোস্টটি পড়লে মোবাইল সার্ভিসিং এর প্রাথমিক ধারণা আপনাদের চলে আসবে। তাহলে কথা না বাড়ি চলুন মোবাইল রিপেয়ারিং বেসিক কোর্স এর মধ্যে কি কি রয়েছে তা জানি। আপনি যদি পূর্ণ মোবাইলে সার্ভিসিং এর সহজ কোর্স করতে চান তাহলে আমার সব পোস্ট ফলো করুন।

মোবাইল সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা :

আপনি যদি কোন মোবাইল সার্ভিসিং বা রিপেয়ারিং করতে চান তাহলে আপনাকে মোবাইল সম্পর্কে কিছুটা ধারণা রাখতে হবে। যেমন- কোন কোম্পানির মোবাইল, কি কি সমস্যা হয়ে থাকে, আইসি পার্টস্ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নিতে হবে। যা আমি আপনাদের কে ধারাবাহিক ভাবে দিতে থাকবো।

মোবাইলের সমস্যা সনাক্ত করন :

মোবাইল রিপেয়ারিং করার আগে- আপনি যে মোবাইলটি রিপেয়ারিং করবেন সেই মোবাইলের কি সমস্যা হয়েছে তা সবার আগে আপনাকে সনাক্ত করতে হবে এবং যার মোবাইল তার কাছে সমস্যা জানার চেষ্টা করতে হবে। তাহলে সহজে মোবাইলটি খুলে সঠিক সমস্যার সমাধান করতে পারবেন। অথবা আপনি মাল্টিমিটার, পাওয়ার সাপ্লাই দিয়ে সমস্যা খুজে বের করুন।

মোবাইল এর পাওয়ার পরিক্ষা করা :

সবার আগে মোবাইল এর পাওয়ার পরিক্ষা করুন। মোবাইলটি সার্ভিসিং করার আগে আপনাকে সঠিক ভাবে মোবাইলের পাওয়ার পরিক্ষা করে দেখতে হবে। এ জন্য আপনি মাল্টিমিটার অথবা পাওয়ার সাপ্লাই ব্যবহার করতে পারেন।

মোবাইল এর ব্যাটারী পরিক্ষা করা :

মোবাইলের পাওয়ার পরিক্ষা করার পর আপনাকে ব্যাটারী পরিক্ষা করতে হবে। ব্যাটারী পরীক্ষা করার জন্য আপনি অন্য ব্যাটারী লাগতে পারেন অথবা মাল্টিমিটার বা পাওয়ার সাপ্লাই দিয়ে ব্যাটারী পরিক্ষা করতে পারবেন।

মোবাইল এর চার্জার পরিক্ষা করা :

অনেক সময় দেখা যায় মোবাইলের চার্জার সমস্যার কারণে মোবাইল চার্জ হয়না অথবা মোবাইলে নট চার্জিং সমস্যা দেখা দেয় তখন আপনি চার্জার পরিবর্তন অথবা চাজিং পোর্ট পরিবর্তন করে চার্জার পরিক্ষা করতে পারেন।

মোবাইল খোলার ‍নিয়ম :

মোবাইল খোলার সময় সর্তকতা অবলম্বন করুন। কারণ তাড়া হুড়া করে মোবাইল খুলতে গিয়ে একটা সমস্যা থেকে বিভিন্ন সমস্যা তৈরী হতে পারে। যেমন- সাইডের বাটন রিবন, ক্যামেরার রিবন, ফিঙ্গার টাচ রিবন ইত্যাদি মোবাইলের বডির সাথে আঠা দিয়ে লাগানো থাকে তা ছিড়ে যেতে পারে। তাই মোবাইল খোলার সময় খুব সাবধানতার সাথে দেখে দেখে ধিরে ধিরে খুলুন চাকু বা ধারালো কিছু ব্যবহার করবেন না। বাজারে মোবাইল খোলার বিভিন্ন টুলস্ পাওয়া যায়, সম্ভব হলে সেগুলো কিনে ব্যবহার করুন।

সার্কিট কানেকশন মার্কিং করা :

আপনি যদি মোবাইলের কানেশন বুঝতে না পারেন যেমন- টাচ কানেকশন, কিপ্যাড রিবন কানেকশন, স্পিকার কানেকশন, ইত্যাদি কানেকশন আলাদা করার প্রয়োজন পড়ে তাহলে কোন মার্কার পেন দিয়ে মার্কিং করে নিন। যেন তা পরে সহজে চিনতে পারেন কোনটা কিসের কানেশকন কোথায় কোন তার ছিলো ইত্যাদি।

মোবাইল এর নষ্ট পার্ট সনাক্ত করণ :

মোবাইল সার্ভিসিং করার আগে আপনাকে অবশ্যই মোবাইলের সমস্যা সনাক্ত করতে হবে। সেটা হোক খোলার আগে অথবা পরে। মাল্টিমিটার ও পাওয়ার সাপ্লাইয়ের মাধ্যমে মোবাইল এর 90% সমস্যা সনাক্ত করতে পারবেন। মাল্টিমিটারের ব্যবহার জানুন এখানে ক্লিক করুন

মাল্টিমিটারের ব্যবহার

মোবাইলের পার্টস্ পরিবর্তন :

কোন পার্টস্ পরিবর্তন করার আগে আপনাকে মোবাইলের পুরোনো পার্ট টি সাবধাণতার সাথে খুলে ফেলতে হবে। যদি তার যুক্ত পার্ট হয় যেমন- স্পিকার, ভাইব্রেটর, মাইক্রোফোন ইত্যাদি হয় তাহলে আয়রন দিয়ে ঝালাই খুলে নতুন লাগিয়ে দিতে পারেন। আর যদি মাদারবোর্ডের সাথে ফিক্সড হয় যেমন- চার্জিং পোর্ট, হেডফোন কানেক্টর, ব্যাটারী কানেক্ট, আইসি, ইত্যাদি। তাহলে তা হটএ য়ার গান দিয়ে 350 -400 ডিগ্রি তাপমাত্রায় সামান্য কিছু ক্ষণ হিট দিয়ে পার্টস্ তুলে ফেলুন, পারলে সাথে সাথে নতুন একটা বসিয়ে লাগিয়ে দিন।

মাল্টিমিটার এর ব্যবহার :

মোবাইল রিপেয়ারিং করতে হলে আপনাকে মাল্টিমিটারের ব্যবহার অবশ্যই জানতে হবে। কারণ মোবাইলে বিভিন্ন সমস্যা সনাক্ত করতে মাল্টিমিটার বিশেষ ভূমিকা রাখে। মাল্টিমিটাররে ব্যবহার নিয়ে পূর্ণ একটা আর্টিকেল অলরেডি প্রকার করা হয়েছে সেটা ভালোভাবে ফলো করুন।

সোল্ডারিং আয়রনের ব্যবহার :

মোবাইল রিপেয়ারিং করতে হট এয়ার গানের চেয়ে আয়রণের বেশি ব্যবহার করুন এতে মোবাইল যেমন ভালো থাকবে রিস্ক তত কম হবে। সম্ভব হলে আয়রন দিয়ে পার্টস্ পরিবর্তন করুন। যদি সম্ভব না হয় তখন হট এয়ার গানের ব্যবহার করুন।

সোল্ডারিং হটএয়ার গানের ব্যবহার :

মোবাইল সার্ভিসিং করতে হট এয়ার গান ব্যবহার এর বিশেষ প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু আপনি যদি হট এয়ার গানের ব্যবহার সঠিক ভাবে না করতে পারেন তাহলে মোবাইল সার্ভিসিং এ রিস্ক হতে পারে। এজন্য সঠিক তাপমাত্র এবং মাদারবোর্ডের তাপ সহনশীলতা সম্পর্কে ধারণা রাখুন। না জেনে বেশিক্ষন মাদারবোর্ডে বেশি তাপ দিবেন না। এতে পার্টস্ সহ মাদারবোর্ড পুড়ে যেতে পারে। সব সময় 350-400 ডিগ্রি তাপ ব্যবহার করুন তাও বেশিক্ষণ তাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। দরকার হলে আগে অন্য নষ্ট মাদারবোর্ডে দিয়ে প্যাকটিস করুন। আরো জানতে এখানে ক্লিক করুন

পাওয়ার সাপ্লাইয়ের ব্যবহার :

পাওয়ার সাপ্লাইয়ের ব্যবহার করে আপনি মোবাইল রিপেয়ারিং জনিত সকল সমস্যা সহজেই খুজে নিতে পারেন। তবে মনে রাখবেন পাওয়ার সাপ্লাইয়ের ভোল্টেজ যেন কোন সময় 4-4.5 ভোল্ট এর বেশি না হয়। যদি বেশি ভোল্টে মোবাইলে অন করার চেষ্ট করেন তাহলে মাদারবোর্ড আইসি পুড়ে বাতিল হয়ে যাবে। পাওয়ার সাপ্লাইয়ের ব্যবহার জানতে এখানে ক্লিক করুন

উপরোক্ত মোবাইল রিপেয়ারিং কোর্স বিষয় নিয়ে আমি আপনাদের যে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি, যদি কোথাও কিছূ বুঝতে সমস্যা হয় এবং যদি মনে হয়, উপরের কোন বিষয়ে আপনাদের বিস্তারতি জানা দরকার তাহলে আমাকে কমেন্ট করুন। পরবর্তীতে আমি সেই বিষয়ে নতুন আর্টিকেল নিয়ে আসবো আপনাদের জন্য। লিখাটি ভালো লাগলে শেয়ার এবং লাইক করুন।

2 Comments

  1. অচেনা মানুষ September 27, 2019
    • admin September 28, 2019

Leave a Reply

DMCA.com Protection Status
error: Content is protected !!