মোবাইলের বিভিন্ন অংশের নাম | যন্ত্রাংশ পার্টস হার্ডওয়্যার পরিচিতি

সূচীপত্র

মোবাইলের বিভিন্ন অংশের নাম

মোবাইল সার্ভিসিং শিখতে হলে আপনাকে মোবাইলের বিভিন্ন অংশের নাম ও কাজ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে। তা নাহলে মোবাইল সার্ভিসিং শেখা সম্ভব নয়। সুতরাং আজ মোবাইলের বিভিন্ন পার্টস্ বা অংশের নাম পরিচিত কাজ সম্পর্কে বেসিক কিছু ধারণা দিবো। পরবর্তীতে মোবাইলের প্রতিটা বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো। তাহলে চলুন আজ মোবাইলের প্রতিটা অংশ সম্পর্কে বেসিক জেনেনি।

মোবাইলের হার্ডওয়্যার সম্পর্কে ধারণা

ব্যাটারী (Battery):

মোবাইল চালানের জন্য ব্যাটারী একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস। আর মোবাইলের পাওয়ার আসে ব্যাটারী থেকে। আপনারা হয়ত সবাই মোবাইলের ব্যাটারী সম্পর্কে আগে থেকেই জানেন যারা জানেন না তাদের জন্য একটু প্রাথমিক ধারণা। ব্যাটারী হলো এক ধরণের রিচার্জেবল সংরক্ষিত বিদ্যুৎ শক্তি। যার মাধ্যমে মোবাইলে পাওয়ার সাপ্লাই হয়ে সম্পূর্ণ মোবাইল ডিভাইস চলতে থাকে।

মোবাইলের বিভিন্ন অংশের নাম- ব্যাটারী

ব্যাটারী কানেক্টর (Battery connector):

মোবাইলের ব্যাটারী কানেক্টর হলো- মোবাইলের মাদারবোর্ডের সাথে যে পার্টসটি সংযুক্ত হয়ে মোবাইলে প্রতিটা অংশে পাওয়ার সাপ্লাই দেয়। যার সাথে মোবাইলের ব্যাটারীর সংযোগ থাকে সেটাই ব্যাটারী কানেক্টর। মোবাইল অন রাখতে ব্যাটারী কানেক্টর বিশেষ ভূমিকা রাখে।

মোবাইলের বিভিন্ন অংশের নাম- ব্যাটারী কানেক্টর

মাইক্রোফোন (Microphone):

মাইক্রোফোন হলো মোবাইলের একটা ডিভাইস। যার সাহায্যে মোবাইল আমাদের শুনে রের্কড করে অন্য মোবাইলে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পৌছে দেয়। মাইক্রোফোনের মাধ্যমে আমাদের কথা মোবাইলে প্রবেশ করে। শব্দ তরঙ্গ বিদ্যুৎ তরঙ্গে রুপান্তরিত করাই মাইক্রোফোনের কাজ।

মোবাইলের বিভিন্ন অংশের নাম- মাইক্রোফোন

হেডফোন কানেক্টর (Headphone Connector):

মোবাইল হেডফোন কানেক্টর হলো একটা পার্ট যেখানে হেডফোনে জ্যাক লাগানো হয় ফলে আমরা তারের মাধ্যমে সহজে কথা মিউজিক শুনতে পাই। হেডফোনের সাথে মাইক্রোফোন এবং স্পিকার থাকে যেন হেডফোনের মাধ্যমে কথা বলা এবং শোনা যায়।

মোবাইলের বিভিন্ন অংশের নাম- হেড ফোন কানেক্টর

হেডফোন (Head phone) :

মোবাইলের হেডফোন হলো একটা তারযুক্ত ডিভাইস বর্তমানে তার ছাড়াও ব্লুটুত হেডফোন পাওয়া যায়।যার সাথে তারের কোন সম্পর্ক নেই। যার সাহায্যে আমরা সহজে মোবাইলে কথা বলতে এবং শুনতে পারি।   

মোবাইলের বিভিন্ন অংশের নাম- হেডফোন

মেমোরি কার্ড (Memory Card) :

মোবাইলের মেমোরি কার্ড হলো একটা চিপস্ (আইসি) যার ভিতরে বিভিন্ন তথ্য অডিও ভিডিও বিভিন্ন স্টোরেজ করে সংরক্ষন করা হয়। মেমোরি বিভিন্ন সাইজের হয়ে থাকে বর্তমানে 32জিবি 64 জিবি 128 জিবি মেমোরি বাজারে পাওয়া যায়। মেমোরি যত বেশি হবে তত বেশি তথ্য অডিও ভিডিও ডাটা সংরক্ষন করা যাবে।

মোবাইলের বিভিন্ন অংশের নাম- মেমোরী কার্ড

মেমোরি কার্ড স্লট (Memory card slot):

ফোন মেমোরি কার্ড স্লট হলো মোবাইলের মাদারবোর্ডে মেমোরি লাগানোর সকেট। যেখানে মেমোরী লাগানো হয় যদি কোন কারণে মেমোরী স্লটএর সমস্যা হয় তাহলে মোবাইলে মেমোরী সাপোর্ট করবেনা। ফলে বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে।   

মোবাইলের বিভিন্ন অংশের নাম- মেমোরী বেইজ

মাল্টিমিডিয়া স্পিকার (Multimedia speaker):

মোবাইলের সবচেয়ে বড় স্পিকার হলো মাল্টিমিডিয়া স্পিকার বা মাইক। যার সাহায্যে আমরা মোবাইলে অডিও-ভিডিও রিংটোনের আওয়াজ পেয়ে থাকি। যে স্পিকারে মোবাইলে বেশি সাউন্ড হয় তাকে মাল্টিমিডিয়া স্পিকার বা লাউড স্পিকারও বলা হয়।

মোবাইলের বিভিন্ন অংশের নাম- রিংগার

ইয়ার স্পিকার (Ear Speaker):

ইয়ার স্পিকার হলো মোবাইলের ছোট স্পিকার। যা কানের কাছে কথা শোনার জন্য ব্যবহার করা হয়। এটা শুধু মোবাইলে কথা শোনার জন্য ব্যবহার করা হয় বলে একে ইয়ার স্পিকার বলা হয়। চিত্রটি ভালো ভাবে দেখলে বোঝা যাবে। ‍স্পিকার সম্পর্কে বিস্তারিত সব জানতে এখানে ক্লিক করুন।

মোবাইলের বিভিন্ন অংশের নাম- এয়ার স্পিকার

এলইডি লাইট (LED Light):

এখনকার প্রায় প্রতিটা মোবাইলে এলইডি লাইট ব্যবহার করা হয়। এলইডি অর্থ –Light Emitting Diode মোবাইলে এলইডি ব্যবহার করা হয় অন্ধকার দূর করার জন্য অথার্ৎ লাইট হিসাবে ব্যবহারের জন্য। আবার মোবাইলের ক্যামেরার ফ্লাশ লাইট হিসাবেও এই এলইডি ব্যবহার করা হয়।  

মোবাইলের বিভিন্ন অংশের নাম- এলইডি

এলইডি ডিসপ্লে (LED Display):

বর্তমানে মোবাইলে বিভিন্ন ধরণের ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়। তার মধ্যে আইপিএস এলইডি ইত্যাদি। মোবাইলের ডিসপ্লের কাজ হলো মোবাইলের প্রতিটা ফাংশন দেখানো। যেমন- অডিও ভিডিও লিখা ক্যালকুলেটর ইত্যাদি দেখার জন্য এলইডি ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়। মোবাইলের প্রতিটা কার্যক্রম আমাদের দেখানোই হলো ডিসপ্লের কাজ।

মোবাইলের বিভিন্ন অংশের নাম- ডিসপ্লে

চার্জার (Charger):

মোবাইলের ব্যাটারী চার্জ করা হলো চার্জারের কাজ। আমাদের মোবাইলে যখন চার্জ শেষ হয়ে যায়। তখন চার্জারের মাধ্যমে পুনরায় চার্জ করা হয়।

মোবাইলের বিভিন্ন অংশের নাম- চার্জার

চার্জিং পোর্ট (Charging Port):

মোবাইলের চার্জিং পোট হলো মোবাইলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বর্তমানে মোবাইলের চার্জিং পোর্টে হেডফোন, ডাটাকেবল লাইন থাকে। ফলে একই পোর্ট বিভিন্ন কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়। এই পোর্টের সাহায্যে মোবাইল চার্জ করা হয় এজন্য একে চার্জিং কানেক্টর (Charging Connector) বলা হয়।

মোবাইলের বিভিন্ন অংশের নাম- চাজিং কানেক্টর

সিম কার্ড (SIM Card):

সিম কার্ড হলো মোবাইলের একটা ডিভাইস যেটা মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর দিয়ে থাকে। SIM অর্থ- Subscriber identification module দেশে বিভিন্ন অপারেটর নেটওয়ার্ক থাকে যার নেটওয়ার্ক আপনি ব্যবহার করবেন সে আপনাকে তার নেটওয়ার্কের সিম দিবে।

অথবা আপনি ইচ্ছা মত আপনার পছন্দের নেটওয়ার্কের সিম কার্ড নিতে পারেন। সিম হলো নেটওয়ার্ক ব্যবহারের অনুমতি সরুপ একটা ডিভাইস যার সাহায্যে আপনি ফি দিয়ে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারবেন।

মোবাইলের বিভিন্ন অংশের নাম- সিম

সিম কার্ড স্লট (SIM Card Slot):

সিম কার্ড স্লট হলো মোবাইলের মাদারবোর্ডের সাথে থাকে। যেখানে সিম আটকে দিলে নেটওয়ার্কে সংযোগ পাই। চিত্রটি ভালোভাবে দেখলে সিম কার্ড স্লট সহ আরো অনেক কিছুর ধারণা আপনার চলে আসবে।

মোবাইলের বিভিন্ন অংশের নাম- সিম বেইজ

নেটওয়ার্ক এন্টিনা (Network Antenna):  

টিভির মত মোবাইলেও এন্টিনা থাকে আগেকার মোবাইলে বড় এন্টিনা থাকত কিন্তু বর্তমানের প্রযুক্তি এত উন্নত হয়েছে যে মোবাইলের এন্টিনা দেখা যায়না। মোবাইলের ভিতরে মাদারবোর্ডর সাথে লাগানো থাকে এন্টিনা। চিত্র দেখলে আপনার এন্টিনা সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা চলে আসবে।

মোবাইলের বিভিন্ন অংশের নাম- নেটওয়ার্ক এন্টিনা

ফ্রন্ট ক্যামেরা (Font Camera):

বর্তমানে মোবাইলে দুইটা করে ক্যামেরা থাকে সামনে একটা পেছনে একটা। যে ক্যামেরা সামনে থাকে তাকে ফ্রন্ট বা সেলফি ক্যামেরা বলা হয়।মোবাইলের সামনে থাকে বলে একে ফ্রন্ট ক্যামেরা বলা হয়। ফ্রন্ট ক্যামেরা বিভিন্ন ফিক্সেলের হয়ে থাকে।

mobile parts Basic idea- ফন্ট ক্যামেরা

ব্যাক ক্যামেরা (Back Camera):

মোবাইলের পেছনের ক্যামেরাকে ব্যাক ক্যামেরা বলা হয়। পিছনে থাকে বলে একে ব্যাক ক্যামেরা বলা হয়। ফ্রন্ট এবং ব্যাক ক্যামেরার একই কাজ ছবি তোলা। তবে ব্যবহার একটু আলাদা কাজে ব্যবহার হয় বলে আলাদা নাম হয়ে থাকে।

mobile parts Basic idea- ব্যাক ক্যামেরা

মোবাইল সফট্ওয়্যার (Software):

মোবাইলের সফট্ওয়্যার হলো প্রোগ্রাম যার সাহায্যে মোবাইলকে আগে থেকে বলে দেওয়া হয় সে কি কি করবে কিভাবে করবে। মোবাইলের হার্ডওয়্যার দেখা যায় কিন্তু সফট্ওয়্যার দেখা যায়না। আমারা মোবাইলে যতকিছু করে থাকি তাহলো প্রোগ্রাম সফট্ওয়্যার দ্বারা হয়ে থাকে। সফট্ওয়্যার ছাড়া মোবাইলে কোন কিছু করা সম্ভব নয়।

mobile parts Basic idea- সফওয়ার কিট বক্স

কানেক্টর Software Connector:

প্রতিটা মোবাইল তৈরী করার পর সফট্ওয়্যার দিয়ে সেটা কে প্রোগ্রাম করা হয়। তার জন্য মোবাইলে এক্সট্রা বিভিন্ন পয়েন্ট থাকে সেগুলোকে সফট্ওয়্যার কানেক্টর বলা হয়। চাইনা মোবাইলে সফট্ওয়্যার কানেক্টর চিত্রতে দেখুন। যে কানেক্টরের মাধ্যমে মোবাইলে সফট্ওয়্যার দেওয়া হয়।

mobile parts Basic idea - সফ্টওয়্যার কানেক্টের

এফএম এন্টিনা (FM Antenna):

প্রতিটা মোবাইলে নেটওয়ার্ক এন্টিনার পাশাপাশি এফএম রেডিও এন্টিনাও থাকে। অতিরিক্ত একটা তার থাকে তাকে এফএম এন্টিনা বলা হয় চিত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। 

mobile parts Basic idea- এফ এম এন্টিনা

মোবাইল মাদারবোর্ড (Mobile Motherboard):

প্রতিটা ডিভাইস মোবাইলের মাদারবোর্ডের সাথে সংযুক্ত থাকে। চিত্রে মোবাইলের মাদারবোর্ড সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা দেওয়া হয়েছে যদি ভালোভাবে লক্ষ করেন তাহলে আপনা পরিস্কার ধারণা হয়ে যাবে।

mobile parts Basic idea মোবাইলের বিভিন্ন অংশের নাম।

মোবাইল কিপ্যাড (Keypad):

মোবাইলের কিপ্যাড হলো মোবাইলের বাটন যেগুলো ক্লিক বা প্রেস করলে নম্বর ফাংশন কন্টোল করা যায় সেগুলো মোবাইলের বাটন বলা হয়। আপনার হয়ত সবাই জানেন মোবাইলের বাটন কি দেখতে কেমন। মোবাইলের কিপ্যাড নিয়ে বিস্তারিত জানাতে এখানে ক্লিক করুন।

mobile parts Basic idea-এক্সানাল কিবোর্ড

লজিক কিপ্যাড (Logic keypad):

মোবাইলের মাদারবোর্ডের সাথে আঠা দিয়ে যে কিপ্যাড লাগানো থাকে তাকে লজিক কিপ্যাড বলা হয়। প্লাস্টিকের পাতলা কাগজের সাথে স্টিলের ছোট ছোট বাটন যুক্ত কিপ্যাডকে লজিক কিপ্যাড বলা হয়। লজিক কিপ্যাড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

mobile parts Basic idea - ইন্টারনাল কিবোর্ড

মোবাইলের প্রতিটা ডিভাইস বা অংশ নিয়ে বেসিক আলোচনা করা হলো। তবে প্রতিটা ডিভাইস নিয়ে বিস্তারিত আলাদা আলাদা আর্টিক্যাল থাকবে আপনারা যদি মোবাইল সার্ভিসিং শিখতে চান তাহলে নিয়মিত আমাদের এই ওয়েবসাইট খোঁজ করুন। এবং আমাদের ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন। টেকনোলজির সার্ভিসিং সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা সহকারে নতুন নতুন আর্টিক্যাল থাকবে।

Leave a Reply

DMCA.com Protection Status
error: Content is protected !!