ল্যাপটপ হ্যাংক হলে কি করবেন হ্যাং সমস্যার সমাধান

ল্যাপটপ হ্যাংক হলে কি করবেন আজ আমরা সে বিষয়ে বিস্তারিত জানবো। ল্যাপটপ স্লো বা চলতে চলতে হ্যাংক হলে বা দশ ‍মিনিট, আধা ঘন্টা, এক ঘন্টা চলার পর ল্যাপটপ অটোমেটিক বন্ধ হলে বা বার বার হ্যাং করলে কিভাবে মেরামত করতে হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানবো।

ল্যাপটপ হ্যাংক হলে কি করবেন :

তার আগে আমাদের জানতে হবে কি কি কারণে ল্যাপটপ হ্যাংক হয়, ল্যাপটপ হ্যাংক এর কারণ কি, কিভাবে ল্যাপটপ হ্যাংক সমস্যা সমাধান করা যায় উক্ত বিষয় গুলো সম্পর্কে। তাহলে চলুন আর কথা না বাড়িয়ে জেনেনি ল্যাপটপ হ্যাংক মেরামত করার স্টেপ-বাই-স্টেপ নিয়ম।

ল্যাপটপ স্লো চলছে বা হ্যাংক করছে ?

হ্যাংক সমস্যা হলে কি করবেন, ল্যাপটপ হ্যাংক হলে করণীয় বিষয় হলো: আপনি যদি দেখেন ল্যাপটপ যদি স্লো চলছে অথবা হ্যাংক করছে, তাহলে বুঝতে হবে এর দুইটা কারণ হতে পারে। যেমন-

  • হার্ডওয়্যার জনিত সমস্যা।
  • সফ্ওয়্যার জনিত সমস্যা।

সাধারণ ভাবে আমরা যদি ল্যাপটপের এই কারণ দুইটা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনেফেলি তাহলে ল্যাপটপের প্রায় ৯০% সমস্যার সমাধান নিজেই করতে পারবো। তাহলে চলুন বিষয় গুলো সম্পর্কে একটু গভির ভাবে জানি।

ল্যাপটপের হার্ডওয়্যার জনিত সমস্যা:

আপনি কি জানেন? আপনার ল্যাপটপ হার্ডওয়্যার জনিত সমস্যার কারণে হ্যাং করতে পারে আবার রিস্টার্ট নিতে পারে। যদি কখনো আপনার ল্যাপটপ হ্যাংক করে বা বার বার রিস্টার্ট নেয় তা হলে কি করণে এমন হতে পারে সে কি কখনো ভেবেছেন? না সার্ভিসিং সেন্টারে নিয়ে মেরামত করে নিয়ে এসেছেন। আসলে এটা একটা সাধারণ কমন সমস্যা একটু বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করলেই এর সমাধান পাওয়া যায়।

ল্যাপটপ হ্যাং সমস্যার সমাধান:

সাধারণত ল্যাপটপ ২ বছরের বেশি পুরোনো হলে ল্যাপটপের ভিতরে অনেক ময়লা জমে যায়, ভিতরের কুলিং সিস্টেম ঠিকমত কাজ করেনা, ফ্যান গুলোতে সব ময়লা জমে জ্যাম হয়ে ধিরগতি হয়ে যায়। তাই দুই-এক বছরের বেশি পুরনো ল্যাপটপ হলে অবশ্যই একবার আপনার ল্যাপটপ ফুল সার্ভিসিং করে নেওয়া উচিৎ।

যেমন- ল্যাপটপের হার্ডডিস্ক, র‌্যাম, প্রসেসর, পাওয়ার সাপ্লাই, মাদাবোর্ড, কুলিং ফ্যান, কাভার ইত্যাদি খুলে থিনার দিয়ে ভালো ভাবে পরিস্কার করে আবার নতুন ভাবে সেটিং করে নেওয়া উচিৎ। যাকে আমরা ল্যাপটপের প্রাথমিক চিকিৎসা বলতে পারি। কারণ বেশির ভাগ সময় দেখা যায় এ থেকে ল্যাপটপের অনেক সমস্যা অটোমেটিক সেরে যায়।

ল্যাপটপের ভিতরের হার্ডওয়্যার সমস্যা :

ল্যাপটপ হ্যাংক সমস্যা কয়েকটা হার্ডওয়্যার এর পাটস্ জনিত কারণে হতে পারে। যেমন- র‌্যাম, হার্ডডিস্ক, প্রসেসর। যদি আপনার ল্যাপটপে সফ্ওয়্যার জনিত সমস্যা নাহয়ে থাকে তাহলে হার্ডওয়্যার- র‌্যাম, হার্ডডিস্ক, প্রসেসর পরিক্ষা করে দেখতে হবে। কারণ র‌্যামের কনফিগারেশন ধরণ ক্ষমতা কম থাকলে যেমন-৫১২ র‌্যামে আপনি যদি গ্রাফিক্স এর কাজ করেন তাহলে তো ল্যাপটপ কম্পিউটার হ্যাং করবেই। এজন্য সফ্ওয়্যারের সাথে হার্ডওয়্যার মিল রেখেই সফ্ওয়্যার ব্যবহার করুন।

বর্তমানে দিনে দিনে যেভাবে প্রতিনিয়ত প্রতিটা সফ্ওয়্যার আপডেট হতে আছে ঠিক সেই ভাবে আমরা কখনো হার্ডওয়্যার আপডেট করছিনা বা করিনা। আপডেট সফ্ওয়্যার গুলো সব সময় আপডেট হার্ডওয়্যার চাই কিন্তু আমরা কতবার হার্ডওয়্যার আপডেট করি? যার কারণে এক সময় কম্পিউটার প্রোগ্রাম ভারি হয়ে যায়, কম্পিউটার স্লো হয়ে যায়, হ্যাংক করে।

ল্যাপটপের পাওয়ার অ্যাডাপটার সমস্যা :

আপনার ল্যাপটপের চার্জিং পাওয়ার অ্যাডপটার সমস্যা হতে পারে। এজন্য অ্যাডপটারের আউটপুট ভোল্টেজ পরিক্ষা করে দেখুন। অ্যাডাপটারের গায়ে আউটপুট ভোল্টেজ আছে দেখুন তারপর পরিক্ষা করে দেখতে হবে ভোল্টেজ কত কমবেশি আছে। যদি আউটপুট ভোল্টেজ রেগুলার ভোল্টেজ এর তুলনায় ২-৩ কমবেশি হয় তাহলে অ্যাডাপটার পরিবর্তন করে দেখতে হবে।

ল্যাপটপ 1-2 বছরের পুরোনো হলে অটোমেটিক হ্যাং করে এজন্য বেশি পুরোনো ল্যাপটপ হ্যাং করলে সার্ভিসিং করা প্রয়োজন। যদি ল্যাপটপ সার্ভিসিং না করেন তাহলে হ্যাংক করবে এটায় স্বভাবিক।

র‌্যামের সমস্যার কারণে হ্যাংক :

ল্যাপটপের র‌্যামের কানেক্টরে র্কাবন জ্বমে গেলে র‌্যাম ঠিক মত কাজ করতে পারেনা, পরিস্কার করুন। আবার র‌্যামের কাভারেজের তুলনায় সফ্টওয়্যার ভারি হলে হ্যাংক করে। যেমন- আপনার গ্রাফিক্স বা গেম এর জন্য আপনার র‌্যামটি একইরেট কি-না পরিক্ষা করে দেখুন।

প্রসেসর ওভার হিটিং সমস্যা :

প্রসেসরের কুলিং পেস্ত শুকিয়ে গেলে ওভার হিট হয়ে কম্পিউটার হ্যাংক করতে পারে। এজন্য সার্ভিসিং করার সময় নতুন ভাবে কুলিং পেস্ত লাগিয়ে সেটিং করুন। আর কুলিং ফ্যান ঠিকমত বাতাস প্রবাহ করছে কি-না সেই দিকে খেয়াল রাখুন।

সিমোস মেমোরী ব্যাটারী নষ্ট হলে :

আপনার ল্যাপটপের জন্য আলাদা ভাবে মেমোরী ধরে রাখার জন্য একটা এক্সট্র ৩ ভোল্ট ব্যাটারী ব্যবহার করা হয় যেটাকে সিমোস ব্যাটারী বলা হয়। সিমোস ব্যাটারী নষ্ট হয়ে গেলে সিস্টেমের অনেক কিছু ঠিক মত কাজ করা বন্ধ হয়ে যায়। এজন্য ব্যাটারী পরিক্ষা বা পরিবর্তন করে দেখুন।

ল্যাপটপের কম্পোনেন্ট জনিত সমস্যা :

সব কিছু করার পরেও যদি আপনার ল্যাপটপ ঠিক নাহয় তাহলে মাদারবোর্ড কম্পোনেন্ট জনিত সমস্যা থাকতে পারে। যেমন- ডায়োড, ক্যাপাসিটর, আইসি ইত্যাদি। এমতবস্থা এগুলো পরিক্ষা করার জন্য পাওয়ার অ্যাডপটার লাইন দিয়ে আলাদা আলাদ আইসি এর উপর ১০ সেকেন্ড মত হাত দিয়ে দিয়ে দেখুন। যদি হাত দিয়ে থাকা যায় তাহলে বুঝতে হবে পার্টস্ ঠিক আছে। আর যদি খুব গরম হয় হাত না রাখা যায় তাহলে বুঝতে হবে পার্টস্ টি নষ্ট এজন্য ওভার হিট হচ্ছে। এগুলো পরিবর্তন করা এডভান্স লেভেলের কাজ। আপনি যদি সার্ভিসিং এ দক্ষ না হন তাহলে এগুতে হাত দেওয়ার দরকার নেই। তখন কাছের কোন সার্ভিসিং সেন্টারে নিয়ে যেতে পারেন।

ল্যাপটপ এর সফ্ওয়্যার জনিত সমস্যা:

যেসকল সফ্ওয়্যার জনিত কারণে ল্যাপটপ হ্যাংক করে তার মধ্যে অন্যতম হলো ভাইরাস জনিত কারণ এবং উইন্ডোজ ফাইল কারাপ্ট সমস্যা জনিত কারণ। আপনার ল্যাপটপে যদি কোন ভাইরাস ম্যালওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত হয় তাহলে ল্যাপটপ হ্যাংক করবে আবার রিস্টার্ট জনিত সমস্যাও হতে পারে। সফ্ওয়্যার জনিত সমস্যা আপনি যদি বুঝতে পারেন যে আপনার ল্যাপটপে ভাইরাস জনিত কারণে হ্যাংক করছে বা উইন্ডোজ সমস্যা হচ্ছে তাহলে একটা প্রিমিয়াম এন্ট্রি-ভাইরাস সেটআপ করে ল্যাপটপ ফুল স্ক্যান করুন। অথবা নতুন ভাবে উইন্ডোজ দিয়ে ফরম্যাট করুন বা ফাইল ওপেন না করে ফুল ল্যাপটপ স্ক্যান করুন।

ল্যাপটপ স্লো বা ভারি হলে করণীয়:

সাধারণত যেসব কারণে ল্যাপটপ ভারি হয় সে বিষয় গুলো নিচে বর্ণনা করা হলো এবং ভারি হওয়া হ্যাংক ল্যাপটপ কিভাবে ফাস্ট করতে পারেন সে ব্যাপারে বলা হলো।

  • ভাইরাসের কারণে ভারি হলে এন্ট্রি-ভাইরাস দিয়ে ভালোভাবে ল্যাপটপ স্ক্যান করে ভাইরাস রিমুভ করতে হবে।
  • উইন্ডোজ অনেক পুরনো হলে নতুন ভাবে উইন্ডোজ দিতে হবে।
  • কম্পিউটারের কনফিগারেশন এর বাইরে ভারী সফ্ওয়্যার ব্যবহার করা যাবেনা।
  • সফ্ওয়্যার বা উইন্ডোজ ক্রাপ্ট হলে সাথে সাথে পরিবর্তন বা রিপেয়ার করতে হবে।
  • ভারি সফ্ওয়্যার ব্যবহারের জন্য আপনার কম্পিটার উপযোগী কি-না জেনে তারপর ইনস্টাল করতে হবে। যেমন-গ্রাফিক্স জনিত সফ্ওয়্যার।
  • সি ড্রাইভের মধ্যে সব সময় ৪০%+ জায়গা ফাঁকা রাখতে হবে।
  • ল্যাপটপের ড্রেক্সটপে বড় ভিডিও/সফ্ওয়্যার ফাইল রাখা থেকে বিরত থাকতে হবে।

নতুন অবস্থায় ল্যাপটপ হ্যাংক হলে করণীয়:

ল্যাপটপ নতুন অবস্থায় হ্যাং হলে অর্থাৎ নতুন ল্যাপটপ কিনে নিয়ে আসার কয়েক মাসপর ব্যবহারের পর যদি হ্যাংক করে তাহলে বুঝতে হবে ল্যাপটপের র‌্যামের কোন সমস্যা হয়েছে। এমতবস্তায় ল্যাপটপ এর র‌্যাম খুলে র‌্যামে পয়েন্টার গুলো সহ র‌্যাম ভালোভাবে থিনার দিয়ে কার্বন গুলো পরস্কার করে আবার লাগাতে হবে যদি সম্ভব হয় তাহলে নতুন র‌্যাম পরিবর্তন করে দেখতে হবে। তারপর না হলে নতুন ভাবে উইন্ডোজ দিতে হবে কারণ অনেক সময় ভাইরাস ঢুকে উইন্ডোজ ফাইল ক্রাপ্ট হয়ে যায় ফলে সিস্টেম ঠিকমত কাজ করতে পারে না। এর পরেও না হলে ল্যাপটপের ওয়্যারেন্টি নিয়ে সার্ভিসিং নিতে ভূলবেন না কারণ ওয়্যারেন্টি কালীন সার্ভিস একদম ফ্রি। আরো জানতে এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

DMCA.com Protection Status
error: Content is protected !!