কম্পিউটারের কিবোর্ড সমস্যা। কিবোর্ড সমস্যা সমাধানের সহজ উপায়

কম্পিউটারের কিবোর্ড সমস্যা:

কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশের মধ্যে কিবোর্ড একটি বিশেষ অংশ যার সাহায্যে আমরা কম্পিউটারের ডাটা ইনপুট করে থাকি। বলা যায় পুরো কম্পিউটারের প্রতিটা অংশ আমরা কির্বোডের মাধ্যমে কন্ট্রোল বা নিয়ন্ত্রন করে থাকি। কম্পিউটার চলার সময় যেমন বিভিন্ন যন্ত্রের সমস্যা হয় তার মধ্যে হলো কম্পিউটারের কিবোর্ড সমস্যা অন্যতম। কিবোর্ড ছাড়া কম্পিউটার নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব না। তাই আজ আমরা জানবো কম্পিউটারের কিবোর্ডের কিছু কমন সমস্যা ও তার সমাধান।

কিবোর্ডের সমস্যা ও সমাধান:

হঠাৎ কিবোর্ড কাজ না করলে:

হঠাৎ যদি আপনার কিবোর্ড কাজ করা বন্ধ করে দেয় বা কিবোর্ডে কাজ না হয়। তাহলে আপনার কম্পিউটার বন্ধ করে রিস্টার্ট দিতে হবে। সম্ভব হলে কিবোর্ডের লাইন খুলে আবার লাইন দিতে হবে। আপনার কিবোর্ডের কি পোর্ট রয়েছে তা দেখতে হবে যদি পিএসটু কিবোর্ড হয় তাহলে খুলে ব্রাশ দিয়ে পরিস্কার করে আবার লাগিয়ে দিতে হবে।

আর যদি ইউএসবি পোর্ট হয় তাহলে একটা পোর্ট থেকে খুলে অন্য পোর্টে দিয়ে কম্পিউটার চালু করে দেখতে হবে। অনেক সময় কিবোর্ডের তার নষ্ট হয়ে এজন্য কিবোর্ড কাজ করেনা তার পরিবর্তন করলে ঠিক হয়ে যায়। দরকার হলে কিবোর্ড পুনরায় ইনস্টল করতে হবে। তারপরেও যদি না হয় তাহলে অন্য কিবোর্ড লাগিয়ে দেখতে হবে যে আপনার কিবোর্ডের সমস্যা আছে কি-না।

চিত্র: কিবোর্ড সার্কিট

Open Keyboard Circuit

ব্লুতুথ কিবোর্ড কাজ না করলে:

প্রথমে আপনাকে দেখতে হবে আপনার কিবোর্ডের ব্যাটারী ঠিক আছে কি-না। কারণ ব্যাটারীর চার্জ শেষ হয়ে গেলে কিবোর্ড কাজ করবেনা। ব্যাটারী পরিবর্তন করার পরেও যদি কাজ না করে তাহলে আপনাকে দেখতে হবে আপনার ওয়্যারলেস ডিভাইস কানেকশন ঠিক আছে কি-না। রেঞ্জ ঠিক আছে কি-না। দরকার হলে কম্পিউটার একবার রিস্টার্স করে নিতে হবে। ডিভাইস খুলে অন্য পোর্টে লাগাতে হবে। অন্যপিসিতে লাগিয়ে দেখতে হবে তাহলে আপানার সমস্যার সামাধান পেয়ে যাবেন।

কিবোর্ড অটোমেটিক কাজ করলে:

কিবোর্ড অটোমেটিক কাজ করার কিছু কারণ রয়েছে যথা-
  • কিবোর্ডে অনেক দিনে ব্যবহারের কারণে বাটন গুলো অনেক লুজ হয়ে যায়। ফলে হাতের চাপা লাগতেই অনেক কি একসাথে কাজ করে।
  • কিবোর্ডের বাটন চেপে আটকে যায়, তখন অটোমেটিক কাজ করে।
  • কিবোর্ডের সার্কিট আইসি শর্ট হয়ে যায় ফলে কিবোর্ডে হাতের চাপ না পড়তে আবল-তাবল কাজ করে।
  • কিবোর্ডের ভিতরে পানি প্রবেশ করলে- তবে বেশির ভাগ কিবোর্ড ওয়াটার প্রুফ হয়ে থাকে।
  • উপরোক্ত সমস্যার ক্ষেত্রে কিবোর্ড উলটা করে বাড়ি দিতে হবে দিয়ে দেখতে হবে ঠিক হলো কি-না। না হলে সাবধানতার সাথে খুলে আবার মুছে লাগিয়ে দিতে পারলেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ঠিক হয়ে যায়। তবে সাধারণত কিবোর্ড কোথাও ঠিক করা হয়না। আপনি যদি আপনার কিবোর্ড ঠিক করার কথা ভাবতে পারেন তাহলে খুলে শিখার জন্য পরিক্ষা গুলো করতে পারেন। বর্তমানে বাজারে 200-1200 টাকা সস্তার মধ্যে কিবোর্ড পাওয়া যায়। এজন্য কিবোর্ড মানুষ ঠিক না করে ফেলে দেয়। আমি বলবো ফেলে না দিয়ে নিজে প্যাকটিস করুন অভিজ্ঞতা বাড়ান।

চিত্র: কিবোর্ড রিবোন সার্কিট

Open Keyboard Circuit

কিবোর্ডের বাটন আটকে যাওয়া।

আপনার কিবোর্ডের বাটন যদি বার বার আটকে যায় তাহলে আপনি যা করতে পারেন তাহলো কিবোর্ডটি খুলে আলোতে নিতে হবে তারপর ভালোভাবে দেখতে হবে কিবোর্ডের কোন কোন বাটন আটকে যাচ্ছে। তবে নিম্ন মানের কমা কিবোর্ড গুলোতে বাটনে এমন সমস্যা হয়। কিবোর্ডের যে বাটন গুলো আটকে যাবে সে বাটন গুলোর সাইট একটা ধারালো ব্লেড দিয়ে হালকা করে ছেটে দিতে হবে। কারণ দেখবেন সেগুলোর ধারে আগাছার মত কিছু প্লাস্টিক লেগে আছে তা কেটে দিলে আর আটকাবে না।

কিবোর্ডের একাধিক কি কখনো কাজ করে কখনো কাজ করেনা:

কিবোর্ডের একাধিক কি কাজ না করার কারণ হলো- কিবোর্ডে ময়লা জমে যায় ফলে তার নিচের প্লাস্টিক এর গায়ের ধাতব আর স্পর্শ করে না। এক্ষেত্রে কিবোর্ডটি রোদে শুকিয়ে ভালোভাবে ব্রাশ দিয়ে পরিস্কার করে নিতে হবে। সম্ভব হলে কিবোর্ড খুলে পরিস্কার করতে হবে।

কিবোর্ড একদম কাজ না করলে:

কিবোর্ড একদম কাজ না করলে আপনাকে কিবোর্ডের সংযোগ খুলে আবার ভালোভাবে লাগাতে হবে তারপরে না হলে অন্য পোর্টে লাগাতে হবে। তারপরেও যদি না হয় তাহলে কিবোর্ডটি খুলে অন্য পিসিতে লাগিয়ে পরিক্ষা করে দেখতে হবে কাজ করছে কি-না। এমন ভাবে কিবোর্ড পরিক্ষা করতে হবে। তারপর পরিবর্তন করতে হবে।

কম্পিউটার চালু করার সময় উইন্ডোজ ডেস্কটপে আসার আগে কিবোর্ড ইরোর ম্যাসেজ দিলে

কম্পিউটার চালু করার সময় যদি কিবোর্ডে ইরোর ম্যাসেজ আসে তাহলে বুঝতে হবে কিবোর্ডের সংযোগে কোন সমস্যা আছে সেক্ষেত্রে ঠিকভাবে লাগিয়ে দেখতে হবে। তবে বেশির ভাগক্ষেত্রে কিবোর্ডের আইসি খারাপ হয়ে যায় ফলে এমন সমস্যা হয়। এমন হলে কম্পিউটার হ্যাংক সমস্যা হতে পারে। সেক্ষেত্রে কিবোর্ড পরিবর্তন করতে হবে।

কিবোর্ড নম্বর কিপ্যাড কাজ করেনা:

যদি কিবোর্ডের নম্বর কাজ না করে, তাহলে দেখতে হবে নাম লক লাইট জ্বলছে কি-না। কারণ অনেক সময় নাম লক লাইট অটোমেটিক বা হাতে চাপ লেগে বন্ধ হয়ে যায় ফলে কিবোর্ডের নম্বর অংশ কাজ করে। এজন্য নাম লক লাইটের দিকে খেয়াল রাখতে হবে সেটা অন আছে কি-না।

কিবোর্ডের লিখার সময় ক্যাপস লক ছাড়াই কিছু সময় বড় হাতের লিখা হতে শুরু করে।

কিবোর্ডের যত সমস্যা হয় তার মধ্যে বেশির ভাগ সমস্যা হয় কিবোর্ড এর কি গুলো জ্যাম হওয়ার কারণে। সিফট কি-তে হাতে বেশি চাপ পড়ে ফলে সিফট কি জ্যাম হয়ে যায় বা পারমানেন্ট ফিক্স হয়ে যায়। এজন্য সব সময় ক্যাপিটাল লেটার হতে থাকে। এক্ষেত্রে আপনার কিবোর্ড টি হালকা করে বাড়ি দিয়ে ঠিক করতে হবে। জ্যাম ছোটানোর সমস্যার সমাধান করতে হবে।

Keyboard clock line failure/Controller Failure/Data line Failure

কিবোর্ড কন্ট্রোলারে সমস্যা হলে এরুপ ম্যাসেজ আসতে পারে। এমন সমস্যা হলে অন্য ‍কিবোর্ড লাগিয়ে পরিক্ষার করে পুরাতন বোর্ডের সমস্যা সনাক্ত করতে হবে।

পরিশেষে বলা যায় কিবোর্ডের সমস্যা তেমন কোন বড় সমস্যা না। তবে কাজের সময় যদি সমস্যা হয় তাহলে উপরোক্ত নিয়মে পরিক্ষা করে ঠিক করতে পারেন। যদি ঠিক না হয় তাহলে পরিবর্তন করে নিতে হবে। কোন কিছু জানার থাকলে আমাকে কমেন্ট করতে ভূলবেন না। কম্পিউটার সম্পর্কে আরো জানতে নিচে দেখুন।

Leave a Reply

error: Content is protected !!