জিমেইল একাউন্ট খোলার নিয়ম | নতুন ইমেইল একাউন্ট

জিমেইল একাউন্ট খোলার নিয়ম জনার আগে সুবিধা গুলো জানা দরকার। জিমেইল অ্যাকাউন্ট হলো গুগলের একটা ফ্রি পণ্য। গুগল সবার জন্য ফ্রিতে একটা জিমেইল অ্যাকাউন্ট করার সুযোগ দিয়েছে, তার সাথে সেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে গুগলের সকল পন্য ব্যবহার করার সুযোগ দিয়েছে। সাথে দিয়েছে ১৫ জিবি ফ্রি জায়গা, তো আমরা কি করি ইচ্ছামত অ্যাকাউন্ট করি। জিমেইল অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম সহকারে বিস্তারিত জানবো।

হিসাব করলে দেখা যাবে একেক জনের কয়েকটারও বেশি জিমেইল অ্যাকাউন্ট রয়েছে কিন্তু গুগলের কাছে এটা তাদের পলিসির বাইরে, তাদের পলিসি হলো একজনকে একটাই জিমেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে হবে এবং সেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে গুগলের সকল পন্য ব্যবহার করতে হবে। কারণ একটা জিমেইল অ্যাকউন্ট দ্বারা অনলাইন জগতের সব কাজ করা সম্ভব। তাই জিমেইল সম্পর্কে সামান্য কিছু টিপস্।

নতুন জিমেইল একাউন্ট খোলার নিয়ম :

জিমেইল একাউন্ট খোলার জন্য আপনাকে প্রথমে www.gmail.com প্রবেশ করতে হবে তারপর সাইনআপ করার জন্য ছোট একটা ফরম পূরণ করতে হবে। যেখানে আপনার নামের প্রথম অংশ দ্বিতীয় অংশ দিতে হবে। তারপর জিমেইল একাউন্ট যেটা হবে তার নাম সাথে আপনার গোপন পাসওয়ার্ড দিয়ে নেক্স করতে হবে। তারপর আপনার মোবাইল নম্বার দিতে হবে মোবাইলে একটা ভেরিফিকেশন কোড আসবে, কোডটা বসিয়ে দিলেই আপনার একাউন্ট তৈরী হয়ে যাবে। তখন থেকে আপনি ইমেইল করতে পারবেন নিচে আমি জিমেইল একাউন্ট ফরম চিত্র দিলাম দেখে নিতে পারেন।

জিমেইল একাউন্ট খোলার জন্য সাইনআপ ফরম

চিত্র: জিমেইল একাউন্ট সাইনআপ ফরম

জিমেইল একাউন্ট দিয়ে কি কি করা যায়:

  • সবার কাছে ফ্রিতে ই-মেইল করা যায়
  • ফ্রিতে ই-মেইল গ্রহন করা যায়
  • ইমেইল তথ্য সংরক্ষণ করা যায়
  • সাথে ১৫ জিবি মেমরি বা জায়গা পাওয়া যায়। (সকল ডাটা রাখার জন্য)
  • গুগল ড্রাইভ ব্যবহার করা যায় (১৫ জিবি স্পেসে জিমেইলে সকল তথ্য আপলোড করে রাখা যায়)
  • গুগল সহ অনলাইনের সকল পণ্য ব্যবহার করা যায়।

ভিডিও দেখে একাউন্ট খোলার নিয়ম :

ভিডিও দেখে একাউন্ট খোলার নিয়ম

Google- এর পণ্য ব্যবহারে জিমেইল ব্যবহার:

আপনি একটা জিমেইল অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম দ্বারা গুগলের সকল পণ্য ব্যবহার করতে পরবেন । যদি আলাদা আলাদা অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন তাহলে আপনার কাজ গুলো এলোমেলো হয়ে থাকবে। প্রতিটা পণ্য ব্যবহার করতে আপনি কি বার বার অ্যাকাউন্ট পরিবর্তন করবেন? যদি একটা অ্যাকাউন্টে সব পণ্য হয় তাহলে আপনি একবার গুগলে সাইন-ইন করে সব পণ্য ব্যবহার করতে পারবেন। কাজ করতে অনেক সহজ হবে।

বিভিন্ন জিমেইল দিয়ে কাজ করলে গুগল আপনার অ্যাকাউন্ট গুলো সাসপেন্ড করে দিতে পারে, মনে রাখবেন গুগল আপনাকে সব সময় ফলো করে আপনি যদি তার সাথে দুইনাম্বারী করে ধরাখান তাহলে আপনার অন্য পণ্যগুলো বাতিল করে দিতে পারে। যেমন- গুগলের তৈরী করা বিভিন্ন পণ্য গুলো হলো:

জিমেইল অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম জানলে আপনি জিমেইল অ্যাকাউন্ট খুলো এগুলো ব্যবহার করতে পারবেন। তাই গুরুত্ব সহকারে শিখে ফেলুন।

  • Gmail
  • YouTube
  • BlogSpot
  • .Google Drive
  • Google webmaster
  • .Google analytics
  • Google ad ward
  • .Google play store
  • Google sheet
  • Google Map
  • .Google Translate
  • Google Plus
  • Google adsence etc

জিমেইল দিয়ে গুগল থেকে আর্নিং :

আপনি যদি গুগল থেকে আর্নিং করতে চান তাহলে জিমেইল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে গুগল  আপনাকে টাকা পেমেন্ট করবে তাই জিমেইল অ্যাকাউন্ট আইডির গুরুত্ব অনেক।

সোস্যাল মিডিয়াতে জিমেইল ব্যবহার:

সোস্যাল মিডিয়াতে জিমেইল অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল নম্বর ছাড়া কোন অ্যাকাউন্ট করা সম্ভব নয়। সব সোস্যাল মিডিয়াতে জিমেইল অ্যাকাউন্ট ছাড়া ভ্যারিফাই করতে দেয়না। তবে ইয়াহু অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেও কাজ করা যায়। সমস্যা হলো এখন ইয়াহুর বাজার খুব খারাপ তাই  তার ব্যবহার হয় না বললেই চলে। এজন্য জিমেইল সম্পর্কে বলছি। যেমন সোস্যাল মিডিয়াগুলোর মধ্যে পপুলার কিছু সোস্যাল মিডিয়া গুলো হলো-

  • YouTube
  • Facebook
  • Instagram
  • Link in
  • Twitter
  • Reddit
  • Printest etc.

মোবাইলে জিমেইল একাউন্ট ব্যবহার :

মোবাইলে জিমেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে আপনি সহজে ইমেল আদান প্রদান করতে পারেন। আপনার মোবাইলের সকল তথ্য যেমন- মোবাইল নাম্বার, ছবি, ব্যাকআপ ইমেইলে সেভ করে রাখা যায়। ইমেইলে রাখলে মোবাইল পরিবর্তন করলেও সব তথ্য পুনরায় পাওয়া যায়। যেমন- আপনার মোবাইল নষ্ট হয়ে গেলে বা হারিয়ে গেলে পুনরায় নতুন মোবাইলে আগের ইমেইল সাইন-ইন করলে সব তথ্য চলে আসবে। বলা যায় জিমেইল অ্যাকাউন্টের অনেক সুবিধা রয়েছে।

তাই মোবাইলের সকল তথ্য জিমেইলে সংরক্ষন করলে নিরাপদ থাকবে। তবে আপনার পাসওয়ার্ড নিরাপদ রাখতে হবে। আর আপনার যদি ইমেইল দিয়ে সব তথ্য সেভ করা না থাকে তাহলে অন্তত জিমেইলে মোবাইল নম্বর গুলো সেভ করতে পারেন। কারণ বেশির ভাগ সময়ে আমাদের মোবাইল নম্বর হারিয়ে যায় তখন অনেক সমস্যায় পড়তে হয়।

অনলাইনে জিমেইল অ্যাকাউন্টের ব্যবহার :

অনলাইনের প্রতিটা সেক্টরে জিমেইল অ্যাকাউন্টের প্রয়োজন হয় যেমন-অনলাইনে যেকোন আবেদন করতে বা ফরম ফিলাপ করতে জিমেইল অ্যাকাউন্ট আপনার লাগবেই এজন্য অন-লাইন জগতে জিমেইল অ্যাকাউন্টের গুরুত্ব অনেক। তাই সবার একটা জিমেইল অ্যাকাউন্ট থাকার দরকার।

অফ-লাইন জগতেও জিমেইল অ্যাকাউন্ট ছাড়া তথ্য আদান প্রদান, আবেদন, দরখাস্ত করতে প্রয়োজন হয়। জিমেইল অ্যাকাউন্ট আপনার আইডি হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন। মোবাইল নম্বর যেমন একটি যোগাযোগের মাধ্যম, তেমনী তথ্য আদান-প্রদান করতে জিমেইল অ্যাকাউন্ট।

তাই আজই একটা জিমেইল অ্যাকাউন্ট করে নিতে পারেন। প্রায় ডিজিটাল জগতের সবাই জানে জিমেইল আ্যকাউন্টের ব্যবহার। তাও যারা জানেন না তাদের জন্য আমার পক্ষ থেকে এটা একটা টিপস্। অনেকেই আছেন যারা অনেক অ্যাকাউন্ট করে, তাদের জন্য আমার এটা টিপস্ হলো তারা যেন একটাই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে।

জিমেইল নিয়ে, আমার এই লিখাটি সম্পর্কে কোন কিছু বলার থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।

Leave a Reply

DMCA.com Protection Status
error: Content is protected !!