ইলেকট্রিক মালামালের নাম

ইলেকট্রিক মালামালের নাম, সব হাউজ ওয়ারিং এর মালামাল

আজ আমরা জানবো ইলেকট্রিক মালামালের নাম, হাউজ ওয়ারিং এর মালামাল পরিচিতি সমূহ বিস্তারিত ভাবে। আগের আর্টিকেলে আমরা জেনেছি ইলেকট্রিক হাউজ ওয়ারিং এর যন্ত্রপাতি সমূহ নিয়ে বিস্তারিত। আপনি যদি ইলেকট্রিক হাউজ ওয়ারিং শিখতে চান তাহলে আপনাকে হাউজ ওয়ারিং এর প্রয়োজনীয় মালামাল গুলো সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। আপনি যদি দক্ষ ইলেকট্রিক টেকনিশিয়ান হতে চান এবং ইলেকটিক্যাল কাজের উপর নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চান ও আয় করতে চান তাহলে ধর্য ধরে পুরো আর্টিকেলটি পড়ুন। সাথে সাথে ইলেকট্রিক মালামালের নাম ছবি সহকারে দেখুন ও ব্যবহার জানুন।

হাউজ ওয়ারিং এর মালামাল :

আজ আমি আপনাদের জন্য নিচে ইলেকট্রিক মালামালের নাম পরিচিতি, ছবি ও দাম সহকারে প্রতিটা হাউজ ওয়ারিং এর মালামাল সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেছি। এর পরের আর্টিকেল থেকে প্যাকটিক্যাল কাজ করার নিয়ম সম্পর্কে ধীরে ধীরে জানতে থাকবেন। যদি আপনাদের কমেন্ট এবং শেখার আগ্রহ দেখা যায় তাহলে হাউজ ওয়ারিং এর উপর নিয়মিত নতুন নতুন টপিক নিয়ে আর্টিকেল পাবলিশ করা হবে। এজন্য এখুনি মতামত কমেন্ট করুন।

ইলেকট্রিক সুইচ :

হাউজ ওয়ারিং এর মালামাল গুলো মধ্যে আমরা সব থেকে যেটা বেশি ব্যবহার করি তার নাম হলে ইলেকট্রিক সুইচ। ইলেকট্রিক সুইচের কাজ সাধারণত অন-অফ করা। যা বাজারে কিনতে গেলে ২০-৩০ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন। ইলেকট্রিক মালামালের নাম গুলো খোঁজ করলে বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির ইলেকট্রিক সুইচ পাবেন। যেমন- সুপার স্টার, সুপার প্লাস, প্রিতি ইত্যাদি ব্রান্ডের। ইলেকটিক সংযোগে সুইচ গুলো সিরিজ হিসাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বেশির ভাগ সুইচে দুইটা তার লাগানোর পিন থাকে।

ইলেকট্রিক সুইচ এর ছবি
ইলেকট্রিক সুইচ এর ছবি

কলিং বেল সুইচ :

হাউজ ওয়ারিং এর মালামাল গুলোর মধ্যে ২য়টি হলো ইলেকট্রিক কলিং বেল সুইচ। এটি কলিং বেলের জন্য বাড়ির দরজার সামনে ইলেকট্রিক বোর্ডে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই সুইচটি স্পিরিং ব্যবহার করে তৈরী করা হয়ে থাকে ফলে প্রেস করলেও আবার আগের পজিশনে চলে আসে। কলিং বেল সুইচটিও সার্কিটে সিরিজ হিসাবে একটি তারে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বাজারে ইলেকট্রিক মালামালের নাম দেখতে গেলে এটাও অনেক কেম্পানির পাওয়া যায়। যার বাজার মূল্য ২০-৩০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। নিচে কলিং বেল সুইচের ছবি দেওয়া হয়েছে।

কলিং বেল সুইচ এর ছবি
কলিং বেল সুইচ এর ছবি

ইলেকট্রিক সকেট :

ইলেকট্রিক মালামালের নাম জানতে হলে আপনাকে ইলেকট্রিক সকেটের নাম জানতে হবে। সাধারণত যেকোন ধরণের ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসকে কারেন্টর সাথে সংযোগ দেওয়ার জন্য ইলেকট্রিক সকেট ব্যবহার করা হয় এটাকে প্লাগও বলা হয়। ইলেকট্রিক সকেট সার্কিটে প্যারালাল ভাবে সংযোগ করা থাকে। যার দুইটা পিনের একটা পিন নেগেটিভ বা নিউটাল সংযোগ করা হয় অপর টা পজেটিভ বা ফেইজ সংযোগ করা হয়ে থাকে। হাউজ ওয়ারিং এর মালামাল গুলোর মধ্যে ইলেকট্রিক সকেট বাজারে ২০-৩০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। নিচে ইলেকট্রিক সকেটের ছবি দেওয়া হয়েছে।

ইলেকট্রিক সকেট এর ছবি
ইলেকট্রিক সকেট এর ছবি

ইলেকট্রিক ইন্ডিকেটর :

হাউজ ওয়ারিং এর মালামাল গুলো মধ্যে ইলেকট্রিক সুইচ বোর্ডে যে জিনিসটি সব সময় জ্বলে থাকে। আমরা যেটার সাহায্যে ইলেকট্রিক বোডের দিকে তাকালে বুঝতে পারি কারেন্ট আছে কি নাই, তার নাম হলো ইন্ডিকেটর। ইলেকট্রিক মালামালের নাম দেখলে বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির ইন্ডিকেটর পাওয়া যায়। যার বাজার মূল্য ২০-৩০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। ইলেকট্রিক ইন্ডিকেটর বোর্ডে প্যারালাল সংযোগ করে লাগানো থাকে। এর দুইটা পিনের মধ্যে একটা পজেটিভ আর একটা নেগেটিভ লাইন করা থাকে। নিচে ইলেকটিক ইন্ডিকেটর এর ছবি দেওয়া হয়েছে।

ইলেকট্রিক ইন্ডিকেটর এর ছবি
ইলেকট্রিক ইন্ডিকেটর এর ছবি

ফ্যান রেগুলেটর :

ইলেকট্রিক হাউজ ওয়ারিং এর মালামাল গুলোর মধ্যে ফ্যান রেগুলেটর গরমের সময় সব থেকে বেশি নষ্ট হয়ে থাকে তাই পরিবর্তন করার প্রয়োজন পড়ে। বেশির ভাগ সময় ফ্যান কোম্পানি নতুন ফ্যানের সাথে তাদের ব্রান্ডের রেগুলেটর দিয়ে থাকে। তবে ওয়্যারিং এর কাজ করতে হলে আপনাকে ফ্রি রেগুলেটর এর আশা করা যাবে না। সব কিছু এক সাথে কিনে নিতে হবে। রেগুলেটর সার্কিটের সুইচের সাথে সিরিজ হিসাবে লাইন করা থাকে। ইলেকট্রিক মালামালের নাম এর মধ্যে ফ্যান রেগুলেটর কমন অনেক কেম্পানির কিনতে পাওয়া যায়। যার বাজার মূল্য ১ বছরের গ্যারেন্টি সহকারে ৫০-১৫০ টাকা হয়ে থাকে। নিচে ফ্যান রেগুলেটরের ছবি দেওয়া হয়েছে।

ইলেকট্রিক ফ্যান রেগুলেটর এর ছবি
ফ্যান রেগুলেটর এর ছবি

ইলেকট্রিক ফিউজ :

হাউজ ওয়ারিং এর মালামাল এর মধ্যে ইলেকট্রিক ফিউজ অন্যতম একটি ডিভাইস বলা যায়। ইলেকট্রিক ফিউজ এর কাজ হলো ঘরের সার্কিট কে সুরক্ষিত রাখা। যেমন- কোন সমস্যা বা শর্ট সার্কিট জনিত কারণে এটার ভিতরে থাকা চিকন তার কেটে গিয়ে অগ্নি রোধ বা দূর্ঘটনা থেকে ঘর রক্ষা করে। এটা ফেইজ লাইনে সিরিজ হিসাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ইলেকট্রিক মালামালের নাম এর মধ্যে বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির নামে ফিউজ পাওয়া যায়। ফ্রিজের বাজার দাম ২০-৩০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। নিচে ইলেকট্রিক সার্কিট ফিউজের ছবি দেওয়া হয়েছে।

ইলেকট্রিক ফিউজ এর ছবি
ইলেকট্রিক ফিউজ এর ছবি

সিরামিক কাট আউট :

ইলেকট্রিক হাউজ ওয়ারিং এর মালামাল এর মধ্যে সিরামিক কাট আউট হলো এক ধরণের উন্নত ফিউজ। সাধারণ ফিউজ ও কাট আউটের মধ্যে পার্থক্য হলো সাধারণ ফিউজ ছোট প্লস্টিক ও নরমাল হয়ে থাকে কিন্তু কাট আউট বড় আকৃতির সিরামিক হয়ে থাকে। কাট আউট আমরা সব সময় মেইন লাইনে ব্যবহার করে থাকি। যেন ঘরের লাইনে কোন সমস্যা হলেই কাট আউট কেটে যায়। সিরামিক কাট আউট লাইনে সিরিজ হিসাবে ব্যবহার করা হয়। আপনি যদি ইলেকট্রিক মালামালের নাম বাজার যাচাই করেন তাহলে এটাও বিভিন্ন কোম্পানির ৩০-৬০ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন। নিচের সিরাসিক কাট আউটের ছবি দেওয়া হয়েছে।

ইলেকট্রিক সিরামিক কাট আউট এর ছবি
সিরামিক কাট আউট এর ছবি

ইলেকট্রিক মেইন সুইচ :

হাউজ ওয়ারিং এর মালামাল এর মধ্যে সব থেকে বড় যে সুইচটি মেইন লাইনের সাথে লাগানো থাকে তাকে মেইন সুইচ বলে। মোটকথা যে সুইচ অফ করলে পুরো বাড়ির লাইন অফ হয়ে যায় তাকেই মেইন সুইচ বলা হয়। আপনি ইলেকট্রিক মালামালের নাম যাচাই করলে ইলেকট্রিক মেইন সুইচ বিভিন্ন নামে ও বিভিন্ন দামে বাজারে পেয়ে যাবেন। যেমন ১০০-১০০০ টাকারও বেশি, তবে যেমন দাম তেমনী কার্যকারিতা থাকবে। মেইন সুইচ তারে সিরিজ করে লাগানো থাকে নিচের ইলেকট্রিক মেইন সুইচের ছবি দেওয়া হয়েছে।

ইলেকট্রিক মেইন সুইচ এর ছবি
ইলেকট্রিক মেইন সুইচ এর ছবি

এমসি অটো সুইচ :

ইলেকট্রিক এমসি সুইচ হলো এক ধরণের নতুন ও উন্নত মানের টেকশই দামি সুইচ। সাধারণত ইন্ডাস্ট্রি বা হাই লোডেড মেশিনে এ ধরনের সুইচ ব্যবহার করা হয়। ইলেকট্রিক এমসি সুইচ অটোমেটিক হিসাবে কাজ করে। মনে করুন আপনার মেশিনের কোন সমস্যা হয়েছে তখন এমসি সুইচ অটোমেটিক বন্ধ হয়ে যাবে। ইলেকট্রিক মালামালের দামের মধ্যে এমসি সুইচ হাউজ ওয়ারিং এর মালামাল এর দাম অনেক বেশি নিচের এমসি অটো সুইচের ছবি দেওয়া হয়েছে।

ইলেকট্রিক এমসি অটো সুইচ এর ছবি
এমসি অটো সুইচ এর ছবি

ইলেকট্রিক গ্যাং সুইচ  :

বর্তমানে বেশির ভাগ হাউস ওয়্যারিং এর কাজে ইলেকট্রিক গ্যাং সুইচ ব্যবহার করা হচ্ছে। গ্যাং সুইচ বলতে একই সাথে এক বা একাধিক সুইচ থাকাকে বোঝায়। ইলেকট্রিক গ্যাং সুইচ ওয়্যারিং এর কাজ অনেক সহজেই করা যায় এবং বেশি টেকশই ও স্টইলেস হওয়ায় বর্তমানে অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ইলেকট্রিক গ্যাং মালামলের নাম বিভিন্ন হয়ে থাকে। আপনি যদি হাউস ওয়্যারিং এর মালামাল গুলোতে গ্যাং সুইচ ব্যবহার করেন তাহলে খরচ অনেক বেশি হবে। নিচের গ্যাং সুইচের সকল ছবি দেওয়া হয়েছে এটা নিয়ে আরো বিস্তারিত একটা আর্টিকেল প্রকাশ করা হবে।

সব ইলেকট্রিক গ্যাং সুইচ এর ছবি
ইলেকট্রিক গ্যাং সুইচ এর ছবি

ইলেকট্রিক ফাইবার বোর্ড :

হাউজ ওয়ারিং এর মালামাল এর মধ্যে ইলেকট্রিক ফাইবার বোর্ড এমন একটি কম্পোনেন্ট যার উপরে সুইচ গুলো আটকানোর জন্য খাঁচ কাটা থাকে। আপনি যত পয়েন্টের বোর্ড চান তার মাপে এসকল খাঁচ কেটে নিতে হয়। তবে বর্তমানে সব রেডিমেট করা থাকে আপনি শুধু বোর্ডের মাপ জেনে বাজার থেকে ক্রয় করে নিতে পারবেন। ইলেকট্রিক ফাইবার বোর্ড সাইজ অনুসারে দাম হয়ে থাকে। আপনি ইলেকট্রিক এর দোকানে গিয়ে দাম জেনে নিতে পারেন। নিচের ইলেকট্রিক ভাইবার বোর্ড এর ছবি দেওয়া হয়েছে।

সব ইলেকট্রিক ফাইবার বোর্ড এর ছবি
ইলেকট্রিক ফাইবার বোর্ড এর ছবি

ইলেকট্রিক প্লাস্টিক বোর্ড :

হাউস ওয়্যারিং এর জন্য ইলেকট্রিক সুইচ যেখানে বসানো হয় সেখানে খাঁচ কাটা থাকে। তেমনী উপরের ফাইবার বোর্ডের মত প্লাস্টিকের বোর্ড বাজারে পাওয়া যায় । যারা সাময়িক ভাবে কম টাকাতে ঘর ওয়্যারিং করতে চাই বা দেওয়ালের উপরে বোর্ড বসাতে চাই তাদের জন্য এসকল প্লাস্টিক বোর্ড কিনতে পারেন এতে ওয়্যারিং খরচ অনেক কম হয়। দেওয়াল না কোটে দেওয়ালের উপর পেরেক বা স্ক্রু দিয়ে আটকিয়ে ঘর ওয়্যারিং করা যায় নিচে প্লাস্টিক সুইচ বোর্ড এর ছবি দেওয়া হয়েছে।

সব ইলেকট্রিক প্লাস্টিক বোর্ড এর ছবি
ইলেকট্রিক প্লাস্টিক বোর্ড এর ছবি

রয়েল পিন,স্টার,মাইনাস স্কু :

ইলেকট্রিক কাজ করতে রয়েল পিন ও স্টার/মাইনাস স্ক্রু প্রচুর ব্যবহার করা হয়। যেকোন ধরণের বোর্ড দেওয়ালে আটকাতে হলে রয়েল পিন, স্টার/মাইনাস স্কু প্রয়োজন হয়ে থাকে। আপনি হাউস ওয়্যারিং এর জন্য যখন কোন ড্রিলিং বা দেওয়াল ছেদ করবেন তখন সেই ছেদে রয়েল পিন প্রবেশ করিয়ে স্ক্রু দিয়ে আটকানোর জন্য রয়েল পিন, স্টার/মাইনাস স্কু ব্যবহার করা হয়। নিচে রয়েল পিন, স্টার/মাইনাস স্কু এর ছবি দেওয়া হয়েছে।

রয়েল পিন, স্টার, মাইনাস স্কু এর ছবি

ইলেকট্রিক স্টিল বোর্ড :

হাউস ওয়্যারিং এর মালামালের মধ্যে ইলেকট্রিক স্টিল বোর্ড দেওয়াল কেটে সিমেন্ট দিয়ে জ্যাম দেওয়া হয় তারপর যখন ঘরের কাজ পুরো শেষ হয়ে যায় তখন ঘর ওয়্যারিং করার সময় তাতে ফাইবার বোর্ড বা গ্যাং সুইচ বোড গুলো স্ক্রু দিয়ে লাগানো হয়। এসকল ইলেকট্রিক স্টিল বোর্ড বিভিন্ন সাইজের হয়ে থাকে। ফাইবার বোর্ডের মত ৪/৪, ৪/৬, ৪/১২, ৮/১০ ইত্যাদি বিভিন্ন মাপের হয়ে থাকে। ইলেকট্রিক স্টিল বোর্ড এর দাম সাইজ অনুসারে হয়ে থাকে। নিচের ইলেকট্রিক সুইচ স্টিল বোর্ডের ছবি দেওয়া হয়েছে।  

সকল ইলেকট্রিক স্টিল বোর্ড এর ছবি
ইলেকট্রিক স্টিল বোর্ড এর ছবি

ইলেকট্রিক সিলিং রোজ :

হাউস ওয়্যারিং এজন্য ঘরের ছাদের সাথে কানেকশন করে যে সার্কুলার বক্স লাগানো হয়ে থাকে তাকে সিলিং রোজ বলে। সিলিং রোজ ব্যবহার করা হয়ে থাকে যেন সেখানে পরবর্তীতে যেন যেকোন সময় ফ্যান লাইট ইত্যাদি লাগানো যায়। ইলেকট্রিক সিলিং রোজের বাজার দাম ২৫-৩০ টাকা। সিলিং রোজে সার্কিটের নেগেটিভ ও পজেটিভ তার লাগানো থাকে ফলে সিলিং রোজের সাথে যেকোন ডিভাইস লাগিয়ে চালানো যায়। নিচে সিলিং রোজের ছবি দেওয়া হয়েছে।

ইলেকট্রিক সিলিং রোজ এর ছবি
ইলেকট্রিক সিলিং রোজ এর ছবি

ইলেকট্রিক বাটম হোল্ডার :

বাটাম হোল্ডার হলো দেওয়ালের সাথে বাল্প লাগানোর জন্য যে হোল্ডার ব্যবহার করা হয় তাকে বাটাম হোল্ডার বলা হয়ে থাকে। ইলেকট্রিক মালামালের নাম জানতে গিয়ে আপনি আজ হয়ত নতুন নতুন নাম জানলেন। কিন্তু আপনি জানেন কি ইলেকট্রিক হাউস ওয়ারিং শিখতে হলে এগুলো জানা তেমন কিছু নয়। বাজারে ইলেকট্রিক বাটাম হোল্ডারের দাম ৩০-৪০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে বাটাম হোল্ডারে নেগেটিভ পজেটিভ লাইন দেওয়া থাকে নিচে বাটম হোল্ডারের ছবি দেওয়া হয়েছে।

ইলেকট্রিক বাটম হোল্ডার এর ছবি
ইলেকট্রিক বাটম হোল্ডার এর ছবি

ইলেকট্রিক তার ওয়্যার :

হাউস ওয়ারিং ইলেকট্রিক মালামালের মধ্যে যে জিনিসটা চেনা সবচেয়ে কঠিন মনে হতে পারে সেটা হলো ইলেকট্রিক তার বা ওয়্যার। কারণ ইলেকট্রিক হাউস ওয়্যারিং এর তার বিভিন্ন নম্বরে ও বিভন্ন কোম্পানির হয়ে থাকে। যেমন -14/76, 3/20, 3/22, 7/20, 7/22। তবে মনে রাখবেন ঘরের ভিতরে সাধারণত 3/20, 3/22 তার ব্যবহার করা হয় বেশি আর মেইন লাইন গুলোতে 7/20, 7/22 তার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এসব তারের দাম ও মাপ আপনি যেকোন ইলেকট্রিক এর দোকানে দেখে নিতে পারেন। নিচের ইলেকট্রিক তারের কিছু নমুনা ছবি দেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন ইলেকট্রিক ওয়্যার এর ছবি
ইলেকট্রিক তার ওয়্যার এর ছবি

ইলেকট্রিক ওয়্যারিং পাইপ :

আপনি যদি দেওয়াল কেটে হাউস ওয়্যারিং করতে চান তাহলে আপনাকে ওয়্যারিং পাইব সম্পর্কে কিছুটা ধারণা রাখতে হবে। আপনাকে মনে রাখতে হবে কোথায় কতটা তার প্রবেশ করাবেন আর যে পাইপ ব্যবহার করছেন তার মধ্যে সেগুলো আটবে কি-না। যেমন সিঙ্গেল তার প্রবেশ করলে ¼, বা ½, ইঞ্চি পাইপ দিতে পারবেন আর বেশি তার প্রবেশ করালে 1 ইঞ্চি 1.5 ইঞ্চি পাইপ দেওয়ালের মধ্যে দিতে পারবেন। আর দেওয়ালের উপরের জন্য বাটাম পাইপ দিতে পারেন। যেগুলো বাজারে বিভিন্ন দামে পাওয়া যায় নিচে ইলেকট্রিক ওয়্যারিং পাইপের কিছু ছবি দেওয়া হয়েছে।

হাউস ওয়্যারিং পাইপ এর ছবি
ইলেকট্রিক ওয়্যারিং পাইপ এর ছবি

ইলেকট্রিক ফিটিংস :

হাউস ওয়ারিং এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাটারিয়াল গুলোর মধ্যে ঘরে, বাইরে, ছাদে, দেওয়ালে পাইপের সাথে সংযোগ করতে যে ফিটিংস গুলো ব্যবহার করা হয় তাকে ইলেকট্রিক ফিটিংস বলে। এসকল ফিটিংস পাইপের সাইজ অনুসারে তৈরী করা হয়। হাউস ওয়্যারিং এর মালামালের নাম এর মধ্যে এলবো, সার্কুলার বক্স, জয়েন্টার ইত্যাদি রয়েছে, এগুলোর নাম অতটা জানার প্রয়োজন নেই কারণ ইলেকট্রিক এর দোকানে গেলে ওরাই মনে করে লিখে দিবে। নিচে বিভিন্ন ধরণের ইলেকট্রিক ফিটিংস এর ছবি দেওয়া হয়েছে।

হাউস ওয়্যারিং ফিটিংস এর ছবি
ইলেকট্রিক ফিটিংস এর ছবি

ইলেকট্রিক ব্লক টেপ :

হাউস ওয়্যারিং এর মালামাল কিনতে গেলে সব কিছু কেনার সময় টেপ কিনতে হবে সেটা আপনার তারের সাথে মিল রেখে ক্রয় করবেন। যেমন- লাল, কালো, নীল, সাদা, ইত্যাদি হতে পারে। ইলেকট্রিক টেপ হলো অঠা যুক্ত এক ধরণের প্লাস্টিক আবরণ, হাউস ওয়্যারিং করার সময় যেকোন ধরণের জয়েন্টে জড়িয়ে লিক প্রুভ করতে কাজে লাগানো হয়ে থাকে। হতে পারে সেটা তারের জয়েন্ট অথবা পাইপের জয়েন্ট নিচে ইলেকট্রিক টেপের ছবি দেওয়া হয়েছে।

ইলেকট্রিক ব্লক টেপ এর ছবি
ইলেকট্রিক ব্লক টেপ এর ছবি

ইলেকট্রিক ফ্যান হুক :

ছাদের ঢালাইলের আগে রডের সাথে ফ্যান আটাকানের জন্য যে এঙ্গেল দেওয়া হয়। আপনি যদি ছাদ ঢালাইয়ের সময় এসব ফ্যান হুক না দিয়ে থাকেন তাহলে পরবর্তীতে ছাদ ফুটো করে ফ্যান আটকানো অনেক ঝামেলা ও রিস্কি হয়ে যাবে। তাই হাউস ওয়্যারিং করার সময় যখন ছাদে পাইপ ফেলবেন তখন মনে করে অবশ্যই রডের ফ্যান হুক গুলো পজিশন দেখে দিতে হবে। উদাহারণ স্বরুপ নিচে ফ্যান হুকের ছবি দেওয়া হয়েছে।

ইলেকট্রিক ফ্যান হুক এর ছবি
ইলেকট্রিক ফ্যান হুক এর ছবি

ইলেকট্রিক লাইট বাল্ব :

আপনি বাজার যাচাই করলে হাজারও রকম ইলেকট্রিক লাইট ও বাল্ব কিনতে পারবেন। আর যেহেতু প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ধরণের বাল্প বাজারে আসছে আর আপনি নিজের বাড়িতে ব্যবহার করছেন সেক্ষেত্রে হয়ত লাইট সম্পর্কে আপনাদের তেমন কিছু জানার প্রয়োজন নেই। বাজারে বিভিন্ন দামে, বিভিন্ন ধরণের বাল্প কিনতে পাবেন। যেমন- ফিলামেন্ট, এলইডি, এনার্জি, টিউব লাইট ইত্যাদি। নিচে উদাহারণ স্বরুপ একটি বল্পের ছবি দেওয়া হয়েছে।

ইলেকট্রিক লাইট বাল্ব এর ছবি
ইলেকট্রিক লাইট বাল্ব এর ছবি

আজকের ইলেকট্রিক হাউস ওয়্যারিং এর ২য় পর্বে আশা করছি আপনারা ইলেকট্রিক হাউস ওয়্যারিং যন্ত্রপাতি ও হাউস ওয়্যারিং ম্যাটেরিয়াল সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা পেয়েছেন। এবার থেকে আমরা হাউস ওয়্যারিং সম্পর্কে আরো বিস্তারিত ভাবে জানতে থাকবো। উপরের কোন বিষয়ে যদি কোথাও আপনাদের বুঝতে কোন সমস্যা হয় তাহলে নিচে কমেন্ট করুন এবং আর্টিকেলটি ভালো হলে অবশ্যই একটা লাইক ও শেয়ার করুন।

ইলেকট্রিক হাউজ ওয়ারিং এর যন্ত্রপাতি পরিচিতি

6 Comments

  1. Manik Miya March 14, 2020
  2. Mizanur Rahman May 10, 2020
    • admin May 10, 2020
  3. Md rakib August 3, 2020
    • admin August 3, 2020

Leave a Reply

DMCA.com Protection Status