ডায়োড কি এর কাজ কি | ডায়োড এর প্রকারভেদ | ডায়োড ব্যবহার

ডায়োড কি?

ডায়োড কি বলতে গেলে ডায়োড কথাটি দুইটি কথার সমন্নয়ে গঠিত, ‘ডাই’ এবং ‘ইলেক্ট্রোড’ তাই আমরা সাধারণ ভাবে বলতে পারি দুই ইলেক্ট্রোড বিশিষ্ট্র ইলেক্ট্রনিক্স কম্পোনেন্ট ই হলো ডায়োড। ডায়োডের দুইটা বর্তর্নী রয়েছে একটি অ্যানোড এবং অন্যটি ক্যাথোড যার এক দিকে নেগেটিভ অপর দিকে পজেটিভ টার্মিনাল থাকে। সাধারণত অ্যানোডকে পজেটিভ বা ফরোয়ার্ড বেস টার্মিনাল এবং ক্যাথোডকে নেগেটিভ রিভার্স বেস টার্মিনাল বলা হয়।

ইলকট্রনিক্সে ডায়োড :

ইলেক্ট্রনিক্সের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটা ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইসে ডায়োডের বহু ব্যবহার হয়েই চলেছে । ইলেক্ট্রনিক্স যে কয়েকটি কম্পোনেন্ট নিয়ে গঠিত হয় তার মধ্যে অন্যতম একটি হলো ডায়োড, তাই ইলেক্ট্রনিক্স সম্পর্কে জানতে হলে রেজিস্টরেরপরে ডায়োডকে ভালোভাবে জানতে হবে। ইলেক্ট্রনিক্স হবিপ্রজেক্টের জন্য ডায়োড অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই রেজিস্টরের পরে আজ ডায়োড সম্পর্কে আপনাদের পূর্ণ ধারণা দিবো। কারণ হবিপ্রজেক্ট করতে ডায়োড সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান থাকা দরকার।

ইলকট্রনিক্সে ডায়োড ব্যবহার:

ইলেক্ট্রনিক্সে ডায়োড বা রেক্টিফায়ার বিভিন্ন ভাবে ব্যবহার করা হয়। তবে ইলেক্ট্রনিক্সে ডায়োডের বা রেক্টিফায়ারের মূল এবং প্রধান কাজ হলো এসি কারেন্ট কে ডিসি কারেন্টে রুপান্তরিত করে কারেন্টকে সব সময় একমূখি করা। আর কারেন্ট এসিকে ডিসি করার এই নিয়মকে একমূখি করণ বা রেক্ট্রিফিকেশন বলা হয়।

এসি অর্থ অল্টারনেটিভ কারেন্ট আর ডিসি অর্থ ডাইরেক্ট কারেন্ট। এবং এধরণের ডায়োড কে রেক্টিফায়ার ডয়োড বলা হয়। অর্থাৎ ডায়োডে কারেন্ট সাপ্লাই হলে তা আর ফেরত আসতে পারবেনা কারণ ডায়োডের নেগেটিভ পজেটিভ আছে, যাকে পি এবং এন দ্বারা প্রকাশ করা হয়। পি অর্থ অ্যানাড পজেটিভ আর এন অর্থ ক্যাথোড নেগেটিভ।

ইলকট্রনিক্সে ডায়োড ব্যহারের কারণ:

বাণিজ্যিক ভাবে আমরা সব সময় এসি করেন্ট পেয়ে থাকি তাই আমাদের বিভিন্ন মানের ডিসি কারেন্ট তৈরীর জন্য ডায়োডের ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও আমাদের নিত্য দিনের ব্যবহৃত ইলেক্ট্রনিক্স প্রতিটা ডিভাইস ডিসি কারেন্টে চালিত হয়। আমাদের ব্যবহৃত টিভি, মোবাইল, কম্পিউটার ইত্যাদি বেশির ভাগ সব ডিসি কারেন্টে চলে। আমরা যদিও এসি কারেন্টে দিয়ে কম্পিউটার, টিভি অন করি, কিন্তু আসলে টিভির মধ্যে যে ডায়োড বা রেক্টিফায়ার থাকে তা এসি কারেন্ট কে ডিসি কারেন্ট ভোল্টে রুপান্তরিত করে। এজন্য ইলেক্ট্রনিক্সে ডায়োডের ব্যবহার হয়ে থাকে।

পি আই ভি ডায়োড কি:

পিআইভি অর্থ পিক ইন ভার্স ভোল্টেজ। কোন ডায়োড কে রিভার্স বায়সে রাখলে এর অ্যানোড নেগেটিভ এবং ক্যাথোড পজেটিভ হয়। আপনি যদি অ্যানোডের নেগেটিভ ভোল্টেজ আস্তে আস্তে বাড়ান তখন দেখবেন যে আস্তে আস্তে ডায়োডটি গরম হতে শুরু করেছে দেখবেন বেশি গরম হলে ডায়োডটি নষ্ট হয়ে যাবে। তাই সমস্ত ডায়োডের ক্ষেত্রে অ্যানোড কতটুকু নেগেটিভ ভোল্টেজ দেওয়া যেতে পারে তার একটা সীমা প্রতিটি ডায়োডে বেধে দেওয়া থাকে। এটাই পি আই ভি ভোল্টেজ যেমন- IN 4001, IN4002, IN 4007 ইত্যাদি।

  • IN 4001 এর ক্ষেত্রে PIV 50 ভোল্ট সবোর্চ্চ কারেন্ট 1 অ্যাম্পিয়ার।
  • IN4002 এর ক্ষেত্রে PIV 100 ভোল্ট সবোর্চ্চ কারেন্ট 1 অ্যাম্পিয়ার।
  • IN 4007 এর ক্ষেত্রে PIV 1000 ভোল্ট সবোর্চ্চ কারেন্ট 1 অ্যাম্পিয়ার।

এই ভাবে ডায়োডের নম্বর আলাদা হলে তার কাজও আলাদা হয়। এজন্য ডায়োড সম্পর্কে জানতে হলে তাকে সরাসরি ভালো করে দেখতে হবে। তবে ডায়োডের বিকল্প ব্যবহার করা যায়।

ডায়োডের বিকল্প ডায়োড সমূহ:

আপনি যখন প্রজেক্ট করার জন্য কোন ডায়োড পাবেন না তখন তার বিকল্প ডায়োড ব্যবহার করতে হবে যদি না করেন তাহলে আপনার প্রজেক্ট সম্পূর্ন হবে না। এজন্য ডায়োড সহ বিশেষ করে বিভিন্ন পার্টস এর বিকল্প ব্যবহার জানতে হবে। ডায়োডের বিকল্প কিছু ডায়োড তালিকা:

   বিকল্প
IN 4001 IN4002, IN4003, IN4004, IN4005, IN4007,
IN4002 IN4003, IN4004, IN4005, IN4007,
1N4003 1N4004, 1N4005, 1N4007
1N4004 1N4005, 1N4007
1N4005 1N4007
1N4007 1N5408
1N4009 A14B
1N4506 A14D
1N1N5461 A14M
1N5462 A14N
A14P A15A
EM401 EM4005
1N914A 1N34
1N34 1N914
1N4148 1N4149
1N4149 IN4148
OA79 OA71 OA81 OA91  

মিটারের মাধ্যমে ডায়োড পরিক্ষার নিয়ম:

অ্যাভোমিটারের মাধ্যমে খুব সহজে ডায়োড বা রেক্টিফায়ার পরিক্ষা করা যায় । অ্যাভোমিটারের ওহম সেকশন সিলেক্ট করে,

প্রথমবার, ডায়োডের নেগেটিভে মিটারের নেগেটিভের সাথে এবং ডায়োডের পজেটিভ মিটারের পজেটিভের সাথে সংযুক্ত করলে একটা রিডিং দিবে। যদি রিডিং দেয় তাহলে দ্বিতীয়বার, ডায়োডের নেগেটিভের সাথে মিটারের পজেটিভ এবং ডায়োডের পজেটিভের সাথে মিটারের নেগেটিভ সংযুক্ত করলে ডায়োড ভালো থাকলে রিডিং দিবে না।

যদি দুই পারেই রিডিং দেয় বা কোন রিডিং না দেয় তাহলে বুঝবেন ডায়োড খারাপ। অর্থাৎ সহজ হিসাব শুধু এক ভাবে রিডিং দিবে। পজেটিভে পজেটিভ দিলে রিডিং দিবে। আবার বলি.. যদি দুই পারেই ধরলে রিডিং দেয় বা দুই পারেই ধরলে কোন রিডিং না দেয় তাহলে বুঝবেন ডায়োড খারাপ। শুধু একপারে ধরলে রিডিং দিবে বা মিটারের কাটা ফুল নড়বে/ডিজিটাল মিটারের নাম্বার বাড়বে। আশাকরি বুঝাতে পেরেছি না বুঝলে কমেন্ট করুন।

আশা করি ডায়োডের ব্যবহার এবং ডায়োড সম্পর্কে আপনাদের প্রাথমিক ধারণা হয়েছে।

বর্তমানে ইলেক্ট্রনিক্সে অনেক ধরণের ডায়োডের ব্যবহার হয় তার বণর্না করে শেষ করা সম্ভব নয় তবে যতটুকু আপনাদের জানার প্রয়োজন ততটুকু নিয়ে আপনাদের একটি বেসিক ধারণা দেয়ার চেষ্টা করবো। আশা করি আমি যতটুকু ধারণা দিবো এর বেশি আপনাদের জানার প্রয়োজন হবেনা। তো চলুন বর্তমানে ব্যবহৃত কিছু স্পেশাল ডায়োড সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

ইলকট্রনিক্সে বহুল ব্যবহৃত কিছু স্পেশাল ডায়োড সমূহ:

ডায়োড কি all diode photos

১। জেনার ডায়োড কি (Zener Diode):

জেনার ডায়োড হলো একধরণের ভোল্টেজ ষ্টেবিলাইজারের মত কাজ করে। সে একটা নির্দিষ্ট ভোল্টের ডিসি কারেন্ট আউটপুট দেয়। অর্থাৎ আপনি যদি জেনার ডায়োডের ইনপুটে কম-বেশি কারেন্ট দেন তাহলে সে আউটপুটে নির্দিষ্ট একটা কারেন্ট দিবে । ভোল্টের কোন নড়চড় হবে না।ভিন্ন ভোল্টের জেনার ডায়োড হয়। আপনার যে ভোল্টের ডায়োড লাগবে সেটা আপনাকে সংগ্রহ করে নিতে হবে।

তাবে একটা কথা মনে রাখবেন যে জেনার ডায়োড শুধুমাত্র রিভার্স বায়সে কাজ করানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। আর এখানেই রেক্টিফায়ার ডায়োডের সাথে জেনার ডায়োডের প্রধান পার্থক্য। রেক্টিফায়ার ডায়োড সব সময় ফরওয়ার্ড বায়সে কাজ করে।

তাই বলে আপনি যদি ডায়োডের ধরণ ক্ষমতার বাইরে কারেন্ট ইনপুট করেন তাহলে সেটা নষ্ট হয়ে যাবে এজন্য আগে ডায়োডের ক্ষমতা সম্পর্কে জানতে হবে তার পর কারেন্ট দিতে হবে। ডায়োডের গায়ে লিখা থাকবে ডায়োডটি কত ভোল্টে আউটপুট দিবে এবং জেনে নিতে হবে যে সেটার সর্বোচ্চ ইনপুট কত ভোল্ট নিতে পারবে।

২। লাইট ইমিটিং ডায়োড ‍কি (Light Emitting Diode):

লাইট ইমিটিং ডায়োড হলো ফরওয়ার্ড বায়সে নির্দিষ্ট কারেন্ট ইনপুট করলে তা থেকে আলো নির্গত হতে থাকে। একে সংক্ষেপে এলইডি বলা হয়। এর ভোল্ট ১.৫ হতে ৩.৫ হয়। এলইডি থেকে নানা রঙের আলো পাওয়া যায়। লাল, নীল, হলুদ, সবুজ ইত্যাদি। এটা অনেক বিদুৎ সাশ্রয়ী বলে এর ব্যবহার দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। বর্তমানে এলইডি টিভি, মনিটর, মোবাইল, হোম লাইট, ইত্যাদি প্রতিটা ইলেক্ট্রনিক্সে ব্যবহার করা হচ্ছে। এলইডি আবিষ্কারের ফলে বিদ্যুতের খরচ কমে গিয়েছে।

৩। সেভেন সেগমেন্ট এলইডি ডিসপ্লে ডায়োড কি (L.E.D Display):

সেভেন সিগমেন্ট এলইডি হলো সতটা লাইটের সমন্নয়ে গঠিত একটা ডিজিটাল ডিসপ্লে দেখতে অনেক ইংরেজি আটের মত। এটা বর্তমানে ডিসপ্লেতে ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- বিভিন্ন ডিজিটাল ঘড়ি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল নোটিস বোর্ড, রাস্তার সিগন্যাল ইত্যাদি।

৪। ফটো ডায়োড কি (Photo Diode):

ফটো ডায়োড হলো একটি আবরন যুক্ত ডায়োড যেটার উপর আলো পড়লে এর মধ্যে দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় এবং এটা কাজ করে তবে এটা রিভার্স বায়সে কাজ করে। এর বৈশিষ্ট্য ডায়োডের উপর আলো পড়লে এর লিকেজ কারেন্টের পরিবর্তন হয়। ফটোডায়োড হলো এলডিআর রেজিস্টর এর মত আলোতে কাজ করে এর উপর কতটা আলো পড়বে তার উপর কারেন্টের গতি নির্ধারিত হবে।

এটা বর্তমানে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে তার মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চোর ধরার প্রজেক্টের যন্ত্রে, আগুনের সংকেত অ্যালার্ম যন্ত্রে, আলোর উপস্থিতি র্নিণয় করার যন্ত্রে, রোদের তাপমাত্রা দেখার যন্ত্রে, কম্পিউটারের বিভিন্ন কাজে ইত্যাদি।

এছাড়াও আরো অনেক ডায়োড রয়েছে যেগুলো ইলেক্ট্রনিক্সে ব্যবহার হয় নিম্নে উল্লেখ করা হলো।

  • ভ্যারাকটার ডায়োড (Varactor Diode)
  • টানেল ডায়োড (Tunnel Diode)
  • Suppression Diode
  • Super barrier Diode
  • Point contact diode
  • ভ্যারিস্টর ডয়োড ( Varistor Diode)
  • Pettier Diodes
  • ভ্যারাকটার ডায়োড (Varactor Diode)
  • Vacuum diode
  • স্কটকি ডয়োড ( Schottky Diode)
  • Laser Diode
  • Silicone Controller Recited diode
  • Crystal diode
  • IR LEDs
  • Step recovery diodes
  • Signal diode
  • Constant current diode
  • Avalanche diode
  • Pin Diode
  • Gunn diode

আপনাদের ডায়োড সম্পর্কে যদি আরো কিছু জানার থাকে তাহলে আমাকে কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভূলবেন না । যদি সম্ভব হয় উওর দেওয়ার চেষ্টা করব।

Leave a Reply

error: Content is protected !!