কম্পিউটার হ্যাংক হলে করণীয় | হ্যাংক সমস্যার সমাধান

কম্পিউটার হ্যাংক হলে করণীয়- হ্যাং সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়নি হয়ত এমন মানুষের সংখ্যা অনেক কম। কম্পিটার হ্যাং হওয়া আর নতুন কোন বিষয় নয়। যারা প্রতিদিন কম্পিউটারের কাজ করে তাদের কাছে এটা চিরচারীত পুরাতন বিষয়। তাই আজ জেনে নিবো কম্পিউটার হ্যাং হলে কি করতে হবে ও কম্পিউটার হ্যাং হওয়া থেকে রক্ষার উপায়।

কম্পিউটার হ্যাংক হলে করণীয় :

এখন কম্পিউটার হ্যাংক সমস্যার সমাধান গুলো নিচে ধারাবাহিক ভাবে জানবো । তাহলে চলুন সমস্যা এবং সমাধান ও কম্পিউটার হ্যাংক হলে করণীয় বিষয় গুলে জেনেনি।

কম্পিউটার রিস্টার্ট :

প্রথমে কম্পিউটার রিস্টার্ট করে নিতে হবে। কম্পিউটার রির্স্টাট করলে আপনার কম্পিউটারের অনেক সমস্যার সমাধান অটোমেটিক হয়ে যাবে। তাই কোন কিছু করার আগে রির্স্টাট করে নিন।

নেটওয়ার্ক জনিত সমস্যা:

নেটওয়ার্ক জনিত সমস্যার কারণেও কম্পিউটার হ্যাং করে। আর আপনার যদি নেটওয়ার্ক কেবল থোকে তাহলে আপনার ওয়াইফাই রাওটার বন্ধ করে কিছুক্ষন রাখতে হবে। সম্ভব হলে রির্স্টাট করে নিতে হবে। তাহলে নেটওয়ার্ক জনিত সমস্যার সমাধান হয়ে য়াবে।

অপ্রয়োজনীয় সফট্ওয়্যার:

আপনার কম্পিউটারে যদি অপ্রয়োজনীয় সফট্ওয়্যার থাকে তাহলে তা কনটোল প্যানেল থেকে রিমোভ করে ফেলতে হবে। কারণ অনেক সময় দেখবেন কিছু সফট্ওয়্যার অটোমেটিক ইনইস্টল হয়ে যায়। এর কারণে কম্পিউটারের উইন্ডোজ ভারি হয়ে যায়। ফলে কম্পিউটার হ্যাং করে।

প্রিন্টারের কারণে হ্যাংক করলে:

প্রিন্টারের কারণে অনেক সময় কম্পিউটার হ্যাংক করে এজন্য প্রিন্টার টি বন্ধ করে আবার চালু করে নিতে হবে। যদি কোন সমস্যা থাকে তাহলে তার সমাধান সহজে হয়ে যাবে।

ব্রাউজার জনিত কারণে হ্যাংক :

আপনার কম্পিউটারে নেটের জন্য যদি কোন ব্রাউজার ব্যবহার করে থাকেন আর যদি সেই ব্রাউজারে অনেক প্লাগিন অটোমেটিক অ্যাকটিভ হয়ে যায়। তাহলে কম্পিউটার ভারি হয়ে য়ায়। ব্রাউজার ওপেন করার সাথে সাথে কম্পিউটার হ্যাং করতে পারে। প্লাগিন গুলো প্রয়োজন না হলে রিমুভ করে ফেলুন।

টাইমজোন সময় ঠিক রাখা :

আপনার কম্পিউটারের সময় বা টাইমজোন ঠিক রাখতে হবে। যদি সিমোস ব্যাটারী খারাপ থাকে তাহলে তা পরিবর্তন করতে হবে। সিমোস ব্যাটারীর কি অন্য একটা আর্টিক্যালে বিস্তারিত বর্ণনা করা হবে। কম্পিউটার বন্ধ করলে সিমোস ব্যাটারী কম্পিউটারের কিছু মেমোরী ধরে রাখে। তার মধ্যে হলো ঘড়ির সময়। কম্পিউটারের সময় যদি ঠিক না থাকে তাহলে কম্পিউটার হ্যাং করার সম্ভাবনা থাকে বিশেষ করে অনলাইনে থাকা অবস্থায়

ভাইরাস জনিত কারণে হ্যাংক :

শটর্কটা বা ম্যালাওয়ার ভাইরাসের কারণে কম্পিউটার হ্যাং করে। কারণ এসব ভাইরাস কম্পিউটারের সিস্টেমে খুব তাড়াতাড়ি প্রবেশ করে সিস্টেমে বাধা প্রদান করে স্থান দখল করে নেই। তাই আপনার কম্পিউটার কে ভাইরাস মুক্ত রাখতে হবে। এজন্য যেকোন একটা এন্টিভাইরাস ব্যবহার করতে হবে।

ইউএসবি সিকিউরিটি :

আপনার কম্পিউটারে ইউএসবি সিকিউরিটি ব্যবহার করতে হবে। যেখানে-সেখানে থেকে প্রেনড্রাইভ এনে লাগানো যাবে না। কারণ বিভিন্ন জনের কম্পিউটারে বিভিন্ন ভাইরাস থাকে। অনেক সময় এমন হয় যে প্রেনড্রাইভ লাগানো মাত্র কম্পিউটার হ্যাং হয়ে যায়। ইউএসবি সিকিউরিটি থাকলে কম্পিউটার প্রেনড্রাইভের মাধ্যমে ভাইরাস প্রবেশ করতে পারবে না।

র‌্যাম সমস্যার কারণ :

র‌্যাম লুজ হলে, খারাপ হলে বা র‌্যামের মেমরী কম হলেও কম্পিউটার হ্যাংকরে। এজন্য কম্পিউটার হ্যাং করলে র‌্যামটি খুলে কানেক্টর পয়েন্টগুলো ভালোভাবে মুছে লাগিয়ে দিলে হ্যাং সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। অথবা র‌্যামের মেমোরী কম হলে তা পরিবর্তন করে নিতে পারেন।

হার্ডডিস্কের কারণে হ্যাংক :

অনেক সময় কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক অনেক পুরোনো হয়ে যায়, ফলে প্রোগ্রাম ঠিকমত রিড করতে পারেনা। এ কারণেও কম্পিউটার হ্যাং করতে পারে। যদি হার্ডডিস্কের কারণে হ্যাং করে তাহলে তা পরিবর্তন করতে হবে।

প্রোগ্রামের ব্যবহার :

মনে রাখতে হবে সবসময় একাধিক প্রোগ্রাম ব্যবহার করা যাবে না। কারণ একাধিক প্রোগ্রাম ওপেন করলে কম্পিউটার হ্যাং করার সম্ভাবনা বেশি থাকে  আর যদি আপনার কম্পিটারের র‌্যাম কম থাকে তাহলে হ্যাং করবে। সব সময় টাস্ক ম্যানেজার থেকে দেখে নিবেন কতগুলো প্রোগ্রাম চালু আছে। প্রয়োজনের অধিক থাকলে তা বন্ধ করে দিতে হবে।

সফট্ওয়্যার ডাউনলোড :

নেট থেকে কোন সফট্ওয়্যার ডাউনলোড করার আগে নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে যে সেটা কি সফট্ওয়্যার। ভালো করে জেনে নিতে হবে। অজানা সফট্ওয়্যার ইনস্টল করলে আপনার কম্পিউটার ভারি হয়ে যাবে ফলে বার বার হ্যাং করবে।

কম্পিউটার হ্যাংক নিয়ে আপনাদের যদি আরো কিছু জানার থাকে তাহলে আমাকে কমেন্ট করতে ভূলবেন না। আশা করি উপরের বিষয় কম্পিউটার হ্যাংক হলে করণীয় গুলোর প্রতি নজর দিলে আপনার কম্পিউটার টা সুরক্ষিত থাকবে হ্যাং করবে না।

Leave a Reply

DMCA.com Protection Status
error: Content is protected !!