ভালো ফ্রিজ চেনার উপায়

ভালো ফ্রিজ চেনার উপায় | কমদামে ভালো মানের ফ্রিজ 2020

আজ আমরা জানবো ভালো ফ্রিজ চেনার উপায় এবং ভালো মানের ফ্রিজ চেনার বিশেষ কিছু সহজ টিপস্ ও টেকনিক। কারণ আমাদের বাড়িতে খাবার সংক্ষণের জন্য একটা ফ্রিজ থাকা অত্যান্ত জরুরী। যারা ভাবছেন খাবার সংক্ষণের জন্য আমার একটা ফ্রিজ দরকার, কোন কোম্পানির ফ্রিজ কিনবো? কোন ফ্রিজ ভালো হবে? ফ্রস্ট ও নন ফ্রস্ট ? নানা কনফিউশনে আছেন। তাদের জন্য ফ্রিজ কেনার সংক্ষিপ্ত কিছু টিপস্ নিয়ে আজকের আর্টিকেলটা লেখা হয়েছে। আপনি যদি পুরো আর্টিকেলটা একবার মন দিয়ে পড়েন তাহলে ফ্রিজ কেনা নিয়ে আপনার সকল কনফিউশন দূর হয়ে যাবে। তাহলে চলুন আর কথা না বাড়িয়ে ভালো ফ্রিজ চেনার উপায় ও ভালো মানের ফ্রিজ এর বৈশিষ্ট গুলো জেনে নি।

ভালো ফ্রিজ চেনার উপায় :

আপনি যদি ভালো ফ্রিজ চিনতে না পারেন তাহলে নিচের চারটা বিষয় দেখে ও জেনে ফ্রিজ ক্রয় করুন তাহলে ভালো ফ্রিজ পেয়ে যাবেন। ফ্রিজ কেনার সময় দেশী ও বিদেশী ব্রান্ডের ফ্রিজ গুলোর মধ্যে উক্ত কম্পোনেন্ট গুলো আছে কি-না জেনে, গ্যারান্টি সহকারে ফ্রিজ কিনলে ভালো ফ্রিজ পেয়ে যাবেন, যেগুলোকে বলতে পারেন ভালো ফ্রিজ চেনার উপায়।

ফ্রিজে বরফ না জমার কারণ জানুন

ফ্রিজ থেকে পানি পড়ার কারণ জানুন

কপার কনডেন্সার যুক্ত ফ্রিজ :

আপনি ফ্রিজ কেনার আগে দেখবেন ও জানবেন, যে ফ্রিজটি আপনি ক্রয় করছেন সেটার কনডেন্সার কিসের তৈরী। যদি কপার কনডেন্সার দিয়ে তৈরী না হয় তাহলে সেটা ক্রয় করবেন না। কপার মানে সংক্ষেপে কম্প্রোসারের সাথে তামার তৈরী কুলিং সিস্টেম পাইব বোঝালাম।  যেগুলো ফ্রিজের পেছনে ও বডির ভিতরে থাকে। সেগুলো তামার কি-না দেখতে ও জানতে হবে। কপার কনডেন্সার যুক্ত ফ্রিজ অনেক টেকশই, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, ফ্রিজের গ্যাস লিকেজ হয় না, মরিচা পড়ে না, ক্যাপেলরী জ্যাম হয় না আর তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হয়।

উন্নত মানের যুক্ত কম্প্রোসার ফ্রিজ:

ফ্রিজের কম্প্রোসার হলো ফ্রিজের মেইন মেশিন, বলতে পারেন যার উপর নির্ভর করে ফ্রিজটি কতদিন টিকবে, সার্ভিস কেমন দিবে। আপনার ফ্রিজের কম্প্রোসার যদি খারাপ মানের হয়ে থাকে তাহলে অনেক বিদ্যুৎ খরচ অনেক বাড়িয়ে দিবে। তাই ইনর্ভাটার টেকনোলজির কম্প্রোসার যুক্ত এবং উন্নত মানের কপার বাইন্ডিং ওয়্যার দ্বারা তৈরীকৃত কম্প্রোসার হলো উন্নত কম্প্রোসার। যেটা চেনা সবার জন্য অতো সোজা বিষয় না। এজন্য আপনাকে ট্রাস্টটেড বিশ্বস্ত কোম্পানির দেশীয় ব্রান্ডের গ্যারান্টি যুক্ত ফ্রিজ কিনতে হবে। যেমন- ওয়ালটন, মার্সেল, মাইওয়ান, যমুনা ইত্যাদি ফ্রিজের কম্প্রোসারে ১০ বছরের গ্যারান্টি দিয়ে থাকে।

ফ্রস্ট না নন ফ্রস্ট ফ্রিজ :

আপনি যদি না জানেন ফ্রস্ট ও নন ফ্রস্ট ফ্রিজের পার্থক্য, সুবিধা-অসুবিধা, তাহলে ভালো ফ্রিজ কোনটা বুঝে উঠতে পারবেন না। তাই আগে জানতে হবে ফ্রস্ট না নন ফ্রস্ট ফ্রিজ কি- যে ফ্রিজের ভিতরে ও সংরক্ষিত খাবারে বরফ জমে যায় তাকে ফ্রস্ট ফ্রিজ বলে। ডিপে রাখা খাবার সাথে সাথে খাওয়া যায় না। অপর দিকে যে ফ্রিজের ভিতরে ও সংরক্ষিত খাবারে বরফ জমে না তাকে নন ফ্রস্ট ফ্রিজ বলে। নন ফ্রস্ট ফ্রিজে অনেক বিদ্যুৎ খরচ হয় এবং কারেন্ট চলে গেলে খাবার 2-3 ঘন্টার বেশি থাকে না। তাই আমাদের লোডশোডিং দেশে ফ্রোস্ট ফ্রিজ কেনা অনেক ভালো।

ন্যানো হেলথ কেয়ার টেকনোলজি :

“স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল” আর যেখানে খারার সংক্ষরণ করবেন সেটা যদি স্বাস্থ্য সম্মত না হয় তাহলে তো ফ্রিজ কিনে আর কোন লাভ হলো না। তাই আপনাকে R134a গ্যাস সমৃদ্ধ ন্যানো হেলথ কেয়ার টেকনোলজির স্বাস্থ্য সম্মত ফ্রোস্ট ফ্রিজ কিনতে হবে। ন্যানো হেলথ কেয়ার টেকনোলজির কাজ হলো খাবার সংরক্ষণের সকল স্বাস্থ্য সম্মত উপায় যুক্ত থাকা। যেটা বেশির ভাগ ন্যানো হেলথ কেয়ার টেকনোলজি যুক্ত ফ্রিজের বডিতে স্টিকার দিয়ে লেখা থাকে। আপনি ফ্রিজ কেনার সময় বাডি স্টিকার গুলো ভালো ভাবে পড়ে দেখতে পারেন।

কোন ফ্রিজ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী :

বাংলাদেশে হলো লোডশোডিং এর দেশে, তাই বর্তমানে প্রায় বেশির ভাগ নতুন টেকনোলজি যুক্ত ফ্রোস্ট ফ্রিজ গুলো অনেক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হয়ে থাকে। যার মধ্যে দেশীয় ব্রান্ডের ফ্রিজ ওয়ালটন, মার্সেল, মাইওয়ান, যমুনা, মিনিস্টার ইত্যাদি রয়েছে। এসব ব্রান্ডের প্রতিটা ফ্রস্ট ফ্রিজে কপার কনডেন্স এবং উন্নত মানের কম্প্রোসার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আর ফ্রস্ট টেকনোলজির তৈরী ফ্রিজে ওভার বরফ জমে গেলে অটো অন-স্টপ হয়ে থাকে, যেজন্য অনেক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হয়। তাই আপনাদের বলি উক্ত ব্রান্ড গুলোর মধ্যে যেকোন ব্রান্ডের নতুন মডেলর ফ্রোস্ট ফ্রিজ কিনুন তাহলে অনেক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হবে। তবে ভালো ফ্রিজ কিনতে হলে উপরের উল্লেখিত বিষয় গুলো দেখে জেনে ক্রয় করতে হবে।

বাজারের সেরা ফ্রিজ :

আপনি কি ভাবেছেন ? বাজারের সেরা ফ্রিজ ক্রয় করবেন ? তাহলে আমার মতে ওয়ালটন  হাইটেক টেকনোলজির তৈরী যেকোন ব্রান্ডের ফ্রিজ ক্রয় করতে পারেন। কারণ দেশীয় ব্রান্ডের কম দামে ভালো ফ্রিজ বলতে গেলে ওয়ালটনকে আমি সাপোর্ট করি। আপনি খেয়াল করলে দেখবেন ওয়ালটন কোম্পানির ফ্রিজ অনেক গুলো কোম্পানির লেভেল লাগিয়ে বাজারে রয়েছে। যদি আপনার বাজেট অনেক বেশি হয়ে থাকে আর ভালো মানের ফিচার ফাংশানেলেটি যুক্ত ফ্রিজ ক্রয় করতে চান, তাহলে এলজি বা ওয়ালপুল ব্রান্ডের হাইটেক মডেল ফ্রিজ গুলো ক্রয় করতে পারেন।

ওয়ালটন মডেলর কিছু ফ্রিজ ছবি

চিত্র : ওয়ালটন মডেলর কিছু ফ্রিজ

মিনিস্টার ফ্রিজ কেমন :

আপনি যদি চান যে মিনিস্টার ফ্রিজ ক্রয় করবো তাহলে করতে পারেন। কারণ দেশীয় ব্রান্ডের মধ্যে মিনিস্টার ফ্রিজ তেমন খারাপ নয়। আমি আপনাদের একটা কথা বলবো আমি দেশীয় ব্রান্ডের বেশির ভাগ ফ্রিজ দেখেছি যারা ওয়ালটন হাইটেক থেকে ফ্রিজ তৈরী করে তাদের ব্রান্ডের নামে বাজারে সেল করে থাকে। সুতরাং আমি আগে থেকেই বলেছি ওয়ালটন ভালো মানের বিশ্ব সেরা ফ্রিজ ব্রান্ড। আপনি ফ্রিজ কেনার সময় ভালো ভাবে ম্যানুফেকচারার এর নাম ফ্রিজের কাভারের নিচে দিকে লেখা আছে দেখবেন। দেশীয় ব্রান্ডের বেশির ভাগ ম্যানুফেকচারার হলো ওয়ালটন হাইটেক প্রযুক্তি। সুতরাং দেশিও পণ্য হিসাবে মিনিস্টার ফ্রিজ ক্রয় করতে পারেন।

মিনিস্টার মডেলর কিছু ফ্রিজ ছবি

চিত্র : মিনিস্টার মডেলর কিছু ফ্রিজ

যমুনা ফ্রিজ কেমন :

অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে যমুনা ফ্রিজ কেমন হবে? কারণ যমুনা ফ্রিজের মডেল ও ডিজাইন সবার থেকে আলাদা, স্টাইলিস এবং আধুনিক টেকনোলজির অনেক ভালো মডেল। তাই আমার পছন্দের দেশীয় ব্রান্ড ফ্রিজ গুলোর মধ্যে যমুনাকে দ্বিতীয় স্থানে রেখেছি। আপনি চাইলে নিশ্চিন্তে আপনার বাজেটের মধ্যে যেকোন নতুন মডেলের যমুনা ব্রান্ডের ফ্রিজ কিনতে পারেন। যারা সব কিছু স্টাইলিস ও অনেক ডিজাইন যুক্ত ফ্রিজ কিনতে চান তারা যমুনা ফ্রিজ ক্রয় করতে পারেন। যমুনা ফ্রিজের টেকনোলজি ও ডিজাইন আমার অনেক ভালো লাগে।

যমুনা মডেলর কিছু ফ্রিজ ছবি

চিত্র : যমুনা মডেলর কিছু ফ্রিজ

কোন ফ্রিজ সবচেয়ে ভাল :

বিশ্বের ফ্রিজ টেকনোলজির দিকে তাকিয়ে দেখলে বাংলাদেশের ওয়ালটন ব্রান্ডের ফ্রিজ অন্যতম। ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজির দিকে ওয়ালটন হয়ত তেমন আগাতে পারেনি, তবে বিশ্ব সেরা স্বীকৃত অ্যাওয়ার্ড ওয়ালটন ফ্রিজ টেকনোলজি অনেক আগেই পেয়েছে। বিষয়টা হয়ত অনেকেই জানেন। তাই যারা মনে করছেন ফ্রিজ ক্রয় করবেন তাদের কে বলবো আমার কাছে দেশীয় ব্রান্ডের ভালো ফ্রিজ বলতে ওয়ালটন হাইটেক ফ্রিজ সবচেয়ে ভালো।

কোন ফ্রিজ ভালো ফ্রস্ট না নন ফ্রস্ট :

আপনি যদি ভাবেন ফ্রস্ট না নন ফ্রস্ট কোন ফ্রিজ ভালো হবে? বুঝতে পারছেন না তাহলে এর উওর ফ্রিজ নিয়ে আগের কয়েকটা আর্টিকেলে ফ্রস্ট না নন ফ্রস্ট ভালো সুবিধা-অসুবিধা পার্থক্য ও যুক্তি সহকারে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হয়েছে। তারপরেও আজ আমরা আবার সংক্ষেপে ফ্রস্ট না নন ফ্রস্ট ফ্রিজ ভালো হবে প্রাথমিক ধারণা ফ্রস্ট না নন ফ্রস্ট কি কাকে বলে সুবিধা-অসুবিধা জানবো।

ফ্রস্ট ফ্রিজ কি কাকে বলে :

Frost: ফ্রস্ট ফ্রিজ হলো- যে ফ্রিজের ভিতরে ও সংরক্ষিত খাবারে বরফ জমে যায় তাকে ফ্রস্ট ফ্রিজ বলে। ফ্রস্ট ফ্রিজের বডিতে এবং খাবারে বরফ জমে যায়। ডিপে রাখা খাবার সাথে সাথে খাওয়া যায় না।বরফ গলিয়ে খাবার উপযোগী হয়। বিদ্যুৎ না থাকলেও খাবার অনেক ঘন্টা ভালো থাকে এবং ফ্রস্ট ফ্রিজ অনেক বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে।

নন ফ্রস্ট ফ্রিজ কি কাকে বলে :

Non Frost : নন ফ্রস্ট ফ্রিজ হলো- যে ফ্রিজের ভিতরে ও সংরক্ষিত খাবারে বরফ জমে না তাকে নন ফ্রস্ট ফ্রিজ বলে। নন ফ্রস্ট ফ্রিজে অনেক বিদ্যুৎ খরচ হয়ে থাকে কারণ এতে হিটার সহ অনেক বেশি যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এবং কারেন্ট চলে গেলে ফ্রস্ট ফ্রিজে খাবার 2-3 ঘন্টার বেশি থাকে না। লোডশোডিং শহরে নন ফ্রস্ট ফ্রিজ ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বোকামি ছাড়া আর কিছুই না।

ফ্রস্ট নন ফ্রস্ট ফ্রিজের মধ্যে পার্থক্য :

ভিডিওটি দেখলে ফ্রস্ট ও নন ফ্রস্ট ফ্রিজের মধ্যে পার্থক্য কি পরিস্কার ভাবে বুঝতে পারবেন। সুতরাং আপনি এই ভিডিও দেখে জেনে ফ্রস্ট নন ফ্রস্ট কি বুঝে নিতে পারেন। ফ্রস্ট ও নন ফ্রস্ট ফ্রিজ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ও পার্থক্য সমূহ ভিডিওটিতে দেওয়া আছে।

ফ্রস্ট নন ফ্রস্ট ফ্রিজের মধ্যে পার্থক্য ভিডিও

ওয়ালটন ফ্রিজের মূল্য তালিকা দেখুন

নতুন ফ্রিজ চালানোর নিয়ম জানুন

2 Comments

    • admin April 10, 2020

Leave a Reply

DMCA.com Protection Status