ভালো ল্যাপটপ চেনার উপায়

ভালো ল্যাপটপ চেনার উপায় | ভালো ল্যাপটপের বৈশিষ্ট্য 2020

আজ আমরা জানবো ভালো ল্যাপটপ চেনার উপায় কি এবং ভালো ল্যাপটপের বৈশিষ্ট্য সমূহ বিস্তারিত। কারণ আমরা না জেনে ভূল ভাল ল্যাপটপ কিনে পরে আপসোস করতে করতে দিন পার করি। এক সময় দেখা যায় ল্যাপটপ তো কেনা হলো, কিন্তু কি কাজের কাজ হলো ফল ভোগান্তিুর শেষ থাকে না। আর যাদের অনেক কষ্টের টাকায় কেনা ল্যাপটপ, তাদের হতাশা ও চিন্তুার শেষ থাকে না। তাই আজ আমরা নতুন পুরাতন সকল ভালো ল্যাপটপ চেনার উপায় ও ভালো ল্যাপটপের বৈশিষ্ট্য খুটি-নাটি সব জানবো। সুতরাং বুঝতেই পারছেন বিস্তারিত ব্যাপার, এজন্য আর্টিকেলটা অনেক বড় হবে, দরকার হলে আপনি সূচিপত্র দেখে শটকার্ট নিতে পারেন।

সূচীপত্র

ভালো ল্যাপটপ চেনার উপায় গুলো কি :

আপনি নতুন পুরাতন যেকোন ভালো ল্যাপটপ চেনার জন্য র‌্যাম, হার্ডডিস্ক, প্রসেসর, মাদারবোর্ড ডিসপ্লে, ব্রান্ড সহ নিচের বিষয় গুলো ভালো ভাবে পরীক্ষা করে দেখে কিনতে পারেন। যে পয়েন্ট গুলোর মধ্যে আমি আপনাদের ল্যাপটপ নিয়ে বিস্তারিত খুটি-নাটি আলোচনা করেছি। মনে রাখবেন ল্যাপটপ এর দুইটা অংশ থাকেভ যেমন- হার্ডওয়্যার এবং সফ্টওয়্যার। যেগুলোর মধ্যে আজ সব থেকে বেশি পাধান্য পাবে হার্ডওয়্যার। সফ্টওয়্যার এর থেকে হার্ডওয়্যার এর প্রতি গুরুত্ব দিয়ে যদি ল্যাপটপ ক্রয় করতে পারেন তাহলে আপনার ঠকার বা টাকা লোকশানের আশঙ্কা থাকবে না। লক্ষণীও বিষয় গুলোর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য বিষয় গুলো হলো:

ল্যাপটপের দাম ও সার্ভিস :

(Laptop prise and Service) আপনাকে সব সময় দেখতে হবে ল্যাপটপের দাম ও সার্ভিস কেমন, কারণ দাম বেশি হলে ল্যাপটপের সার্ভিস ও কোয়ালিটি ভালো হওয়ার কথা। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে ল্যাপটপের দাম বেশি হওয়া সত্তেও সার্ভিস ভালো হয় না। এমন হয় কিছু কোম্পানির নির্দিষ্ট ব্রান্ডের ল্যাপটপে। আপনি ভালো ল্যাপটপ চেনার বৈশিষ্ট না জেনে ল্যাপটপ কিনতে গেলে ঠকে যাবেন। মনে রাখবেন ভালা দামে ভালো কোম্পানির ভালো মডেল ও ব্রান্ড দেখে ল্যাপটপ ক্রয় করলে ঠকার চান্স থাকে না।

ল্যাপটপের ব্রান্ড ও মডেল :

(Laptop Brand and Model) বাজারে আমরা যত ধরণে ল্যাপটপ দেখে থাকি তার মধ্যে সব ল্যাপটপ ব্রান্ড ও মডেল ভালো হয় না। তবে বেশির ভাগই ভালো হয়ে থাকে। তার মধ্যে কিছু কিছু মডেল ল্যাপটপ ব্রান্ড খারাপ বের হয়। যেগুলো কোম্পানি বুঝতে পারলে সংশোধন করে নেয়। কিন্তু সংশোধনের আগেই যদি আপনার ভাগ্যে খারাপ মাডেল ও ব্রান্ড ল্যাপটপ পড়ে যায় তাহলে আপনার ভোগান্তিুর শেষ থাকবে না। তাই বাজারে ল্যাপটপ ক্রয় করতে যাওয়ার আগে যে ল্যাপটপটি ক্রয় করবেন। কারো কাছে সেই ব্রান্ড মডেলের ল্যাপটপ থাকলে তার সার্ভিস রিভিউ জেনে নিন। দরকার হলো ফেইসবুকের ল্যাপটপ বিষয়ক গ্রুপে পোস্ট দিয়ে বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন তাহলে ঠকার বা ভোগান্তিুর সম্ভবনা থাকবে না।

ল্যাপটপ বর্তমান জেনারেশন :

(Laptop Present Generation) আমি বেশির ভাগ মানুষকে দেখেছি ল্যাপটপ কেনার আগে জেনারেশন দেখে। বিশেজ্ঞদের মতে যেকোন জেনারেশনের ল্যাপটপ ভালো হতে পারে। যা ভালো ল্যাপটপ চেনার কোন বিষয় হতে পারে না। আমার মতে আপনি ল্যাপটপ ক্রয় করার সময় দেখবেন যে সেই ল্যাপটপে আপনি যে কাজ করবেন তার প্রসেসিং ক্ষমতা কেমন। সেই ল্যাপটপ টি আপনি কোন কাজের জন্য ক্রয় করবেন, যে কাজটা ল্যাপটপ দিয়ে ভালো ভাবে করা যাবে কি-না এসব বিষয়। কারণ দেখা যায় কেউ ৩য় জেনারেশনের ল্যাপটপ দিয়ে যে কাজ করা যায়, ৭ম জেনারেশনের ল্যাপটপ দিয়েও সে কাজ কাজ করা যায়। আপনি জেনারেশন না দেখে আপনার ল্যাপটপপের কাজের পারফামেন্স দেখাবেন।

ল্যাপটপের স্পিড পারফামেন্স :

(Laptop ‍Speed Perfomanes) আপনি ল্যাপটপ ক্রয় করার সময় ল্যাপটপের স্পিড পারফামেন্স দেখে ও জেনে ক্রয় করবেন যেমন- র‌্যাম স্পিড, হার্ডডিস্ক স্পিড, প্রসেসর স্পিড যেগুলো  ল্যাপটপের টাস্ক ম্যানেজারে দেখতে পারেন। আবার অনলাইনে দেখার জন্য ফ্রি অনেক সফ্টওয়্যার আছে যেগুলো ইনস্টল করে মুহূর্তে ল্যাপটপ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন। হতে পারে সেটা নতুন ল্যাপটপ অথবা পুরাতন ল্যাপটপ। বিক্রেতাকে যদি বিশ্বাস না হয় তাহলে আপনি সেই দোকানে বসে ল্যাপটপের ফুল কনফিগারেশন জেনে নিতে পারেন। দরকার হলে অনলাইন থেকে হার্ডওয়্যার টুলস্ চেকার আগেই ডাউনলোড করে প্রেনড্রাইভে নিয়ে ল্যাপটপ কিনতে যেতে পারেন।

ল্যাপটপের কনফিগারেশন :

(Laptop Configaration) কনফিগারেনশন হলো যে পার্টস গুলো দিয়ে আপনার ল্যাপটপ টি তৈরী করা হয়েছে। যেমন- মাদারবোর্ড, প্রসেসর, র‌্যাম, হার্ডডিস্ক, রাইটার, পাওয়ার সাপ্লাই ইত্যাদির সকল তথ্য। ল্যাপটপ কনফিগারেশন দেখার জন্য বেসিক সহজ উপায় হলো কম্পিউটার আইকনের উপর মাউসের রাইট বাটন ক্লিক করে প্রোপার্টিজ থেকে বেসিক কনফিগারেশন দেখতে পারেন। যার মধ্যে প্রসেসর, র‌্যাম, উইন্ডোজ দেখা যাবে। আর এডভান্স লেভেলের বিস্তারিত কনফিগারেশন জানতে গুগলে সার্চ করে হার্ডওয়্যার চেকার সফ্ওয়্যার অথবা ওয়েবসাইট ব্যবহার করে বিস্তারিত জানতে পারেন।

ল্যাপটপের ব্যাটারী ব্যাকআপ :

(Laptop Battery Backup) যেকোন ল্যাপটপ ক্রয় করার আগে আপনাকে জানতে হবে ল্যাপটপের ব্যাটারী ব্যাকআপ সম্পর্কে। কারণ চার্জ ব্যাকআপ যদি ভালো না হয় তাহলে ব্যবহারে আপনার অনেক সমস্যা হতে পারে। বেশির ভাগ সময় দেখা যায় ব্যবহারকারী তার ল্যাপটপ ক্রয় করে ভ্রমণ করার সময় ব্যবহার করার জন্য কিন্তু যদি ল্যাপটপের চার্জ ভালো না যায় তাহলে সেটা ক্রয় করা বিথা মনে হয়। অনেকেই দেখায় যায় বাড়িতে ল্যাপটপ চার্জে দিয়ে ব্যবহার করে কিন্তু প্রয়োজন ছাড়া ল্যাপটপ চার্জে ‍দিয়ে ব্যবহার করা মোটেও ঠিক নয়।

ল্যাপটপের স্ক্রিন ও ডিসপ্লে :

(laptop Scrin and Display ) ল্যাপটপ কোনার আগে অবশ্যই তার ডিসপ্লে সম্পর্কে জানতে হবে সেটা এল.সি.ডি বা এল.ই.ডি বা ফোরকে ডিসপ্লে কি-না। রেজুলেশন ধরণ ক্ষমতা কেমন, চোখের জন্য কোন প্রটেকটর আছে কি-না। নেগেটিভিটি আছে কি-না। ডিসপ্লে সম্পর্ক বিস্তারিত ডিসপ্লে সেটিং দেখতে হবে। তারপর আপনার সকল কনফিউশন দূর হলে সেই ল্যাপটপ ক্রয় করে নিতে পারেন। আপনি যদি এসব না জেনে ল্যাপটপ ক্রয় করেন তাহলে রেজুলেশন এবং চোখের সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হবে। কারণ এগুলো হলো ল্যাপটপের স্ক্রিন ও ডিসপ্লে সমস্যার খারাপ দিক।

ল্যাপটপ অপারেটিং সিস্টেম :

(Laptop Operating system) ল্যাপটপ ক্রয় করার আগে আপনাকে জেনে নিতে হবে যে আপনার ল্যাপটপের সাথে কোন কনফিগারেন উইন্ডোজ সাপোর্টেবল ভালো সাপোর্ট করবে। তবে সব ল্যাপটপে যেকোন আপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ উইন্ডোজ এক্সপি, উইন্ডোজ সেভেন, উইন্ডোজ টেন, কালি লিনাক্স, আইওএস, সাপোর্ট করে কিন্তু আপডেট এবং আপনার কাজে জন্য কোন আপরেটিং সিস্টেম ভালো হবে সেটা জেনে জেনুইন আপারেটিং সিস্টেম ল্যাপটপ ক্রয় করতে হবে। কারণ আজ-কাল বাজারে ফ্রি অপারেটিং হিসাবে ৪০ টাকা দামের ক্রাক সিডি ব্যবহার করা হয়। আপনি যদি প্রফেশনাল হন তাহলে এসব ক্রাক অপারেটিং ব্যবহার থেকে বিরত থাকবেন। জেনুইন লাইসেন্স কি সহকারে ডিভিডি বুঝে নিবেন।

কম দামের ভালো মানের ল্যাপটপ চেনার উপায় :

আপনি যদি চান তাহলে কমদামে ভালো মানের ল্যাপটপ ক্রয় করতে পারবেন তবে যেকোন ল্যাপটপ ক্রয় করার আগে আপানকে সব কিছু দেখে জেনে নিতে হবে। আপনি যদি মানে করেন ল্যাপটপের তো ওয়্যারেন্টি/গ্যারেন্টি আছে, কোন সমস্যা হলে পরে ফ্রি ঠিক বা মেরামত করে দিবে তাহলে আপনি ভূল করবেন। কারণ মনে রাখবেন পরের কথা সব সময় পরে থাকে। আপনি যখন টাকা দিয়ে কিনে ল্যাপটপ বাড়িতে নিয়ে চলে আসবেন তখন থেকে তারা আর কোন দায়-দায়িত্ব নিবে না। কোন সমস্যা হলে কোম্পনির সার্ভিস সেন্টারে যেতে বলবে। তখন থেকে শুরু হবে আপনার কষ্টের টাকায় ক্রয়কৃত ল্যাপটপের ক্ষুত এবং ক্ষতি, যা থেকে রক্ষা পাওয়া মুসকিল। তাই ক্রয়ের আগে কষ্ট করে নিচের বিষয় গুলো জেনে নিন।

ভালো ল্যাপটপ বাছাই কিভাবে করবেন ? :

  • ল্যাপটপ ব্রান্ড ও মডেল ক্যাপাবিলিটি সার্ভিস সম্পর্কে জানতে হবে।
  • স্ক্রিন ও ডিসপ্লে কোয়ালিটি রেজুলেশন প্রটেক্টর সম্পর্কে জানতে হবে।
  • ব্যাটারী ও এডাপ্টার কোয়ালিটি এবং লাইফটাম সম্পর্কে জানতে হবে।
  • ল্যাপটপের ব্যাটারী ব্যাকআপ টাইম ও চার্জিং টাইম সম্পর্কে জানতে হবে।
  • ল্যাপটপ কিবোর্ড/টাচ্ প্যাড, কোন দেশের ভাষা এসম্পর্কে জানতে হবে।
  • ল্যাপটপের প্রসেসর ও সিপিইউ কনফিগারেশন ক্ষমত জানতে হবে।
  • ল্যাপটপের র‌্যাম স্পিড কত আছে আপনার কত প্রয়োজন জানাতে হবে।
  • ক্রয়ের আগে টোটাল হার্ডওয়্যার স্পেসিফিকেশন তালিকা দেখতে হবে।
  • ল্যাপটপের স্টোরেজ ক্যাপাসিটি হার্ডড্রাইব এসডি না এসএসডি জানতে হবে।
  • ক্যামেরা রের্কডিং, ওয়েবক্যাম কোয়ালিটি কেমন ক্লিয়ার জানতে হবে।
  • ল্যাপটপে রের্কডিং অডিও ও সাউন্ড ভালো ভাবে বাজিয়ে কিনতে হবে।
  • ল্যাপটপ ভিডিও/গ্রাফিক্স কোয়ালিট এবং কত গ্রাফিক্স আছে জানতে হবে।
  • সকল ইউএসবি, ল্যান্ডপোর্ট, ভিডিএ আউটপুট পরীক্ষা করে নিতে হবে।
  • ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কিং, ব্লুটুথ, শেয়ারইট চালু করে দেখে নিতে হবে।
  • নতুন ফিচাস্ এবং ফাংশনেলিটি ল্যাপটপ ক্রয়ের আগে জানতে হবে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে কম দামে ল্যাপটপ :

অনেকই মনে করে কম দামে ভালো ল্যাপটপ পাওয়া যায় না। আমি মনে করি আগে ল্যাপটপের দাম দেখা উচিৎ নয়, কারণ আপনি ল্যাপটপ দিয়ে কি কাজ করবেন সেটার সাপোর্ট কনফিগারেশন জেনে ল্যাপটপের দাম জানা উচিৎ। কারণ আপনি যদি সাধারণ লেখা-লেখি করার বা প্যাকটিস করার জন্য ল্যাপটপ ক্রয় করেন তাহলে বাংলাদেশের সবচেয়ে কম দামে ল্যাপটপ ক্রয় করলেই তো চলবে তাই না? আর যদি আপনি গেমিং বা গ্রাফিক্স প্রোগ্রামিং এর কাজ করার জন্য ল্যাপটপ ক্রয় করেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে দামি ভালো কনফিগারেশনের ল্যাপটপ ক্রয় করতে হবে। নিচে সব থেকে কম দামে ভালো কনফিগারেশন ল্যাপটপ ইনফরমেশন ছবি দেওয়া হয়েছে ক্রয় করতে পারেন।

ভালো ল্যাপটপ চেনার উপায়
কম দামে ভালো ল্যাপটপের মূল্য ও ছবি

ভালো ল্যাপটপের বৈশিষ্ট্য :

নতুন ল্যাপটপ কেনার আগে ভালো ল্যাপটপের বৈশিষ্ট্য বিস্তারিত জানা দরকার। সেজন্য উপরের ছোট বিষয় গুলো নিচে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হয়েছে। যেন আপনি কম দামে ভালো ল্যাপটপ বাছাই করতে পারেন ও ভালো ল্যাপটপের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। আপনি যদি ল্যাপটপ ক্রয় করতে চান বা ভাবছেন নতুন ল্যাপটপ ক্রয় করবো তাহলে আপনার সময় করে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটা পড়ে নিতে হবে এবং যেভাবে বলা হয়েছে সেভাবে প্রতিটা বিষয় পরীক্ষা করতে ও জানতে হবে। নিচে ভালো ভালো ল্যাপটপের বৈশিষ্ট্য গুলো তুলে ধরা হলো :

ল্যাপটপ ব্রান্ড ক্যাপাবিলিটি :

(Laptop brand matters) ভালো ল্যাপটপ বেশির ভাগ সময় ভালো ব্রান্ডের ল্যাপটপ গুলোই হয়ে থাকে এজন্য ভালো ল্যাপটপের বৈশিষ্ট্য হলো ভালো ব্রান্ডের ল্যাপটপ হবে। যেমন- HP, Dell, Apple, Asus, Samsung, Bangladeshi Brand Walton etc. এগুলো বর্তমানে বাজারে ভালো চলছে যেগুলো মধ্যে আপনি দামি ভালো একটা মডেল দেখে ক্রয় করে নিতে পারেন।

স্ক্রিন ও ডিসপ্লে কোয়ালিটি :

(Screen & Display quality) বাজারে হাজারও ব্রান্ডের লক্ষধিক মডেলের ল্যাপটপ রয়েছে যেগুলোও স্ক্রিন ও ডিসপ্লে কোয়ালিটি রেজুলেশন একই না। এখন ল্যাপটপে বিভিন্ন ধরণের ডিসপ্লে ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন-LCD, LED, HD, IPS ইত্যাদি। কোয়ালিটি ও দামের উপর ভিত্তি করে ল্যাপটপের ডিসপ্লে দেওয়া হয়। বেশির ভাগ কম দামি ল্যাপটপে LCD ডিসপ্লে দেওয়া থাকে যার নেগেটিভিটি থাকে। ভালো ল্যাপটপের বৈশিষ্ট গুলোর মধ্যে যে ল্যাপটপের নেগেটিভিটি আছে সেগুলো কম দামি এলসিডি ডিসপ্লে দেওয়া থাকে।

ব্যাটারী ও এডাপ্টার কোয়ালিটি :

(Battary and adapter quality) ভালো ব্রান্ডের ল্যাপটপের সাথে যে ব্যাটারী ও এডাপটার দেওয়া থাকে তা সব সময় ভালোই হয়ে থাকে। কারণ একই কোম্পানির সকল ব্রান্ডের ল্যাপটপে একই সাইজের একই অ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারী ও অ্যাডপটার ব্যবহার করা হয় এজন্য সব সময় একটু বাজেট বেশি করে ভালো ব্রান্ডের ল্যাপটপ ক্রয় করা ভালো।

এডাপ্টার কি কাকে বলে জানুন

ল্যাপটপের ব্যাটারী ব্যাকআপ :

(Laptop battery backup) ল্যাপটপের ব্যাটারী ব্যাকআপ কত দিতে স্বক্ষম তার ব্যাপারে বিস্তারিত জেনে ল্যাপটপ ক্রয় করা উচিৎ। কারণ যেকোন ব্রান্ডের ল্যাপটপ এর ব্যাটারী ব্যাকআপ ভালো হয় না। একমাত্র বাজারের সেরা ব্রান্ডের ল্যাপটপ এর ব্যাটারী ব্যাকআপ ও চার্জিং ক্ষমতা বেশি হয়ে থাকে। যেমন- অ্যাপেল, স্যামসাং, ডেল, এইচডি, আসুস, অ্যাসার এগুলো মোটামোটি সেরা ব্রান্ড, কিন্তু তারাও কম দামে বি-গ্রেড ল্যাপটপ বাজারে নিয়ে আসে। কোম্পানির ব্রান্ড প্রোমোট ও মার্কেটিং করার জন্য।

ল্যাপটপের ব্যাটারী ব্যাকআপ রাখার নিয়ম

ল্যাপটপের কিবোর্ড/টাচ্ প্যাড :

(Keyboard/Touch pad quality) ল্যাপটপের কির্বোড ও টাচ্ প্যাড কোয়ালিটি ভালো হতে হবে। এটা জানার জন্য বিভিন্ন গ্রুপে পোস্ট দিয়ে ইউজারদের মতামত জানতে পারেন। এমন ভাবে পোস্ট করতে হবে। আমি একটা অমুক ব্রান্ডে ল্যাপটপ ক্রয় করতে চাই তার ব্যবহার কারী কেউ থাকে সার্ভিস সম্পর্কে জানালে আমার অনেক উপকার হতো। অথবা গুগলে অনলাইনের বিভিন্ন শপে গিয়ে সেই ব্রান্ডের মডেলের ল্যাপটপের রিভিউ জেনে ক্রয় করতে পারেন।

কিবোর্ড কি কাকে বলে জানুন

ল্যাপটপের প্রসেসর ও সিপিইউ :

(Laptop Processor or CPU) বাজারে তৃতীয় জেনারেশন থেকে শুরু করে দশম জেনারেশন পর্যন্তু প্রসেসর সমৃদ্ধ ল্যাপটপ পাওয়া যাবে। তবে আপনার কাজের উপর ভিত্তি করে ল্যাপটপ ক্রয় করতে হবে। সেটা জেনারেশনের উপর ভিত্তি করে ক্রয় করা উচিৎ নয়। কারণ দেখা যায় তৃতীয় জেনারেশন ল্যাপটপে যে কাজ করা যাচ্ছে দশম জেনারেশনের ল্যাপটপে সেই কাজ করা যাচ্ছে। কিন্তু তার একটু ফিচার ফাংশনালিটি বেশি থাকে এবং ফাস্ট কাজ করে এই আর কি।

প্রসেসর কি কাকে বলে জানুন

ল্যাপটপের র‌্যাম স্পিড ব্যালেন্স :

(Random Acess Memory-RAM) ভালো ল্যাপটপের মেমোরী র‌্যাম কোয়ালিটি এবং সার্ভিস ভালো থাকবে। কোন ব্রান্ডের ল্যাপটপ সেটার উপর মেমোরী সার্ভিস দিয়ে থাকে। দেখা যায় অনেক ব্রান্ডের ল্যাপটপে একই কোম্পানির মেমোরী র‌্যাম ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এখন দেখা যায় র‌্যাম মেমোরী, প্রসেসর হার্ডডিস্ক কয়েকটা ব্রান্ড আলাদা আলাদ কিন্তু হার্ডওয়্যার স্পেসিফিকেশন থাকে কিন্তু ব্যবহার করার সময় স্পিড পার্থক্য হয়ে যায়, যেটা হয়ে থাকে কোয়ালিটির কারণে।

র‌্যাম কি কাকে বলে জানুন

হার্ডওয়্যার স্পেসিফিকেশন :

(Hardware Specifications) ভালো ল্যাপটপ কিনতে হলে হার্ডওয়্যার স্পেসিফিকেশন আপডেট ল্যাপটপ ক্রয় করবেন। যখন সেই সময়ে কোন হার্ডওয়্যার স্পেসিফিকেশন মার্কেটে আছে সেটা কতদিন মার্কেটে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কোন ব্রান্ডের হার্ডওয়্যার স্পেসিফিকেশন ভালো চলছে তার কয়েকটা তালিকা দেখে শর্ট লিস্ট করে সেরা কনফিগারেশনের ল্যাপটপ ক্রয় করতে হবে। ভালো ল্যাপটপ চেনার উপায় যেমন- র‌্যাম, হার্ডডিস্ক, প্রসেসর, মাদারবোর্ড, পাওয়ার সিস্টেম, ডিসপ্লে ইত্যাদি।

কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশ দেখুন

ল্যাপটপের স্টোরেজ ক্যাপাসিটি :

(Laptop Storage Capacity) কিছুদিন আগে ল্যাপটপে স্টোরেজ হিসাবে এসডি হার্ডডিস্ক ব্যবহার করা হতে, যেটার স্পিড এসএসডি হার্ডডিস্কের তুলনায় অনেক কম, তাই ধিরে ধিরে এসএসডি হার্ডডিস্ক ব্যবহার বেড়েই চলছে। এসডি হার্ডডিস্ক এর তুলনায় এসএসডি হার্ডডিস্কের দাম ডাবল বললেই চলে, তাই অনেকেই অপারেটিং সিস্টেমের জন্য শুধু এসএসডি ব্যবহার করে আর ডেটা রাখার জন্য এসডি হার্ডডিক্স ব্যবহার করে। আপনি যদি ভালো সার্ভিস যুক্ত ল্যাপটপ ক্রয় করতে চান তাহলে এসএসডি হার্ডডিস্ক সমৃদ্ধ ল্যাপটপ ক্রয় করবেন।

হার্ডডিস্ক কি কাকে বলে জানুন

ক্যামেরা রের্কডিং ওয়েবক্যাম :

(camera and webcame) ল্যাপটপের সার্ভিস ভালো নিতে চাইলে সাথে থাকা ক্যামেরাটিও চেকআপ করে নিবেন, কারণ ক্যামেরা বা ওয়েবক্যাম যদি ভালো না হয় তাহলে ভিডিও রেকর্ডি বা কলিং করে মজা পাবেন না। বেশির ভাগ সময় ক্যামেরাতে ভিডিও কলিং এ কথা বলার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে আবার অনেক সময় রেকর্ডিং করার জন্য ল্যাপটপ ডিসপ্লের উপরের ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যেটা ভালো হওয়া ভালো ল্যাপটপের বৈশিষ্ট গুলোর মধ্যে অন্যতম।

রের্কডিং ও অডিও সাউন্ড :

(Recoding audio and sound) ল্যাপটপ ক্রয় করার আগে রের্কডিং ও অডিও সাউন্ড ভালো ভাবে চেকআপ করতে হবে। কারণ যখন আপনি কারো সাথে ভিডিও কথা বলবেন বা ভিডিও রেকর্ডিং করবেন। বা অডিও রেকর্ডিং করবেন তখন সমস্যা হলে আপনার সকল পরিশ্রম বিথা যাবে। আবার মিউজিক সাউন্ড যদি ভালো না হয় তাহলে অরেক সমস্যা অডিও ‍শুনতে সমস্যা হবে। তাই ভালো ল্যাপটপ চেনার উপায় অডিও সিস্টেম অবশ্যই ভালো হতে হবে।

মাক্রোফোন কি কিভাবে কাজ করে জানুন

ল্যাপটপ ভিডিও ও গ্রাফিক্স :

(Video And Graphics) ভালো ল্যাপটপের গ্রাফিক্স কোয়ালিটি ভালো হতে হবে। আপানি গেম খেলে হাইরেজুলেশন ভিডিও দেখে ল্যাপটপের গ্রাফিক্স কোয়ালিটি পরিক্ষা করে নিতে পারেন। যেটা আপনাকে বলে দিবে গ্রাফিক্স কোয়ালিটি সম্পর্কে। কারণ ভালো গ্রাফিক্স কোয়ালিটিতে গেম খেলে ভিডিও দেখা যাবে মসৃন ও চোখ ধাঁধানে কালার কম্বিনেশন। এছাড়াও আপনি ল্যাপটপের কনফিগারেশন গ্রাফিক্স সম্পর্কে বিস্তারিত দেখে জেনে নিতে পারেন।

গ্রাফিক্স কার্ড কি কাকে বলে জানুন

সকল ইউএসবি ও ল্যান্ডপোর্ট:

(USB and Land port) ল্যাপটপের সকল ইউএসবি ও ল্যান্ডপোর্ট গুলো অনেক ভালো মানের তখনি পাবেন যখন আপনি কোন ভালো ব্রান্ডের ভালো মানের ল্যাপটপ ক্রয় করবেন। এছাড়ও ল্যাপটপ ক্রয় করার আগে অবশ্যই আপনি সকল কানেক্টর পোর্ট গুলো চেকআপ করে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। কারণ এগুলো অনেক সময় খারাপ থাকতে পারে লো কোয়ালিটির ল্যাপটপে এসকল পোর্ট সহজেই নষ্ট হয়ে যায়।

ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কিং এবং ব্লুটুথ :

(W-Lan And Bluotuth) : ভালো ল্যাপটপের যেকোন নেটওয়ার্কিং এবং শেয়ারিং স্পিড অনেক ফাস্ট থাকে। লো কোয়ালিটির খারাপ ল্যাপটপে শেয়ারিং স্পিড বা ওয়াইফাই নেটওয়ার্কিং ক্ষমত অনেক কমা হয়ে থাকে তাই এগুলো জেনে ক্রয় করতে হবে এর পদ্ধতি আমি আগেও কয়েক বার বলেছি। ল্যাপটপ ক্রয়ের আগে আপনি ল্যাপটপের সার্ভিস ব্যবহার কারীর কাছে খোঁজ নিয়ে যাবেন। কারণ সে যদি বলে এটা ভালো ল্যাপটপ আমি কোন সমস্যা পাইনি তাহলে নিশ্চিত সেই মডেলের ল্যাপটপটি অনেক ভালো হতে পারে।

নতুন ফিচাস্ এবং ফাংশনেলিটি:

(Features & functions) ভালো ল্যাপটপ ক্রয় করতে চাইলে সব সময় নতুন ফিচাস্ এবং ফাংশনেলিটি সমৃদ্ধ ল্যাপটপ ক্রয় করতে হবে। কারণ প্রতিদিন ল্যাপটপের নতুন ফিচাস্ এবং ফাংশনেলিটি যে হারে আপডেট হচ্ছে আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। একজন ল্যাপটপ ব্যবসায়ী একমাত্র সেটা জানে। বাজারে আজ যে ল্যাপটপ আসছে কাল দেখা যাচ্ছে আরো আপডেট নতুন মডেলের একই ল্যাপটপ আসছে। তাই সময় ভালোটার জন্য ফিচার এবং ফাংশনালিটি জেনে ক্রয় করতে হবে।

আসল ফোন চেনার উপায় জানুন

Leave a Reply

DMCA.com Protection Status