এসির সমস্যা সমাধান | ফ্রি এসি সার্ভিসিং কোর্স [Full Guide]

এসির সমস্যা সমাধান করার সহজ টেকনিক আজকের মূল বিষয়। অর্থাৎ আজ আমরা জানবো উইন্ডো এসির বিভিন্ন সমস্যা এবং সমাধান সম্পর্কে বিস্তারিত। আমাদের দেশে উইন্ডো এসি দিনে দিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে আর প্রতি বছর নতুন নতুন মানুষ তাদের ঘরে অফিসে এসি স্থাপন করছে। ফলে এসি নিয়ে নানা দিক দিয়ে নতুন নতুন কর্ম সংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। আপনি যদি একজন পরিপূর্ণ এসি টেকনিশিয়ান হতে পারেন তাহলে প্রতি মাসে আপনিও অনায়াসে অনেক টাকা ইনকাম করতে পারেন। তাহলে আর কথা না বাড়িয়ে উইন্ডো এসির সমস্যা সমাধান গুলো ধারাবাহিক ভাবে জানবো।

আসলে এখানে উইন্ডো এসি মূল নয়। একটা এসির কথা বলা হয়েছে কিন্তু আপনি একটা এসির নিয়ম জেনে বাকি গুলোতে একই নিয়মে কাজ করতে পারেন। এটাকে আপনি ফ্রি এসি সার্ভিসিং কোর্স বলতে পারেন। কারণ আমি আপনাদেরকে ফ্রি এসি ফ্রিজ সার্ভিসিং শেখানোর উদ্দেশ্য নিয়ে নিয়মিত আর্টিকেল পাবলিশ করছি। যদি আপনারা লাইক, কমেন্ট, শেয়ার আর ভালো রিভিউ দেন তাহলে আমি আপনাদের প্রতিনিয়ত নতুন নতুন তথ্য দিতে থাকবো।

ফ্রি এসি সার্ভিসিং কোর্স :

আজকে ফ্রি এসি সার্ভিসিং কোর্স এ যে বিষয় গুলো থাকছে তা এক নজরে দেখে নেওয়া যাক। নিম্নে ফ্রি এসি সার্ভিসিং কোর্স এর শিরোনাম গুলো হলো :

  • এসি বা এয়ার কন্ডিশনার বন্ধ হলে কি করবেন।
  • এসিতে ঠিক মত ভোল্টেজ না পেলে কি করবেন।
  • এসির কম্প্রেসারে সংযোগ সমস্যা হলে কি করবেন।
  • এসির ক্যাপাসিটর সমস্যা হলে কি করবেন ।
  • এসির সিলেকটর সুইচ সমস্যা হলে কি করবেন ।
  • এয়ারকুলার চলে কিন্তু কম ঠান্ডা হয় এমন হলে কি করবেন ।
  • এয়ার কন্ডিশনার গ্যাসের সমস্যা হলে কি করবেন ।
  • এসির ক্যাপেলরী, কুলিং কয়েল, ফিল্টার সমস্যা ।
  • এসি চলে কিন্তু ঠান্ডা হয়না এমন হলে কি করবেন।
  • এসির কম্প্রেসারের সমস্যা হলে কি করবেন।
  • যদি বার বার ফিউজ কেটে যায় তাহলে কি করবেন।
  • কম্প্রেসারের ক্যাপাসিটর শর্ট হলে কি করবেন।
  • ফিউজ বা সার্কিট ব্রেকার সমস্যা হলে কি করবেন।

এয়ার কন্ডিশনার চলে না :

উইন্ডো এসি যদি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় তাহলে আপনি যেভাবে কাজ শুরু করতে পারেন আগের আর্টিকেলে বলেছি। প্রথমে বিদ্যুৎ সংযোগ পরিক্ষা করতে হবে। যেমন- ফিউজ, সার্কিট ব্রেকার, সুইচ, সকেট ও প্লাগ, মেইন পাওয়ার সাপ্লাই, ভোল্টেজ এগুলো সিরিয়ালে পরিক্ষা করতে হবে। এর মধ্যে যদি কোন ডিভাইস খারাপ থাকে তাহলে তা মেরামত করতে হবে অথবা পরিবর্তন করতে হবে।

এসিতে ঠিক মত ভোল্টেজ পাই না :

অনেক সময় দেখা যায় এসির সাপ্লাই ভোল্টেজ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম হয়ে যায় অর্থাৎ লো-ভোল্টেজ হয়ে যায়। এমতবস্তায় কারণ খুঁজে বের করতে হবে দরকার হলে বিদ্যুৎ বিভাগের সহায়তা নিয়ে ভোল্টেজ ঠিক করতে হবে। সংযোগ টাইট করতে হবে কান্টের সকল সংযোগ পয়েন্ট চেক করে টাইট করতে হবে। খোলা কারেন্ট অর্থাৎ কারেন্টের কোথাও আলগা হয়ে থাকলে টেপিং করতে হবে। অ্যাভোমিটারের সাহায্যে করেন্টের কন্টিউনিটি পরীক্ষা করতে হবে। এছাড়া প্লাগ পয়েন্ট, ওভারলোড প্রটেকটর এবং সিলেকটর সুইচের কানেকশন পয়েন্ট গুলো সংযোগ ঠিক মত পাচ্ছে কি-না তা চেক করতে হবে।

এসির কম্প্রেসার সংযোগ সমস্যা :

এসির কম্প্রেসারের সংযোগ স্থলে কিছু সমস্যা হতে পারে অথবা কম্প্রেসার মোটরে সমস্যা হতে পারে। ‍সম্ভব হলে সমস্যা খুজে বের করে মেরামত করতে হবে অথবা পরিবর্তন করতে হবে। এজন্য এসি কর্ট, ক্যাপাসিটর সংযোগ, রিলে পরিক্ষা করতে পারেন।

এসির ক্যাপাসিটর সমস্যা :

অনেক সময় দেখা যায় এসির ক্যাপাসিটর এর সমস্যা হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে ক্যাপাসিটর সিরিজ লাইটের বাল্প সংযোগ এর মাধ্যমে পরিক্ষা করে ডিসচার্জ করে দেখতে হবে। যদি ক্যাপাসিটর খারাপ থাকে তাহলে যে ক্যাপাসিটর লাগানো থাকবে তা দেখে মার্কেট থেকে নতুন কিনে নিয়ে এসে লাগিয়ে দিতে হবে।

এসির সিলেকটর সুইচ সমস্যা :

সিলেকটর সুইচ খারাপ হলে এসি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যদি মেরামত করা সম্ভব না হয় তাহলে তা পরির্বতন করতে হবে। বাজারে বিভিন্ন ধরণের সিলেকটর সুইচ পাওয়া যায়। তবে সব সিলেক্টর সুইচের একই কাজ। এসিতে যে সিলেক্টর সুইচ থাকবে সেই টা কিনে লাগিয়ে দিতে হবে।

এয়ার কুলার চলে কিন্তু কম ঠান্ডা হয় :

এসির এয়ার কুলার চলার পরেও কম ঠান্ডা হলে হতে পারে থার্মোস্ট্যাট খারাপ পরিবর্তন করতে হবে সম্ভব হলে মেরামত করতে হবে। আবার ওভারলোড প্রটেকটর খারাপ হতে পারে, লুজ সংযোগ হতে পারে, দরকার হলে ওভারলোড প্রটেকটর পরিক্ষা করে পরিবর্তন করতে হবে। মনে রাখবেন কোন সংযোগ লুজ কানেক্ট রাখা যাবে না। সকল সংযোগ পয়েন্ট ভালো ভাবে চেক করে টাইট মজবুত করে লাগাতে হবে।

এসির গ্যাসের সমস্যা :

আগের কয়েকটা আর্টিকেলে এসির গ্যাস সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছি। এসি ঠান্ডা না হওয়ার এটাও একটা অন্যতম কারণ। তাই আপনাকে আগে গেজ মিটারের মাধ্যমে গ্যাস কমে গিয়েছে কি-না তা ভালোভাবে পরিক্ষা করতে হবে। দরকার হলে চার্জিং লাইন তৈরি করে ভ্যাকুয়াম করে পুনরায় গ্যাসচার্জ করতে হবে।

এসির ক্যাপিলারী, কুলিং কয়েল, ফিল্টার সমস্যা :

এসির ক্যাপিলারী অনেক সময় কিছুটা জ্যাম হয়ে যায় এমতবস্তায় স্ট্রেইনার বা ক্যাপিলারী পরিবর্তন করতে হবে এবং ক্যাপিলারী টিউব পরিষ্কার করতে হবে। আবার কুলিং কয়েল এবং এয়ার ফিল্টার ময়লাযুক্ত হতে পারে। এক্ষেত্রে কুলিং কয়েল এবং এয়ার ফিল্টার ভলো ভাবে পরিষ্কার করতে হবে। দরকার হলে এয়ার ফিল্টার বদলাতে হবে। ময়লাযুক্ত কন্ডেন্সার হলে তা ভালো ভাবে পরিষ্কার করতে হবে। এসি সাপ্লাই লো-ভোল্টেজ হলে স্বাভাবিক কারেন্ট ভোল্টেজ সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে।

এসি চলে কিন্তু ঠান্ডা হয় না :

একেবারে এসির কুলিং অফ হয়ে যায় অথবা এসি চলে কিন্তু ঠান্ডা হয় না। সাধারণত এই দুইটা এসির সচারচার কমন সমস্যা। এ সমস্যা হতে পারে এসির থার্মোস্ট্যাট নষ্ট হয়ে বন্ধ হয়ে গেলে। এজন্য এসি অন করতে সম্ভব হলে থার্মোস্ট্যাট ঠিক করতে হবে অথবা পরিবর্তন করতে হবে।

এসির গ্যাস লিকেজ সমস্যা হলেও এসির কুলিং হয় না। গ্যাস পাইবের লিকেজ খুঁজে বের করতে হবে এবং ঠিক করে আবার গ্যাসচার্জ করতে হবে। অনেক সময় ক্যাপিলারী সম্পূর্ণ জ্যাম হয়ে থাকে এক্ষেত্রে ক্যাপিলারী টিউব পরিষ্কার করতে হবে। অথবা ক্যাপিলারী পরিবর্তন করতে হবে তারপর নতুন ভাবে ভ্যাকুয়াম করে গ্যাসচার্জ করতে হবে।

এসির কম্প্রেসারের সমস্যা :

যদি এসির কম্প্রেসার পাম্প না করে তাহলে বুঝতে হবে কম্প্রেসার সমস্যা হয়েছে। ভিতরে রাউটার, মটর, কয়েল ইত্যাদির সমস্যা হতে পারে। সম্ভব হলে মেরামত করতে হবে অথবা পরিবর্তন করতে হবে। সাধারণত কম্প্রেসার সবাই মেরামত করে না কিন্তু কম্প্রেসার এখন অনেকেই মেরামত করছে। প্রযুক্তি আপডেট হলে হয়ত সবাই মেরামত করবে।

বার বার ফিউজ কেটে যায় :

অনেক সময় দেখা যায় এসির ভিতরে কোন কিছু শর্ট হয়ে গেল এসির সুইচ অন করা মাত্র সাথে সাথে ফিউজ জ্বলে যায় বা সার্কিট ব্রেকার ট্রিপ করে। সুইচ অন করার সাথে সাথে ফিউজ জ্বলে যায় বা সার্কিট ব্রেকার ট্রিপ করার কারণ গুলো হলো: এসি লাইন বা মোটরের ভেতর শর্ট সার্কিট হয়ে থাকতে পারে। ভালাভাবে পরিক্ষা করে করে মেরামত করতে হবে। প্রয়োজন হলে মোটর বদলাতে হবে। কারেন্ট প্লাগ বা সংযোগ কর্ডের মধ্যে দুই লাইন একসাথে লেগে থাকতে পারে। এমন হলে মেরামত করতে হবে অথবা এসি কর্ট পরিবর্তন করতে হবে।

ফিউজ বা সার্কিট ব্রেকার সমস্যা :

মনে রাখতে হবে কখনো নিম্নমানের ফিউজ বা সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করা যাবে না। সব সময় সঠিক মানের সঠিক অ্যাম্পিয়ার এবং উন্নত মানের ফিউজ ও সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করতে হবে। বাজারে গেলে বিভিন্ন কমা মানের ফিউজ ও সার্কিট ব্রেকার পাওযায় এসব থেকে সব সময় দূরে থাকবেন। কারণ এসির সমস্যায় একবার যদি পড়েন তাহলে পকেট থেকে অনেক টাকা ধসে যাবে।

কম্প্রেসারের ক্যাপাসিটর শর্ট :

অনেক সময় দেখা যায় কুলারের ক্যাপাসিটর শর্ট হয়ে আছে। এজন্য ক্যাপাসিটর পরিক্ষা করে নিতে হবে অথবা ক্যাপাসিটর পরিবর্তন করে দেখতে হবে। এক নজরে আপনাকে এসি মেরামত কাজের স্টেপ বলে দিলে সহজে কাজ করতে সুবিধা হবে এজন্য আপনি কি কি স্টেপে করবেন তার একটা ধারাবাহিক নমুনা নিচের নিয়মে দিয়েছি।

এসির সমস্যা বের করার নিয়ম :

প্রথমে সংযোগ পরিক্ষা করুন তারপর একের পর এক ধারাবাহিক ভাবে পরিক্ষা করে কাজ করতে থাকুন। লুজ সংযোগ থাকলে ভালো ভাবে চেক করে সংযোগ মজবুত করুন। ইভাপোরেটরে বরফ জমলে ফিল্টারের ময়লা পরিস্কার করুন ভালো ভাবে ফিল্টার পরিষ্কার করে লাগান। কুলিং কয়েলে ময়লা জমলে ভালো ভাবে পরিষ্কার করুন। গ্যাসের পরিমাণ কমে গেলে নতুন ভাবে গ্যাসচার্জ করুন। দরকার হলে চার্জিং লাইন তৈরি করে পরিমাণ মত গ্যাসচার্জ করুন।

ইনডোর এসি সার্ভিসিং

আউটডোর এসি সার্ভিসিং

পরিশেষ বিশেষ নির্দেশনা :

এতক্ষণ আমরা এসির সমস্যা সমাধান যে বিষয় গুলো জানলাম তা হয়ত অনেকেই বুঝতে পারেনি কিন্তু আমি কাজ করার যে স্টেপ গুলো বলেছি সেভাবে কাজ করুন। তাহলে এসির সমস্যা গুলো খুঁজে বের করতে অনেক সহজ হবে। আর যে বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা করলাম স্পিলিট এসি- উইন্ডো এসি প্রায় সব ধরণের এসিতে একই ভাবে কাজ করতে হয়। সুতরাং নিয়ম গুলো সিরিয়াল মেইনটেইন করে কাজ করলে সহজে কাজের সাফল্যতা পাওয়া যায়।

Leave a Reply

error: Content is protected !!